
মো: আব্দুল হান্নান, শাজাহানপুর (বগুড়া): বগুড়ার গাবতলী উপজেলার "সোন্দাবাড়ী মাদরাসা" মুসলিম রেনেসাঁ এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় নাম। এই গ্রামেই সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ১৭০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক ‘সোন্দাবাড়ী মাদরাসা’। দীর্ঘ ৩১৭ বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজও উত্তরবঙ্গে ইসলামী শিক্ষা, আকিদা সংস্কার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের আলোকবর্তিকা হয়ে টিকে আছে। তবে তিন শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠে।
ব্রিটিশবিরোধী জিহাদ আন্দোলনের দুর্গ সোন্দাবাড়ী মাদরাসা কেবল কিতাব পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে মুজাহিদদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সাবেক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব তাঁর বিখ্যাত ‘দাওয়াত ও জিহাদ’ গ্রন্থে এই কেন্দ্রের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।"তৎকালীন সময়ে এই কেন্দ্র থেকেই শহীদ ফকির মাহমুদসহ অসংখ্য মুজাহিদ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। মাদরাসার পাশেই অবস্থিত ‘মুজাহিদ কবরস্থান’ আজও সেই ত্যাগের নীরব সাক্ষী। সেখানে নয়জন বীর মুজাহিদের সমাধি রয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, অসমাপ্ত মুজাহিদ কেন্দ্রের আমীর নেয়ামতুল্লাহর (১৯১৫-১৯২১ খ্রি.) দেহরক্ষী বেলাল গাজীও এই সোন্দাবাড়ী থেকেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বেলাল গাজী ছিলেন শাজাহানপুর উপজেলার কাঁটাবাড়ীয়া গ্রামের বীর সন্তান।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত