ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’য় প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য কিছু কর্মী প্রয়োজন। বিস্তারিত জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজ ভিজিট করুন, ধন্যবাদ।

ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকায় নির্বাচন হলে জন্ম নেবে নানা বিতর্ক 

মাহফুজুর রহমান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:০০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৩১৬ বার পঠিত

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা বলা হয়েছে- ১২ কোটি ৬১ লক্ষ ৭০হাজার ৯০০ জন। মৃত্যু জনিত ও বিভিন্ন কারণে নাম কর্তন করা হয়েছে ২১লক্ষ ৩২হাজার ৫৯০ জন ।  নুতন অন্তর্ভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ২৪লক্ষ ৩৮হাজার ৬২৬ জন। যাহা ঘোষণা করেন, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়ার সচিব আক্তার আহমদ। সংশোধনী করা যাবে ২১ অগস্ট তারিখের মধ্যে  উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে।

কিন্তু, কমপক্ষে ২৫ বছর পূর্ব হতে যে সমস্ত ব্যক্তিগণ স্ব-পরিবারে ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, তাদের নামও ভোটার তালিকায় বহাল  আছে। বিগত হাসিনা সরকার তাদের নাম কর্তন করেননি। বিশেষ করে বিগত সরকারের সময় ভারতীয় হাই কমিশন ৬মাস থেকে ১ বছর মেয়াদী ভিসা পদ্ধতি চালু থাকার সুযোগে ভারতে দীর্ঘ সময় উপস্থিত  থেকে  বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বাড়িঘর নির্মাণ, সম্পত্তি ক্রয করার অবাধ সুযোগ পেয়েছে অনেকে। আর ৬৫ বছর বয়সের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিদের এককালীন ৫ বছরের ভিসা দেওয়া হয়েছে। ভারতে পাড়ি জমানো ব্যক্তিদের তালিকায় ধনীক শ্রেণি এবং কাজ সন্ধানী দরিদ্র শ্রেণি। তারা শ্রমিকের কাজ করতে করতে সেখানে পরিবার নিয়ে  স্থায়ী হয়েছে। এ ধরনের বিপুল পরিমাণ ভোটারের নাম কর্তন না করার কারণ ছিল, নির্বাচনের সময়  বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করা। এজন্য ভারত সরকারের বিভিন্ন মহল  থেকেও  তাদের উপর চাপ দেওয়া হতো, যাতে তারা বাংলাদেশে এসে ভোট দিয়ে ফিরে যেতে পারে। অবাধে সীমান্ত পারাপারেও থাকতো উভয় দেশের  সরকারি বাহিনীগুলির সক্রিয়  সহযোগিতা।

আগামী সংসদ  নির্বাচনে দলীয়ভাবে নির্বাচন না করতে পারলেও আওয়ামীপন্থী  স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জিতানোর ব্যাপারে এই সমস্ত বিতর্কিত ভোটাররা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাছাড়া ভোটার এলাকার মোট ভোটারের মধ্যে কাস্টিং ভোট বা প্রদত্ত ভোটার উপস্থিতির শতকরা হার তখন কম হিসেবে কাউন্ট হবে। যা উপস্থিতির হার কম হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। ২১ অগম্ট পর্যন্ত সংশোধনীর কেবলমাত্র  ব্যক্তি পর্যায়ের সংশোধনী সুযোগ থাটছে। কিন্তু, বিপুল পরিমাণ ভোটার সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ দেওয়ার কোন সুযোগ থাকছে না। সুতরাং বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে  নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বিতর্কমুক্ত স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়নে এখনই বাদযোগ্য ভোটারদের ভোটার তালিকা হতে জরুরী ভিত্তিতে নাম কর্তন করা প্রয়োজন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

প্রবন্ধ কলাম

ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকায় নির্বাচন হলে জন্ম নেবে নানা বিতর্ক 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:০০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা বলা হয়েছে- ১২ কোটি ৬১ লক্ষ ৭০হাজার ৯০০ জন। মৃত্যু জনিত ও বিভিন্ন কারণে নাম কর্তন করা হয়েছে ২১লক্ষ ৩২হাজার ৫৯০ জন ।  নুতন অন্তর্ভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ২৪লক্ষ ৩৮হাজার ৬২৬ জন। যাহা ঘোষণা করেন, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়ার সচিব আক্তার আহমদ। সংশোধনী করা যাবে ২১ অগস্ট তারিখের মধ্যে  উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে।

কিন্তু, কমপক্ষে ২৫ বছর পূর্ব হতে যে সমস্ত ব্যক্তিগণ স্ব-পরিবারে ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, তাদের নামও ভোটার তালিকায় বহাল  আছে। বিগত হাসিনা সরকার তাদের নাম কর্তন করেননি। বিশেষ করে বিগত সরকারের সময় ভারতীয় হাই কমিশন ৬মাস থেকে ১ বছর মেয়াদী ভিসা পদ্ধতি চালু থাকার সুযোগে ভারতে দীর্ঘ সময় উপস্থিত  থেকে  বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বাড়িঘর নির্মাণ, সম্পত্তি ক্রয করার অবাধ সুযোগ পেয়েছে অনেকে। আর ৬৫ বছর বয়সের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিদের এককালীন ৫ বছরের ভিসা দেওয়া হয়েছে। ভারতে পাড়ি জমানো ব্যক্তিদের তালিকায় ধনীক শ্রেণি এবং কাজ সন্ধানী দরিদ্র শ্রেণি। তারা শ্রমিকের কাজ করতে করতে সেখানে পরিবার নিয়ে  স্থায়ী হয়েছে। এ ধরনের বিপুল পরিমাণ ভোটারের নাম কর্তন না করার কারণ ছিল, নির্বাচনের সময়  বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করা। এজন্য ভারত সরকারের বিভিন্ন মহল  থেকেও  তাদের উপর চাপ দেওয়া হতো, যাতে তারা বাংলাদেশে এসে ভোট দিয়ে ফিরে যেতে পারে। অবাধে সীমান্ত পারাপারেও থাকতো উভয় দেশের  সরকারি বাহিনীগুলির সক্রিয়  সহযোগিতা।

আগামী সংসদ  নির্বাচনে দলীয়ভাবে নির্বাচন না করতে পারলেও আওয়ামীপন্থী  স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জিতানোর ব্যাপারে এই সমস্ত বিতর্কিত ভোটাররা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাছাড়া ভোটার এলাকার মোট ভোটারের মধ্যে কাস্টিং ভোট বা প্রদত্ত ভোটার উপস্থিতির শতকরা হার তখন কম হিসেবে কাউন্ট হবে। যা উপস্থিতির হার কম হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। ২১ অগম্ট পর্যন্ত সংশোধনীর কেবলমাত্র  ব্যক্তি পর্যায়ের সংশোধনী সুযোগ থাটছে। কিন্তু, বিপুল পরিমাণ ভোটার সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ দেওয়ার কোন সুযোগ থাকছে না। সুতরাং বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে  নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বিতর্কমুক্ত স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়নে এখনই বাদযোগ্য ভোটারদের ভোটার তালিকা হতে জরুরী ভিত্তিতে নাম কর্তন করা প্রয়োজন।