প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২, ২০২৬, ১১:১২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৭, ২০২৫, ৩:০৫ পি.এম

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার অধীন আব্দালপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুদিয়া গ্রামে আনসার ব্যাটালিয়নের দুই সদস্য আবু রাসেল ওরফে সোহাগ (৩০) ও তার ছোট ভাই আশিকুর রহমান আশিক (২৮)–এর বিরুদ্ধে পারিবারিক জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বড় ভাই আবু রাসেল ইবি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে রাসেল উল্লেখ করেন, ঈদের ছুটিতে তার ভাই আশিক বাড়ি আসার পর থেকেই কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাদের পূর্বের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে মিথ্যা অপহরণ ও হুমকির নাটক সাজানো হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৪ জুন রাত ৯টার দিকে অভিযুক্তরা তার বসতবাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে বলেন—জমি না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী, যাদের নামও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাসেল বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। আমি চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক এবং মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনসার সদস্য রাসেল ও আশিকের সঙ্গে তাদের চাচা মো. আব্দুল মতিন ও মাহাবুব রহমান লজেনের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, সম্প্রতি গণমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, হুমকি ও বিভিন্ন মানহানিকর অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা হয়।
বিষ্ণুদিয়ার বাসিন্দা জুয়েল বলেন, “এটি নিছকই পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধ, যা ইচ্ছাকৃতভাবে একে হয়রানির কৌশলে রূপান্তর করা হচ্ছে।”
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেছেন, অভিযোগে উল্লিখিত তারিখ ও সময়ে অভিযুক্তদের স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে, যা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
অভিযুক্ত আনসার সদস্যদের পরিবার দাবি করেছে, “আমাদের বিরুদ্ধে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে সামাজিক সম্মানহানি ও চাকরি হারানোর পাঁয়তারা করছে। আমরা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, অভিযুক্তদের চাচা মাহাবুব রহমান লজেন তাদের কাছ থেকে ব্যাংক ঋণের টোপ ফেলে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি তারা ব্যাংকের নোটিশ পেয়ে জানতে পারেন এবং প্রতারণার অভিযোগ আনেন।
মুঠোফোনে অভিযুক্ত মতিন বিশ্বাস জানান, উক্ত জমির মোট চারজন শরিক রয়েছেন। তিনি বলেন, “শরিকদের সমন্বয়ে যেভাবে সিদ্ধান্ত হবে, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি শুধু বলেছি—দুইজন শরিক বর্তমানে অনুপস্থিত, বাকি দুইজন উপস্থিত আছেন। তাই, সকল শরিক একত্রে উপস্থিত থাকলেই ভাগাভাগির কাজ সম্পন্ন করা যাবে। আমি একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।”
জমি মাপার বিষয়ে মতিন বিশ্বাস আরও বলেন, “আমি একা মাপার কাজে থাকতে পারবো না। তবে সবাই একত্রে থাকলে আমি অবশ্যই উপস্থিত থেকে জমি মেপে দিতে প্রস্তুত।”
ইবি থানা সূত্রে জানা গেছে, উত্থাপিত অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে এসব অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সাধারণ মানুষের অভিমত, যাচাই-বাছাই ছাড়া ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন সাংবাদিকতার নীতিমালার লঙ্ঘন। তারা গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সংবাদ যেন হয় সত্যের প্রতিচ্ছবি, কল্পনার সৃষ্টি নয়।”
একইসাথে প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে—এই ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।