ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’য় প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য কিছু কর্মী প্রয়োজন। বিস্তারিত জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজ ভিজিট করুন, ধন্যবাদ।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক ঐক্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিবস আজ

“কল্যাণ হউক সকলের”

শেখ রিফান আহমেদ
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
  • / ৩৮০ বার পঠিত

॥ আজ শ্রমের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিতে হবে সবাইকে ॥

আজ বৃহস্পতিবার (০১ মে) মহান মে দিবস। বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম ও সংহতির প্রতীক হিসেবে ১৯৮৯ সাল থেকে এই দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে সারাদেশে। মে দিবসের চেতনায় ভর করে শ্রমিকরা ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে নানা অধিকার অর্জন করেছে, যেমন: নির্দিষ্ট শ্রমঘণ্টা, ন্যূনতম মজুরি, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, নিয়োগপত্রের নিশ্চয়তা ইত্যাদি। উন্নত দেশগুলোতে শ্রমিকদের জীবনমান ও কাজের পরিবেশ এখন অনেক উন্নত হলেও অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমিক শ্রেণী নানামুখী বঞ্চনার শিকার ইতোপূর্বে হয়েছেন, আজও হচ্ছেন।

 

মূলত ১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের একটি মার্কেটের শ্রমিকদের আন্দোলন থেকে শুরু হয় শ্রমিকদের এই দাবি আদায়ের আন্দোলন। শ্রমিকের ওপর শোষক শ্রেণীর নির্যাতন যখন সকল মাত্রা অতিক্রম করে তখন বাধ্য হয়ে নিজেদের দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা। এরই সাথে শোষক শ্রেণীর নির্যাতনের মাত্রাও যায় বেড়ে, তবে দমে যায়নি শ্রমিকরা। অনেক রক্তঝরা সংগ্রামের ফলেই প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রমিকের দৈনিক আট ঘণ্টা শ্রমের অধিকার। আর ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক ঐক্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছে, ইতিহাস কেউ জানুক বা না জানুক, বিশ্বের অনেক দেশে আজও এই দিনে নির্দিষ্ট কিছু শ্লোগান ও পূর্ব নির্ধারিত সভা সমাবেশের মধ্যেই পালিত হয়ে থাকে এই মহান মে দিবসটি। বাংলাদেশের বাস্তবতাও এর ব্যতিক্রম নয়। সারাবছর শ্রমিক নামক শ্রেণীকে নির্যাতনের পর নির্যাতন করে, তার অধিকার হরণ করে, তার শ্রমের মর্যাদা পদদলিত করে চলে। আবার ঐ শ্রেণীর কর্তা ব্যক্তিরাই আজকের মহান মে দিবসে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে শ্লোগান দেয়, দেওয়ালে পোস্টার-ব্যানার লাগায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করে- ‘দূর হউক নির্যাতন’, ‘প্রতিষ্ঠা পাক শ্রমের মর্যাদা’, ‘সফল হউক মহান মে দিবস’ ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

সংবিধানে শ্রমিকদের অধিকার স্বীকৃত হলেও বাস্তবে তা নিশ্চিত করা এখনো চ্যালেঞ্জস্বরূপ। অনেক শিল্পকারখানায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) নির্ধারিত শ্রমঘণ্টা মানা হয় না। শ্রমিকরা অনেক সময় ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হন এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন। প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ড, ভবনধসের মর্মান্তিক ঘটনা শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি স্পষ্ট করে দেয়। মে দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য হলো শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। আদতে কি শ্রমের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুটি কয়েক বাদে আমি বা আপনি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছি? তাদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে কোন পদক্ষেপ নিয়েছি কি? কয়জন দাঁড়িয়েছি এইসব নির্যাতিত শ্রমিকের পাশে? কখনো কি চিন্তা করেছি, কিভাবে তাদের ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়?

 

পরিশেষে, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ‘শ্রমিকরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি’- এই উপলব্ধি থেকেই সম্মান ও দায়িত্ববোধসহ যেন দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানাই আমরা। সেই সঙ্গে আসুন, আমরা সকলে মিলে অঙ্গীকার করি, শ্রমিকের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করবো। আবারও সবাই এক সাথে বলি, “কল্যাণ হউক সকলের”।

– লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

প্রবন্ধ কলাম

আন্তর্জাতিক শ্রমিক ঐক্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিবস আজ

“কল্যাণ হউক সকলের”

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

॥ আজ শ্রমের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিতে হবে সবাইকে ॥

আজ বৃহস্পতিবার (০১ মে) মহান মে দিবস। বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম ও সংহতির প্রতীক হিসেবে ১৯৮৯ সাল থেকে এই দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে সারাদেশে। মে দিবসের চেতনায় ভর করে শ্রমিকরা ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে নানা অধিকার অর্জন করেছে, যেমন: নির্দিষ্ট শ্রমঘণ্টা, ন্যূনতম মজুরি, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, নিয়োগপত্রের নিশ্চয়তা ইত্যাদি। উন্নত দেশগুলোতে শ্রমিকদের জীবনমান ও কাজের পরিবেশ এখন অনেক উন্নত হলেও অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমিক শ্রেণী নানামুখী বঞ্চনার শিকার ইতোপূর্বে হয়েছেন, আজও হচ্ছেন।

 

মূলত ১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের একটি মার্কেটের শ্রমিকদের আন্দোলন থেকে শুরু হয় শ্রমিকদের এই দাবি আদায়ের আন্দোলন। শ্রমিকের ওপর শোষক শ্রেণীর নির্যাতন যখন সকল মাত্রা অতিক্রম করে তখন বাধ্য হয়ে নিজেদের দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা। এরই সাথে শোষক শ্রেণীর নির্যাতনের মাত্রাও যায় বেড়ে, তবে দমে যায়নি শ্রমিকরা। অনেক রক্তঝরা সংগ্রামের ফলেই প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রমিকের দৈনিক আট ঘণ্টা শ্রমের অধিকার। আর ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক ঐক্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছে, ইতিহাস কেউ জানুক বা না জানুক, বিশ্বের অনেক দেশে আজও এই দিনে নির্দিষ্ট কিছু শ্লোগান ও পূর্ব নির্ধারিত সভা সমাবেশের মধ্যেই পালিত হয়ে থাকে এই মহান মে দিবসটি। বাংলাদেশের বাস্তবতাও এর ব্যতিক্রম নয়। সারাবছর শ্রমিক নামক শ্রেণীকে নির্যাতনের পর নির্যাতন করে, তার অধিকার হরণ করে, তার শ্রমের মর্যাদা পদদলিত করে চলে। আবার ঐ শ্রেণীর কর্তা ব্যক্তিরাই আজকের মহান মে দিবসে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে শ্লোগান দেয়, দেওয়ালে পোস্টার-ব্যানার লাগায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করে- ‘দূর হউক নির্যাতন’, ‘প্রতিষ্ঠা পাক শ্রমের মর্যাদা’, ‘সফল হউক মহান মে দিবস’ ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

সংবিধানে শ্রমিকদের অধিকার স্বীকৃত হলেও বাস্তবে তা নিশ্চিত করা এখনো চ্যালেঞ্জস্বরূপ। অনেক শিল্পকারখানায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) নির্ধারিত শ্রমঘণ্টা মানা হয় না। শ্রমিকরা অনেক সময় ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হন এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন। প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ড, ভবনধসের মর্মান্তিক ঘটনা শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি স্পষ্ট করে দেয়। মে দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য হলো শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। আদতে কি শ্রমের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুটি কয়েক বাদে আমি বা আপনি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছি? তাদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে কোন পদক্ষেপ নিয়েছি কি? কয়জন দাঁড়িয়েছি এইসব নির্যাতিত শ্রমিকের পাশে? কখনো কি চিন্তা করেছি, কিভাবে তাদের ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়?

 

পরিশেষে, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ‘শ্রমিকরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি’- এই উপলব্ধি থেকেই সম্মান ও দায়িত্ববোধসহ যেন দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানাই আমরা। সেই সঙ্গে আসুন, আমরা সকলে মিলে অঙ্গীকার করি, শ্রমিকের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করবো। আবারও সবাই এক সাথে বলি, “কল্যাণ হউক সকলের”।

– লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা