ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’য় প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য কিছু কর্মী প্রয়োজন। বিস্তারিত জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজ ভিজিট করুন, ধন্যবাদ।
মায়ের স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত হাসনাত আব্দুল্লাহ !

এম.জে.এ মামুন:
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৯৯ বার পঠিত

কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এনসিপি দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ আজ সারাদিনের টানা গণসংযোগ শেষে গভীর রাতে নিজের ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি অনন্য, আবেগে ভরা দীর্ঘ স্ট্যাটাস প্রকাশ করেছেন। রাত ৯টার দিকে পোস্ট করা এই লেখাটি মুহূর্তেই পাঠকদের দৃষ্টি কাড়ে।
প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেও আজ তিনি দেবিদ্বারের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরেছেন। মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে পরিচয় দিয়েছেন, খোঁজ নিয়েছেন, সমস্যার কথা শুনেছেন এবং নিজের জন্য দোয়া চেয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ নারী ভোটারদের সাথে মতবিনিময়ের সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন। একজন মা তার ছেলের জন্য যেমন আশীর্বাদ করে, সেই উষ্ণ ভালোবাসা তাকে শৈশবের মায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়—যে মা স্নেহে–ভালোবাসায় ঘাড়ে পাউডার মেখে দিয়ে কবিতা পড়তে বসাতেন।
তার স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে মানবজীবনের সেই কোমল অধ্যায়— “মাধ্যমিক স্কুলের দুপুরগুলোতে আম্মা আমার ঘাড়ে-পিঠে ট্যালকম পাউডার মেখে দিয়ে বিছানায় শুয়িয়ে কবিতা পড়তে দিত। আমার পড়ার শব্দে আম্মা ঘুমিয়ে পড়তো, আর শব্দ থামলেই ঘুম ভেঙে যেত… আজও মনে হয় আমি তার কাছে কত ঋণী!”
হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, জীবনের ব্যস্ততার জুলাই ঠিক যেন মেঘের মতো। যেমন মেঘ সূর্যকে ঢেকে দিলে দূরত্বটা হঠাৎ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তেমনি এই মাসটিই যেন তাকে মায়ের থেকে অদৃশ্যভাবে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
তিনি অকপটে স্বীকার করেন—“শেষ কবে আম্মার সঙ্গে কথা হয়েছে মনে পড়ে না… মায়ের জন্য বৃষ্টিস্নিগ্ধ বাড়ি করার কথা ছিল, হয়তো আর হয়ে উঠবে না।”
রাজনীতির কঠিন বাস্তবতা, দায়িত্বের চাপ, মানুষের প্রতি কর্তব্য—সবকিছু মিলিয়ে নিজের ব্যক্তিজীবনের অপূর্ণতা যেন আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
স্ট্যাটাসে তিনি তার রাতের যাত্রাপথের বর্ণনা দিয়েছেন অত্যন্ত কাব্যিক ভঙ্গিতে। ফ্রন্ট সিট হেলিয়ে দিয়ে, গাড়ির জানালায় কুয়াশা লেগে থাকা ফোঁকরের মাঝে তিনি দেখছিলেন তার কর্মীদের মোটরসাইকেলের দৌড়। সেই দৃশ্য তাকে দেশের হাজার–হাজার উদ্যমী যুবকের কথা মনে করিয়ে দেয়—যারা কখনও রাজনীতিকে দেখেন আশার আলো হিসাবে, কখনও জীবিকার উপায় হিসাবে।
তিনি বলেন—“এই বেকার, অর্ধশিক্ষিত, উদ্যোমী তরুণরা পতঙ্গের মতো ঘুরে বেড়ায় সম্ভাবনার আলো খুঁজতে। চাই না আর কোনো জুলাই তাদের মায়ের কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাক।”
স্ট্যাটাসের শেষাংশে মাতৃত্বকে কেন্দ্র করে তার এক অনন্য প্রার্থনা পাঠকদের বিশেষভাবে আন্দোলিত করেছে। তিনি প্রত্যাশা করেন— “প্রতিটি মা যেনো তার সন্তানের গোধূলিবেলা ফিরে পায়—যেখানে সন্তান নিজের হাতের মমতা দিয়ে মায়ের ক্লান্ত পায়ে মালিশ লাগিয়ে দেয়… ঠিক যেমন সন্ধ্যার আলো দিনের ক্লান্ত সূর্যকে কোলে তুলে নেয়।”
তার এই বর্ণনা শুধু সাহিত্যিকই নয়, বরং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একজন জন নেতার হৃদয়ের মানবিক দিকটিও স্পষ্ট করে।
গণসংযোগে বিভিন্ন বয়সী মানুষের আন্তরিকতা, বিশেষ করে মায়েদের দোয়া তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তিনি লিখেছেন, তার তোলা ছবির “আম্মারা” যখন ছোট ছোট আবদার নিয়ে তার কাছে আসেন, তখন ক্ষণিকের জন্য হলেও তার মন ভারমুক্ত হয়ে যায়। সেই সাময়িক নির্ভারতা আবার তাকে নতুন করে পথ দেখায়, নতুন করে শক্তি জোগায়।
স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পরপরই মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে মন্তব্য করেছেন—একজন রাজনৈতিক নেতার এমন হৃদয়ের কথা বিরল। কেউ বলেছেন, “এমন মানবিকতা রাজনীতিতে দরকার।”
যুব সমাজ বিশেষভাবে লেখাটিকে প্রশংসা করছে।
প্রতিবেদক বা একই এলাকার আরও খবর পড়ুন


















