
সরকার সালাউদ্দীন সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি (নীলফামারী) : নীলফামারীর সৈয়দপুরে গোপনে বিদ্যালয়ের ভেতরে মূল্যবান দুটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলেছেন প্রধান শিক্ষক মির্জা জহুরা আক্তার। সোমবার দুপুরে নয়াবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। গাছ কাটার আগে বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়নি। জানানো হয়নি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন সরকারকে। তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ভেঙে যাওয়ায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক ও প্রধান শিক্ষককে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। অথচ গাছ কাটার বিষয়ে এ কমিটিতে আলোচনা হয়নি। প্রধান শিক্ষক কাউকে না জানিয়ে ১ লাখ টাকার বেশি মূল্যের দুটি গাছ কেটে ফেলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যম কর্মীরা সেখানে যাওয়ার আগে অর্ধেক গাছ কেটে ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, প্রধান শিক্ষক মির্জা জহুরা আক্তারের নির্দেশেই গাছ কাটা হয়েছে। আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মিজানুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের গাছ কাটার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক তাঁকে জানাননি। এ-সংক্রান্ত কোনো রেজুলেশনেও তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। কার অনুমতি নিয়ে তিনি গাছ কেটেছেন, তা জানা নেই।
প্রধান শিক্ষক মির্জা জহুরা আক্তারের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের টেবিল-চেয়ার তৈরির জন্য গাছগুলো কাটা হয়েছে। তাঁর দপ্তর ও বন বিভাগের অনুমতি নিয়েছেন কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিভাবক শিক্ষক অ্যাসোসিয়েশনের মিটিংয়ে রেজুলেশন করা আছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন সরকার বলেন, পিটিএ মিটিংয়ে রেজুলেশন করলেও গাছ কাটা যাবে না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। গাছগুলো বন বিভাগকে জানিয়ে উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-ই আলম সিদ্দিকী জানান, অনুমতি দেওয়া দূরের কথা, বিষয়টি তিনি একদম জানতেন না। গাছ কাটার ঘটনায় ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কুমারেশ চন্দ্র গাছি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কার্যালয় বা স্কুলের কোনো গাছ কাটতে হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এর পর একটি নির্ধারিত ফরমে বন বিভাগে আবেদন করতে হয়। ওই আবেদনের পর বন বিভাগ অনুমতি দিলে গাছ কাটা যায়। প্রধান শিক্ষক এসবের কিছুই করেননি। তাঁকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত