নীতিমালা অনুযায়ী, মশা মারার জন্য নয় বরং মশা তাড়াতে কয়েল উৎপাদন ও ব্যবহারের কথা। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে কয়েল প্রস্তুতকারকরা উচ্চমাত্রায় কেমিক্যাল প্রয়োগ করে তৈরি করছে মশার কয়েল। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পরেছে।
সোমবার (১৩এপ্রিল) সরেজমিন ঘুরে এমনই চিত্র দেখাগেছে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল এলাকার মোঃ পান্না মিয়ার কারখানায়।
অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের বিষাক্ত কয়েল প্রস্তুত ও বাজারজাত বন্ধ করা ক্ষেত্রে দেশের ধামরাইয়ে কাঠের গুড়া ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে মশার কয়েল।
বাংলাদেশ স্ট্যার্ন্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) এর অনুমোদন গ্রহণ না করে কাঠের গুড়া ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে অবৈধভাবে মশার কয়েল তৈরি করে আসছে ধামরাই বড় চন্দ্রাইল এলাকায় নিম পাতা এক্সট্রা পাওয়ার মশার কয়েল নামক একটি প্রতিষ্ঠানে।
নীতিমালা অনুযায়ী, মশা মারার জন্য নয় বরং মশা তাড়াতে কয়েল উৎপাদন ও ব্যবহারের কথা। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে কয়েল প্রস্তুতকারকরা উচ্চমাত্রায় কেমিক্যাল প্রয়োগ করে তৈরি করছে মশার কয়েল। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পরেছে।
শুক্রবার (১০এপ্রিল) সরেজমিন ঘুরে এমনই চিত্র দেখাগেছে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল এলাকার মোঃ পান্না মিয়ার(০১৭১১২৮৫৪১৫) কারখানায়।
অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের বিষাক্ত কয়েল প্রস্তুত ও বাজারজাত বন্ধ করা ক্ষেত্রে দেশের পণ্যের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআই ও উপজেলা প্রশাসনের কোন কার্যকর পদক্ষেত্র নেই বললেই চলে। তবে মালিক পক্ষ নাগরিক ভাবনাকে , বলেন, আমাদের ব্যবসা অবৈধ হলেও আমরা প্রভাবশালী সবপক্ষকে ম্যানেজ করেই কারখানা চালায়।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা জানান, বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে মশার কয়েল তৈরি করার কারণে আমাদের এলাকার অনেক মানুষের শ্বাকষ্ট, কিডনি ডেমেজ,লিভার নষ্টসহ বিভিন্ন ধরণের অসুখে ভোগছে। বিশেষ করে বাচ্চাদের বেশি ক্ষতি করছে মশার কয়েল। তারা দিনের বেলায় কারখানার দরজা বন্ধ করে ভিতরে কাজ করে আর রাতের বেলায় গাড়ি দিয়ে কয়েল নিয়ে বিভিন্ন দোকানে দোকোনে বিক্রি করেন।
এই বিষয়ে মোঃ খোরশেদ আলম নামে এক ব্যাক্তি বলেন, যে কয়েলে মশা মরবে, সেই কয়েলে মানুষও অসুস্থ হবে। এই ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাচ্চারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই সকল অবৈধ কারখানার মালিকগণের জবাবদিহি নেই,তাই তারা তাদের ইচ্ছামত কেমিক্যাল দিয়ে কয়েল তৈরি করছে। যা মানবস্বাস্থ্যর জন্য হুমকি স্বরুপ।
এই বিষয়ে ধামরাই সরকারী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ আহমেদুল হক তিতাস জানান, অবৈধ মশার কয়েল কারখানায় এগ্রিকালচারাল পেসটিসাইড-এপি (কৃষি কাজে ব্যবহৃত কীটনাশক) উচ্চমাত্রায় রয়েছে। এই কীটনাশক মানব স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যা মশার কয়েল তৈরিতে ব্যবহার করেন মালিকগণ। মশার কয়েলে পাবলিক হেলথ পেসটিসাইড(পিএইচপি) বা মানবস্বাস্থ্যের জন্য সহনীয় কীটনাশক ব্যবহার করার কথা। কিন্তু অবৈধ কারখানার যে হেতু জবাবদিহি নেই পিএইচপির কথা বলে এপি ব্যবহার করেন। যা মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি করে।
কয়েল কারখানার বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার মালিক পান্না মিয়া বলেন, মশার কয়লে কারখানা চালাতে আবার কাগজ পত্র লাগেনি। এলাকার ভাইদের সাথে কথা বলে কারখানা চালাই। তাছাড়া উপরের সবাইকে ম্যানেজ করেই চলতে হয়।
এই বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আল-মামুন বলেন, ধামরাইয়ে বিএসটিআই ও পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়া মশার কয়েল কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে দ্রত মশার কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে।