
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১, ২০২৬, ২:৪০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১০, ২০২৫, ৫:৩১ পি.এম
উলিপুরে তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি দিলেন -সহকারী কমিশনার (ভূমি

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে কর্মরত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম নিজের দায়িত্ব ও পদমর্যাদাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একজন পরিচয় বিহীন বহিরাগত ব্যক্তিকে দিয়ে সরকারি অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, এই অনিয়ম প্রকাশ্যে আসার পর সংবাদকর্মীকে ফোনে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টাও করেছেন তিনি।
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে উলিপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গিয়ে চমকপ্রদ ও উদ্বেগজনক দৃশ্যের মুখোমুখি হন সংবাদকর্মীরা। দেখা যায়, এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে বসে থাকলেও সরকারি কম্পিউটারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-নথিপত্র চালাচ্ছেন একজন অচেনা ও চিহ্নিতহীন ব্যক্তি। সংশ্লিষ্ট অফিস সহকর্মীরা স্পষ্টভাবে জানান, ওই ব্যক্তি উলিপুর অফিসের কোনো কর্মচারী নন এবং তার কোনো দাপ্তরিক নিয়োগপত্র নেই।
অভ্যন্তরীণ সূত্রে আরও জানা যায়, এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম উলিপুরে যোগদানের পর থেকেই ওই ব্যক্তিকে সরকারি অফিসের যাবতীয় কার্যক্রমে অননুমোদিতভাবে নিয়োজিত রেখেছেন। বিষয়টি একাধারে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, তথ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট-এর চরম লঙ্ঘন।
এ ব্যাপারে বক্তব্য চাইলে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম প্রথমে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,
“তিনি কুড়িগ্রাম সদর অফিসের কম্পিউটার অপারেটর। আমার কাজে আমাকে সাহায্য করছেন।”
কোনো প্রকার ডেপুটেশন আদেশ ছাড়াই অন্য অফিসের কর্মচারীকে কাজে লাগানো যে সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন—তা তিনি বিবেচনাতেও নেননি। বিষয়টি মিডিয়ায় আসবে টের পেয়ে ১০ মিনিটের মাথায় তিনি সংবাদকর্মীকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় হুমকি দেন এবং বলেন,
“আপনার মতো লোককে চাকরির শুরু থেকে দেখে আসছি। নেক্সট টাইম আমার অফিসে আসলে খবর করে দেব।”
সরকারি পদে বসে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও হুমকিসূচক আচরণে সাংবাদিক সমাজসহ সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ। স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষায়,
“সরকারি অফিসে বহিরাগত দিয়ে কাজ করানো যেমন আইনবিরোধী, তেমনি একজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া চরম দুঃসাহসিকতা। বিষয়টি প্রশাসনিক তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন,
“বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখব ।”
এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। তাদের দাবি,
“একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) যদি নিজ কার্যালয়ে বসে এমন বেআইনি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারেন, তাহলে সাধারণ নাগরিক কোথায় গেলে ন্যায়বিচার পাবে?”
অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত