
উজ্জ্বল মাহমুদ, কুষ্টিয়া: কোনো নোটিশ ছাড়াই কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে খাস জমিতে গড়ে তোলা পাঁচ ভাইয়ের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ঘটে গেছে নজিরবিহীন উত্তেজনা। গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পাল তিনটি ঘর উচ্ছেদ করলেও স্থানীয় উত্তেজিত জনতার ধাওয়া খেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে জনতা বাদীপক্ষের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
ঘটনার পেছনের গল্পে জানাযায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ১০ শতাংশ জমি নিয়ে এই বিরোধের সূচনা। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এ জমিতে দিনমজুর ইসমাইল শেখের পরিবার এবং বুলু খাতুন বসবাস করে আসছিল। ১৯৯৬ সালে বুলু খাতুন আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে জমির বন্দোবস্ত নেন। পরে ২০০২ সালে ৫ শতাংশ জমি ইসমাইল শেখ কিনে নেন।
২০১৭ সালে বুলু খাতুনের নাতি রাজিব হোসেন জমি নিয়ে ইসমাইলের পরিবারকে উচ্ছেদের মামলা করেন। গত ২৭ অক্টোবর আদালত রাজিবের পক্ষে রায় দেন এবং উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। তবে অভিযানের আগে কোনো নোটিশ না দেওয়ায় জনরোষ সৃষ্টি হয়।
উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পাল ও তাঁর দল পালিয়ে যাওয়ার পর জনতা বাদীপক্ষের আধাপাকা ঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়।
ইসমাইলের স্ত্রী আমিরন নেছা বলেন, "আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। থাকার জায়গাও নেই। গরিবের কেউ নেই।" তাঁর ছেলে সাজু শেখ অভিযোগ করেন, "রাজিব আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে আদালতের রায় পেয়েছে। কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাদের সব ভেঙে দিল। আমি এর বিচার চাই।"
তবে বাদীপক্ষের রাজিব হোসেন বলেন, "এ জমি আমার নানির বন্দোবস্তকৃত সম্পত্তি। আদালতের রায় মেনেই উচ্ছেদ হয়েছে। উল্টো ইসমাইলের ছেলেরা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।"
কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ জানান, "নোটিশ ছাড়া অভিযান চালানোর ফলে জনরোষ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত