প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ৬:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ১১:৩৪ এ.এম

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলার বিভিন্ন পৌরসভা ও উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোচালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে নামে-বেনামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও পৌরসভা কর, কোথাও জরিমানা, আবার কোথাও সমিতির প্লেট দেওয়ার নামে অটোচালকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক চালক।
অভিযোগকারী অটোচালকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারী পৌরসভায় ১ হাজার টাকা, সৈয়দপুর পৌরসভায় ২ হাজার টাকা, ডোমার পৌরসভায় ৮০০ টাকা এবং জলঢাকা পৌরসভায় ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডিমলা অটোচালক শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে ৩০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অটোচালকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে কোনো নম্বর দেওয়া হলেও সেই নম্বরের প্লেট সরবরাহের নামে স্থানীয়ভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে। তাদের দাবি, সমবায় সমিতির নামে প্লেট বিক্রির বৈধতা বা এ ধরনের অর্থ আদায়ের বিধান রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
চালকদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় প্লেট বা নম্বর নেওয়ার জন্য ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অটো চালাতে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
অভিযোগে ডিমলা উপজেলার সুমন ইসলাম, বালাপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট এলাকার আলম হোসেন, রশিদুল ইসলাম, গোলাম রাব্বানী এবং পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের আব্দুল আলিমসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তবে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদকের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অটোচালকদের ভাষ্য, সারাদিন অটো চালিয়ে একজন চালকের আয় হয় গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এর মধ্যে গাড়ির চার্জ, ব্যাটারি, মেরামত, জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ মেটাতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে দূরবর্তী এলাকা থেকে অটো নিয়ে আসা-যাওয়ার খরচও বহন করতে হয়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় কর, জরিমানা, প্লেট বা অন্যান্য নামে টাকা দিতে হলে পরিবার নিয়ে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
একাধিক অটোচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সারাদিন অটো চালিয়ে ৫০০-৬০০টাকা আয় করি।এর মধ্যে গাড়ির কারেন্ট বিলসহ বিভিন্ন খরচ রয়েছে।
বিভিন্ন জায়গায় যদি জরিমানা ও চাদার নামে টাকা দিতে হয়,তাহলে আমাদের হাতে কী থাকে? আমরা সরকারের কাছে তদন্ত করে এসব অর্থ আদায় বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে সাধারন অটোচালকদের না খয়ে থাকতে হবে।
তাদের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একই ধরনের অর্থ আদায়ের কারণে একজন অটোচালককে একাধিক জায়গায় টাকা দিতে হচ্ছে। এতে স্বল্প আয়ের চালকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
অটোচালকদের দাবি,কোন প্রতিষ্টান বা কোন
প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ কোন আইনি ক্ষমতা বলে কত টাকা আদায় করছে,তার সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হোক।পাশাপাশি সমিতির নামে প্লেট বিক্রি, জরিমানার নামে নগদ অর্থ আদায় এবং পৌরসভা করের নামে নেওয়া অর্থের বৈধতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা, সমবায় অধিদপ্তর, বিআরটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
সাধারণ অটোচালকদের প্রশ্ন-নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফি ও করের বাইরে যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়ে থাকে,তাহলে কার নির্দেশে এবং কোন বিধানের আওতায় তা নেওয়া হচ্ছে? বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চালকরা।