
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২, ২০২৬, ১২:২৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১, ২০২৫, ৬:১০ পি.এম
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পুড়ে যাওয়া ভবনে ফের শুরু পুলিশের কার্যক্রম

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া কুষ্টিয়া মডেল থানা ভবনে সংস্কার শেষে ফের শুরু হয়েছে পুলিশি কার্যক্রম। পোড়া ভবনে রঙ ও মেরামতের পর শনিবার (৩১ মে) বিকেল ৪টায় এক সুধী সমাবেশের মাধ্যমে নতুন করে কার্যক্রম উদ্বোধন করে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ।
থানা চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি রেজাউল হক বলেন, “পুলিশের চাকরি করে সবার মন জয় করা খুবই কঠিন। এটি কেবল ঐশ্বরিক ক্ষমতার মাধ্যমেই সম্ভব।” তিনি জানান, খুলনা রেঞ্জে স্বচ্ছতা আনতে কনস্টেবল থেকে সাব-ইন্সপেক্টর পদে পোস্টিং লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং পদোন্নতিও হবে বিবেচনা সাপেক্ষে।
তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি পুলিশে থেকেও অপরাধ করে, সেটা তার ব্যক্তিগত দায়—প্রতিষ্ঠানের নয়। তবে যদি ইচ্ছাকৃত কোনো ভুল হয়, সেখানে আমাদের সহনশীলতা শূন্য।”
৫ আগস্টের ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে ডিআইজি জানান, কেবল রেঞ্জ নয়, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকেও তদন্ত তদারকি করা হচ্ছে। তদন্ত অনেকদূর এগিয়েছে এবং সুষ্ঠু বিচারের লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
এছাড়া ঈদে কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ডিআইজি বলেন, চামড়াবাহী কোনো যানবাহন সন্দেহ হলে পুলিশকে জানাতে হবে।
দীর্ঘদিন কুষ্টিয়ায় অবস্থান করা শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন সম্পর্কে পুলিশের কোনো তথ্য ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, “না, আমাদের কাছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য ছিল না। তবে তাকে গ্রেপ্তারকারী সংস্থাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” তিনি বাড়ি মালিকদের ভাড়া দেওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বনেরও পরামর্শ দেন।
সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিরা।
তবে ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও নাগরিক প্রতিনিধির বক্তব্যের সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। হট্টগোলের এক পর্যায়ে বিএনপির নেতা আল আমিন কানাই, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন ও শরীফসহ কয়েকজন বক্তাদের দিকে তেড়ে যান। পরে পুলিশ ও উপস্থিত জনতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিএনপি নেতা আল আমিন কানাই অভিযোগ করেন, “৫ আগস্টের পর আমরাই পুলিশকে শেল্টার দিয়ে কাজে ফিরিয়েছি, অথচ আজকের অনুষ্ঠানে আমাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। উল্টো আমাদের বিরোধিতাকারীদের জায়গা দেওয়া হয়েছে।” কামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা পুলিশকে সহযোগিতা করেছি, অথচ আজ মঞ্চে আমাদেরকে বসানো হয়নি—এটা অপমানজনক।”
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের দাবিতে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে কুষ্টিয়া মডেল থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। এরপর ১২ আগস্ট শহরের আমলাপাড়ায় অস্থায়ীভাবে থানার কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের সংস্কার কাজ শেষে আবারও মূল ভবনে কার্যক্রম শুরু হলো।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত