ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’য় প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য কিছু কর্মী প্রয়োজন। বিস্তারিত জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজ ভিজিট করুন, ধন্যবাদ।

দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দকে মিথ্য মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার :
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:১১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২৩ বার পঠিত

কথায় বলে-একে তো চুরি-তার উপর শিনাজুড়ি। জামালপুরেও ঘটছে তাই। হতাশ সুধী মহল। এ ঘটনায় জামালপুর শহর জুড়ে বইছে নিন্দার ঝড়।
জানা গেছে, স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে জামালপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে রামরাজত্ব কায়েম করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, সরকারি রাজস্ব লুট, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক বনে যাওয়া জামালপুর সদর উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জাহিদুল হক সেলিম ওরফে সেলিম মেম্বারের অবৈধ ক্ষমতার রাজত্ব তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ে গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর। সেসময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও শুধুমাত্র পাথালিয়া বাড়ি বলে সাহসে ভর করে আবারও আশায় বুক বেঁধে সেলিমের সেরেস্তায় একদা চা এনে দেওয়া কর্মচারী নওশাদ পিয়ন ওরফে রাশেদুল হাসান নওশাদকে ক্যাডার সাজিয়ে আওয়ামী লীগের অবৈধ টাকা আর পাথালিয়ার সন্ত্রাসী দাপটে মেলান্দহ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের জামালীকে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বানানোর টোপ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পিছনের রাস্তা দিয়ে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের চোখে ধুলো দিয়ে আওয়ামী দোসর জামালপুর সদর উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জাহিদুল হক সেলিম ওরফে সেলিম মেম্বার জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতির পদ বাগিয়ে আনে। পদ বাগিয়ে এনেই সে বেয়াদব পিয়ন নওশাদের নেতৃত্বে পাথালিয়ার কতিপয় পেটোয়া বাহিনী দিয়ে জামালপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে পুরো রাম রাজত্ব কায়েম করে ফেলে। সে সময় প্রকাশ্যে দলিল প্রতি সিরিয়ালের জন্য ১ হাজার করে টাকা চাঁদা নেয় সেলিম-নওশাদ বাহিনী। এনিয়ে জামালপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সাধারণ দলিল লেখকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও কানাঘুষা চলতে থাকে। তারা প্রকাশ্যে বলাবলি করে, কি করে একজন স্বৈরাচারের প্রত্যক্ষ দোসর জামালপুর সদর উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জাহিদুল হক সেলিম ওরফে সেলিম মেম্বার বৈষম্যবিরোধী চেতনার বাংলাদেশে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা পদের দায়িত্ব হাতিয়ে নেয়। এ নিয়ে জামালপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সাধারণ দলিল লেখকরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দকে এ বিষয়ে খতিয়ে দেখতে আকুল আবেদন ও দায়িত্ব অর্পণ করে। যার প্রেক্ষিতে সাধারণ দলিল লেখকদের দাবীর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রিয় কমিটিকে জাহিদুল হক সেলিমের অসাংগঠনিক কর্মকান্ডের বিষয়ে অবগত করলে তারা এ বিষয়ে নানা প্রকার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে খোঁজ-খবর নিয়ে সেলিমের কমিটির সকল ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করে অফিসিয়াল পত্র প্রেরণ করেন। সেই থেকে জাহিদুল হক সেলিমের মাথা নষ্ট হয়ে যায়। সে একের পর এক চক্রান্তের জাল বিছাতে থাকে। জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও কাজ না হলে সেলিম কেন্দ্রিয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে মামলা-মোকদ্দমার হুমকিও দিতে থাকে। এদিকে তার হামলা-মামলার হুমকিকে তোয়াক্কা না করে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দের নেতৃত্বে গত ১১ অক্টোবর ২০২৫ইং শনিবার দিনব্যাপী সারা জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে একযোগে প্রায় চার শতাধিক সাধারণ দলিল লেখকদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমূখর পরিবেশে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির ঐতিহাসিক সমাবেশের আয়োজন করা হয় জামালপুর শহরের লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্কে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন, জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহ্ মোঃ ওয়ারেছ আলী মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সজীব খানসহ অনেকে। সে সমাবেশে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত জেলার সকল উপজেলার দলিল লেখকদের সর্বসম্মতিতে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দকে সভাপতি ও হানিফ উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮১সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করেন। সেই সাথে পূর্বের সকল কমিটিকে বাতিল ঘোষণা করেন।
তারপর স্থায়ীভাবে অবৈধ গদি হারিয়ে ফেলে জাহিদুল হক সেলিম ওরফে সেলিম মেম্বার ও তার চ্যালা নওশাদসহ অন্যান্য চামুন্ডারা নানাভাবে নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে ভয়ভীতি দেখানো শুরু করে। তারপরও কাজ না হলে তারা সংঘবদ্ধভাবে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে বিশাল অঙ্কোর চাঁদা দাবী করে। বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যা বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এদিকে কাকতালীয়ভাবে গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখ মঙ্গলবার রাতে জামালপুর জেলা মডেল মসজিদের সামনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয় রাশেদুল হাসান নওশাদ। মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় নওশাদকে রিকশায় করে স্থানীয় এক চা বিক্রেতা জামালপুর জেনালের হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। এঘটনায় তাৎক্ষণিক দুঃখ প্রকাশ করেন জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে শত হুমকি-ধামকিসহ নানামুখী ষড়যন্ত্র যখন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যায়। তখন নওশাদের সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনাটি ধূর্ত শেয়াল, আওয়ামী দোসর, জামালপুর সদর উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জাহিদুল হক সেলিম ওরফে সেলিম মেম্বারের মাথায় কুটবুদ্ধির জন্ম দেয়। সে ঘটনার পাঁচদিন পর ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি কাল্পনিক ঘটনার অবতারণা করে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দকে হুকুমের প্রধান আসামী করে জামালপুর সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মওদুদ আহাম্মেদ মধু. সাধারণ সম্পাদক মোহন আকন্দসহ অন্যান্য আরও চার দলিল লেখক নেতৃবৃন্দকে আসামী সাজিয়ে বিজ্ঞ মামলা আমলে নেওয়ার সদর আদালত, জামালপুরে সিআর মামলা নং-২২৯৬(১)২০২৫ইং দায়ের করে। যেখানে যে চা বিক্রেতা তাকে দুর্ঘটনায় আহতাবস্থায় মাটি থেকে তুলে হাসপাতালে ভর্তি করে সে সাংবাদিকদের কাছে দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার পরও আশ্চর্যের বিষয় হলো দুর্ঘটনার কথা অস্বীকার করে মিথ্যা মামলায় সাজানো হামলার ঘটনাস্থল হিসেবে দেখানো হয় জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনের রাস্তাকে। অথচ জেলা পরিষদ মার্কেটের কোন অস্তিত্বই জামালপুরে নেই। আরও আশ্বর্য্যরে বিষয় মামলা দিয়েও আশ্বস্থ হতে না পেরে সেলিম জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব, জামালপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জামালপুর সিটি প্রেস ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা, দৈনিক জামালপুর দিনকাল ও সাপ্তাহিক ঊর্মিবাংলা পত্রিকার প্রকাশক, দেওয়ানপাড়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক, এপেক্সিয়ান, আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানী ও গতকাল ৩ ডিসেম্বর তাকে সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভাড়াটে ছিন্নমূল মানুষদের মাধ্যমে মানববন্ধনের আয়োজন করায়। রীতিমতো বিষ্মিত ও চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকল মহল।
জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির ক্ষমতাকে বাগিয়ে নিতে না পেরে পাগলপ্রায় আওয়ামী লীগের দোসর কুচক্রী জামালপুর সদর উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জাহিদুল হক সেলিম ওরফে সেলিম মেম্বারের চক্রান্তের দ্বারা নিছক একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত নওশাদকে বলির পাঠা বানিয়ে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলাসহ সত্যকে ধামাচাপা দিতে চলছে নানা ধরনের আয়োজন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশটা যেন একটা মগের মুল্লুক। অচীরেই এই চক্রান্তের সমূলে বিনাশ হতে যাচ্ছে। এই চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্রকে মিথ্যা প্রমাণ করতে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ হাতে থাকা স্বত্তেও সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধারণের পরিচয় বহনের আহ্বান জানিয়েছেন জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব, জামালপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জামালপুর সিটি প্রেস ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা, দৈনিক জামালপুর দিনকাল ও সাপ্তাহিক ঊর্মিবাংলা পত্রিকার প্রকাশক, দেওয়ানপাড়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক, এপেক্সিয়ান, আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দ। তিনি বলেন চক্রান্তকারীদের কাজই হচ্ছে চক্রান্ত করা। কিন্তু দিনশেষে সত্যেরই জয় হবে ইনশাআল্লাহ। আমার নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াও বাংলাদেশের মানুষের জন্য কথা বলতে গিয়ে নানা ধরণের মিথ্যা মামলার আসামী হয়েছেন। জেল খেটেছেন। তবু মিথ্যার কাছে মাথা নত করেননি। আমিও কোন ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবো না। অন্যায়ের সাথে আপোষ করবো না। আমি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা কবিতার একটি পংক্তির কথাই সকলকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- ‘অসত্যের কাছে কভূ নত নাহি হবে শীর-ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ-লড়ে যায় বীর।’

প্রতিবেদক বা একই এলাকার আরও খবর পড়ুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দকে মিথ্য মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:১১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

কথায় বলে-একে তো চুরি-তার উপর শিনাজুড়ি। জামালপুরেও ঘটছে তাই। হতাশ সুধী মহল। এ ঘটনায় জামালপুর শহর জুড়ে বইছে নিন্দার ঝড়।
জানা গেছে, স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে জামালপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে রামরাজত্ব কায়েম করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, সরকারি রাজস্ব লুট, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক বনে যাওয়া জামালপুর সদর উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জাহিদুল হক সেলিম ওরফে সেলিম মেম্বারের অবৈধ ক্ষমতার রাজত্ব তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ে গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর। সেসময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও শুধুমাত্র পাথালিয়া বাড়ি বলে সাহসে ভর করে আবারও আশায় বুক বেঁধে সেলিমের সেরেস্তায় একদা চা এনে দেওয়া কর্মচারী নওশাদ পিয়ন ওরফে রাশেদুল হাসান নওশাদকে ক্যাডার সাজিয়ে আওয়ামী লীগের অবৈধ টাকা আর পাথালিয়ার সন্ত্রাসী দাপটে মেলান্দহ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের জামালীকে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বানানোর টোপ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পিছনের রাস্তা দিয়ে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের চোখে ধুলো দিয়ে আওয়ামী দোসর জামালপুর সদর উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জাহিদুল হক সেলিম ওরফে সেলিম মেম্বার জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতির পদ বাগিয়ে আনে। পদ বাগিয়ে এনেই সে বেয়াদব পিয়ন নওশাদের নেতৃত্বে পাথালিয়ার কতিপয় পেটোয়া বাহিনী দিয়ে জামালপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে পুরো রাম রাজত্ব কায়েম করে ফেলে। সে সময় প্রকাশ্যে দলিল প্রতি সিরিয়ালের জন্য ১ হাজার করে টাকা চাঁদা নেয় সেলিম-নওশাদ বাহিনী। এনিয়ে জামালপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সাধারণ দলিল লেখকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও কানাঘুষা চলতে থাকে। তারা প্রকাশ্যে বলাবলি করে, কি করে একজন স্বৈরাচারের প্রত্যক্ষ দোসর জামালপুর সদর উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জাহিদুল হক সেলিম ওরফে সেলিম মেম্বার বৈষম্যবিরোধী চেতনার বাংলাদেশে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা পদের দায়িত্ব হাতিয়ে নেয়। এ নিয়ে জামালপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সাধারণ দলিল লেখকরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দকে এ বিষয়ে খতিয়ে দেখতে আকুল আবেদন ও দায়িত্ব অর্পণ করে। যার প্রেক্ষিতে সাধারণ দলিল লেখকদের দাবীর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রিয় কমিটিকে জাহিদুল হক সেলিমের অসাংগঠনিক কর্মকান্ডের বিষয়ে অবগত করলে তারা এ বিষয়ে নানা প্রকার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে খোঁজ-খবর নিয়ে সেলিমের কমিটির সকল ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করে অফিসিয়াল পত্র প্রেরণ করেন। সেই থেকে জাহিদুল হক সেলিমের মাথা নষ্ট হয়ে যায়। সে একের পর এক চক্রান্তের জাল বিছাতে থাকে। জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও কাজ না হলে সেলিম কেন্দ্রিয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে মামলা-মোকদ্দমার হুমকিও দিতে থাকে। এদিকে তার হামলা-মামলার হুমকিকে তোয়াক্কা না করে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দের নেতৃত্বে গত ১১ অক্টোবর ২০২৫ইং শনিবার দিনব্যাপী সারা জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে একযোগে প্রায় চার শতাধিক সাধারণ দলিল লেখকদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমূখর পরিবেশে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির ঐতিহাসিক সমাবেশের আয়োজন করা হয় জামালপুর শহরের লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্কে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন, জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহ্ মোঃ ওয়ারেছ আলী মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সজীব খানসহ অনেকে। সে সমাবেশে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত জেলার সকল উপজেলার দলিল লেখকদের সর্বসম্মতিতে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দকে সভাপতি ও হানিফ উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮১সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করেন। সেই সাথে পূর্বের সকল কমিটিকে বাতিল ঘোষণা করেন।
তারপর স্থায়ীভাবে অবৈধ গদি হারিয়ে ফেলে জাহিদুল হক সেলিম ওরফে সেলিম মেম্বার ও তার চ্যালা নওশাদসহ অন্যান্য চামুন্ডারা নানাভাবে নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে ভয়ভীতি দেখানো শুরু করে। তারপরও কাজ না হলে তারা সংঘবদ্ধভাবে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে বিশাল অঙ্কোর চাঁদা দাবী করে। বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যা বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এদিকে কাকতালীয়ভাবে গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখ মঙ্গলবার রাতে জামালপুর জেলা মডেল মসজিদের সামনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয় রাশেদুল হাসান নওশাদ। মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় নওশাদকে রিকশায় করে স্থানীয় এক চা বিক্রেতা জামালপুর জেনালের হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। এঘটনায় তাৎক্ষণিক দুঃখ প্রকাশ করেন জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে শত হুমকি-ধামকিসহ নানামুখী ষড়যন্ত্র যখন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যায়। তখন নওশাদের সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনাটি ধূর্ত শেয়াল, আওয়ামী দোসর, জামালপুর সদর উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জাহিদুল হক সেলিম ওরফে সেলিম মেম্বারের মাথায় কুটবুদ্ধির জন্ম দেয়। সে ঘটনার পাঁচদিন পর ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি কাল্পনিক ঘটনার অবতারণা করে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দকে হুকুমের প্রধান আসামী করে জামালপুর সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মওদুদ আহাম্মেদ মধু. সাধারণ সম্পাদক মোহন আকন্দসহ অন্যান্য আরও চার দলিল লেখক নেতৃবৃন্দকে আসামী সাজিয়ে বিজ্ঞ মামলা আমলে নেওয়ার সদর আদালত, জামালপুরে সিআর মামলা নং-২২৯৬(১)২০২৫ইং দায়ের করে। যেখানে যে চা বিক্রেতা তাকে দুর্ঘটনায় আহতাবস্থায় মাটি থেকে তুলে হাসপাতালে ভর্তি করে সে সাংবাদিকদের কাছে দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার পরও আশ্চর্যের বিষয় হলো দুর্ঘটনার কথা অস্বীকার করে মিথ্যা মামলায় সাজানো হামলার ঘটনাস্থল হিসেবে দেখানো হয় জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনের রাস্তাকে। অথচ জেলা পরিষদ মার্কেটের কোন অস্তিত্বই জামালপুরে নেই। আরও আশ্বর্য্যরে বিষয় মামলা দিয়েও আশ্বস্থ হতে না পেরে সেলিম জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব, জামালপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জামালপুর সিটি প্রেস ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা, দৈনিক জামালপুর দিনকাল ও সাপ্তাহিক ঊর্মিবাংলা পত্রিকার প্রকাশক, দেওয়ানপাড়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক, এপেক্সিয়ান, আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানী ও গতকাল ৩ ডিসেম্বর তাকে সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভাড়াটে ছিন্নমূল মানুষদের মাধ্যমে মানববন্ধনের আয়োজন করায়। রীতিমতো বিষ্মিত ও চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকল মহল।
জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির ক্ষমতাকে বাগিয়ে নিতে না পেরে পাগলপ্রায় আওয়ামী লীগের দোসর কুচক্রী জামালপুর সদর উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জাহিদুল হক সেলিম ওরফে সেলিম মেম্বারের চক্রান্তের দ্বারা নিছক একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত নওশাদকে বলির পাঠা বানিয়ে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলাসহ সত্যকে ধামাচাপা দিতে চলছে নানা ধরনের আয়োজন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশটা যেন একটা মগের মুল্লুক। অচীরেই এই চক্রান্তের সমূলে বিনাশ হতে যাচ্ছে। এই চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্রকে মিথ্যা প্রমাণ করতে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ হাতে থাকা স্বত্তেও সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধারণের পরিচয় বহনের আহ্বান জানিয়েছেন জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব, জামালপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জামালপুর সিটি প্রেস ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা, দৈনিক জামালপুর দিনকাল ও সাপ্তাহিক ঊর্মিবাংলা পত্রিকার প্রকাশক, দেওয়ানপাড়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক, এপেক্সিয়ান, আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দ। তিনি বলেন চক্রান্তকারীদের কাজই হচ্ছে চক্রান্ত করা। কিন্তু দিনশেষে সত্যেরই জয় হবে ইনশাআল্লাহ। আমার নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াও বাংলাদেশের মানুষের জন্য কথা বলতে গিয়ে নানা ধরণের মিথ্যা মামলার আসামী হয়েছেন। জেল খেটেছেন। তবু মিথ্যার কাছে মাথা নত করেননি। আমিও কোন ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবো না। অন্যায়ের সাথে আপোষ করবো না। আমি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা কবিতার একটি পংক্তির কথাই সকলকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- ‘অসত্যের কাছে কভূ নত নাহি হবে শীর-ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ-লড়ে যায় বীর।’