
রায়হান মাহামুদ: গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পৈতৃক জমিতে গাছের চারা রোপণকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারগানা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মো. হারিছুল ইসলাম (২৬) কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হারিছুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে দক্ষিণ নারগানা গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে জনি, জরিনা বেগমের ছেলে জুয়েলসহ অজ্ঞাত কয়েকজন হারিছুল ইসলামের পরিবারের জমিতে লাগানো প্রায় ২০টি ফলজ গাছের চারা উপড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তারা হারিছুল ইসলামের বাবা চান মিয়াকে গালিগালাজ করে জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একপর্যায়ে রনি নামের একজন চাইনিজ কুড়াল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে চান মিয়াকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া হারিছুল ইসলামের ভাই মো. তারিকুল ইসলাম (৩০) ও তার মাকেও মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে আলমারি ভাঙচুর করে নগদ ৩৫ হাজার টাকা এবং প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও গুমসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দিয়ে তারা চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে চান মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। অন্যরা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফারজানা আক্তার জানান, আহতদের মধ্যে চান মিয়া নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত জনি ও জুয়েলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
প্রধান কার্যালয়: ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, পল্টন মডেল থানা, ঢাকা-১০০০।
হটলাইন: 09643-230220, মুঠোফোন: 01915-708187, মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@Copyright & reserved by NAGORIK BHABNA