
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৫, ২০২৬, ১০:২৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৩, ২০২৫, ১:৪০ পি.এম
কক্সবাজারে পুলিশী হেফাজতে যুবকের মৃত্যু !

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশী হেফাজতে থাকা এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ মিলেছে।এতে নিহতের পরিবার পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।যদিও পুলিশের দাবী এটি আত্মহত্যা। কিন্তু পরিবারের দাবী সে কি আত্মহত্যা করেছে? হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে কিনা? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
নিহত দুর্জয় চৌধুরী (২৭) চকরিয়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের হিন্দু পাড়ার কমল চৌধুরীর ছেলে। তিনি চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত ছিলেন।নিহত দুর্জয়ের পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্জয় সপ্তাহ খানেক আগে ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন, পুলিশের কাছে আত্মহত্যার খবর পেয়েছেন।কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে এসেছেন দুর্জয়ের চাচাতো ভাই সঞ্জীব দাস।
তিনি বলেন, সকালে ফোন পেয়ে আমরা থানায় গেলে পুলিশ জানায় সে হাজতে সুইসাইড (আত্মহত্যা) করেছে। সেখানে গিয়ে আমরা তাকে শার্টে পেঁচানো অবস্থায় ফাঁসিতে ঝুলন্ত দেখেছি, হাজতের ভেতরে কি হয়েছে বা পুলিশ তাকে প্রেসার দিয়েছে কি না জানিনা।লাশ ঝুলে থাকার দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে সঞ্জীব দাশ বলেন, হাজতের দরজায় লোহার অ্যাঙ্গেলে ঝুলে থাকলেও পায়ের নিচে মাত্র ২ ইঞ্চি ফাঁকা ছিল। হাত গুলো এঙ্গেলের ভেতর ঢুকানো ছিল। বুঝতে পারছিনা কীভাবে সম্ভব। এরকম সুইসাইড করলে মানুষ জিহ্বা বের করে, একটু চিৎকার করে
সঞ্জীব প্রশ্ন রেখে বলেন, হাজতের বাইরে তো কনস্টেবল থাকার কথা। তাহলে কি তিনি দায়িত্বে ছিলেন না?অভিযোগের বিষয়ে পরিবার অবগত ছিল কিনা জানতে চাইলে সঞ্জীব বলেন, দুর্জয় চৌধুরীর নামে একটি চেক জালিয়াতি অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগটি প্রমাণিত হয়নি, কোন প্রকার তদন্ত করা হয়নি। অভিযোগ বিষয় জানতে থানায় গেলে দুর্জয় কে গ্রেপ্তার দেখিয়ে হেফাজতে রাখা হয়।প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া, খাতুনের ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করে সঞ্জীব বলেন তাকে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্ত করলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টায় পরিবারে লোকজন খাবার ও ঔষধ নিয়ে নিহত দু্র্জয়ের সাথে দেখা করতে যান এবং থানা হেফাজতে দায়িত্ব থাকা পুলিশ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন কে জানানো হয়, সে এক সপ্তাহ আগে স্টোক করছিল, তার শ্বাস কষ্টজনিত রোগ আছে। মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত, তাকে যেন ভালোভাবে নজর রাখা হয়।
এ সময় তার মার সাথে কথা বলে দুর্জয়। মাকে বলে মা আমি কোন ভুল ত্রুটি করি নাই। আমাকে ভুল বুঝিও না আমি ট্রমার মধ্যে আছি,বলেন সঞ্জীব।তবে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস জানান, বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত ৯ টার দিকে দুর্জয়ের কর্মরত বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ তাকে থানায় সোপর্দ করেন। ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎ'র অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দায়ের করা মামলায় তাকে রাত ১১ টায় হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।পুলিশ কর্মকর্তা অভিজিৎ দাশ বলেন, আত্মহত্যার দৃশ্য কিছুটা দূরত্বের কারণে সরাসরি ধারণ না হলেও দুর্জয়ের ‘চলাফেরা’ ও অন্যান্য কার্যকলাপের দৃশ্য থানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।
পুলিশ সদস্যদের গাফিলতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।শুক্রবার (২২ আগস্ট) ভোরে চকরিয়া থানা হাজতের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় ঐ যুবকের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
এদিকে এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
তিনি বলেন, চকরিয়া থানা হাজতে যুবক আত্মহত্যার ঘটনায় মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে সুরতহাল করেছেন।
তদন্ত কমিটি নিরূপণ করবে ঘটনাটি কি ছিল। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বেরিয়ে আসবে আসল ঘটনা’ এমনটাই জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত