পিরোজপুর-১ আসনে ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেনকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় স্থানীয়রা

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৫০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
- / ২০৭ বার পঠিত

পিরোজপুর অফিস ::
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানী) আসনে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, মেজর (অবঃ) ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ পর্যন্ত অনেকেই মনে করেছেন-তৃণমূলে জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ক্লিন ইমেজের কারণে তিনি হতে পারেন এই আসনের একজন যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী। টিভি টকশো ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাসী থেকে মাঠে রাজনীতি করে আসছেন। তিনি একসময় পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বেও ছিলেন। পিরোজপুর জেলায় সবচেয়ে নির্যাতিত ব্যারিস্টার সরোয়ার জেল খেটেছেন ৬ মাস, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল ১০টি। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে ′′দুঃসময়ে যখন রাজপথ শূন্য, তখনও ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন জনগণের পাশে ছিলেন। দলীয় কর্মকান্ড, মানবিক উদ্যোগ এবং সংঘর্ষপীড়িত এলাকায় তার সরব উপস্থিতি তাকে মানুষের কাছে আলাদা করে চিনিয়েছে। ২০১১ সনে জেলার নাজিরপুরের পেনাখালী-ঝনঝনিয়া ট্রাজেডির সময়ও তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন একাধিকবার, দাঁড়িয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে। আইনী সহযোগিতা প্রদান করেছেন ১৩ জন সাংবাদিকসহ সকলকে। পিরোজপুরের মানুষের কাছ তিনি কোন ফি নেন না। স্থানীয়রা মনে করেন, ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন একজন জনপ্রিয় নেতা হলেও, তিনি সবসময় একজন কর্মীর মতো কাজ করেছেন। নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ, নেতাকর্মীদের পাশে থেকে উৎসাহ দেওয়া এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা তাঁকে পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। তবে বিএনপি যদি জোটবদ্ধ নির্বাচনে আসে সে ক্ষেত্রে পাল্টে যেতে পারে পিরোজপুর-১ আসনের চালচিত্র। এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিরোজপুর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী কখনোই জয়ী হয়নি। এমতাবস্থায় অনেকে মনে করছেন, যোগ্য, জনপ্রিয় ও পরিশ্রমী নেতাকে পিরোজপুর-১ আসন বিজয়ী করা সম্ভব হবে। তাই এই মুহুূর্তে সার্বিক দিক বিবেচনা করে দলের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেজর (অবঃ) ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেনের মতো ত্যাগী ও একজন ক্লীন ইমেজের রাজনীতিবিদের প্রয়োজন। তাদের মতে, ক্লিন ইমেজ এবং তৃণমূলের সাথে সবসময় যোগাযোগ রেখে চলছেন তিনি। নাজিরপুর-ঝনঝনিয়া সেই ট্রাজেডির সময় ছুটে যাওয়া এবং মরহুম সাবেক পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ডি লিয়াকত আলী শেখ বাদশা ভাই এর পথ ধরে চলছেন এবং নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা আর নেতাকর্মীদের সমর্থনে শক্ত অবস্থান গড়েছেন এলাকার মেয়ে জামাই ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন। তারই ধারাবাহিকতায় পিরোজপুর-১ আসনে সাধারণ জনগণ সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায়। মেজর (অবঃ) ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, দলে যোগ্য দক্ষ ও সৎ নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। আওয়ামী লীগের বি টিম খ্যাত অযোগ্য, চাঁদাবাজ, এমনকি মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে পিরোজপুর বিএনপির নেতৃত্বে যা সাধারণ মানুষ এটা ভালোভাবে দেখছে না। খবরে প্রকাশিত হয়েছে যে, পিরোজপুর জেলা বিএনপি বর্তমানে আওয়ামী লীগের পুর্নবাসন কেন্দ্রে পরিনীত হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, ২০১০ সালে ১২ ই মে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে নীপিড়ীত ও নির্যাতিত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষা ও পেশাদারিত্ব: ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশায় নিয়োজিত। পাশাপাশি তিনি পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা, আইন এবং প্রশাসনিক নানা বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা তাকে একজন দক্ষ ও প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে পরিণত করেছে। সামাজিক ও জনকল্যানমূলক কর্মকান্ডে তিনি শুধু রাজনীতি নয়, বরং সমাজসেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। পিরোজপুর ′সুশাসন সুরক্ষা পরিষদ’ এর ব্যানারে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে জনমত গঠনে কার্যকর ভুমিকা রেখে চলছেন। জাতীয়ভাবে তিনি জনস্বার্থে অনেক রিট দায়ের করেছেন, শতাধিক শীর্ষ দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। যার মধ্যে রয়েছেন: আওয়ামী পতিত সরকারের ৬০ জন মন্ত্রী ও এমপি। হাই কোর্টে রিট করেছেন পলাতক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহমেদ এর দূর্নীতির বিরুদ্ধে। ১৫ লক্ষ অবৈধ ভারতীয় নাগরিক যারা এদেশে অবৈধভাবে চাকুরীর বাজার দখল করে রেখেছিল তাদের সহ অবৈধ বিদেশীদেরকে বিতারনের উদ্দেশ্যে ২০২২ সালে শুরু করেন ′অবৈধ বিদেশী খেদাও আন্দোলন’। পিরোজপুর-১ আসনে গত ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত হয়েছিলেন তিনি। সামরিক বাহিনীর অফিসার হওয়ায় ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ জেলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বেগম জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বও পালন করেছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মেজর (অবঃ) ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন বলেন, ′′আমি সবসময় বিশ্বাস করি গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগনের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় লড়াই থাকাটা একটি আদর্শিক দায়িত্ব। এই বিশ্বাস থেকেই রাজনীতি করি এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুুতি নিচ্ছি। যদি নির্বাচিত হই, তবে উন্নয়ন হবে বৈষম্যহীন, কৃষক, যুবসমাজ এবং অবহেলিত জনগনের উন্নয়নকে প্রধান্য দেব”। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি গ্রহণযোগ্য ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা। দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমরা মাঠে নামতে প্রস্তুুত।” স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মতে, দল যদি সঠিকভাবে জনপ্রিয়তা ও কার্যক্ষমতা বিবেচনা করে মনোনয়ন দেয়, তাহলে ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন পিরোজপুর-১ আসনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারেন। তাঁর মতো একজন শিক্ষা-দীক্ষায় সমৃদ্ধ, অভিজ্ঞ এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনৈতিক নেতা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সময়ের দাবি।































