প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১২:৪৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১১, ২০২৬, ৪:০৪ পি.এম

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৮৬টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় একদিকে যেমন পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলায় মোট ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য এবং সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ রয়েছে ৫২টি। মূলত অবসরজনিত কারণেই এসব পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় বহু বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পরিচালনায় সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। কোথাও জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হলেও তা কোনোভাবেই স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ঘাটতির কারণে একাধিক শ্রেণি একসঙ্গে পরিচালনা করতে হচ্ছে, ফলে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার বরণডালী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপসানা, কালিয়ারই, লালপুর, পল্লী মঙ্গল, রামকৃষ্ণপুর, হাসানপুর, নেহালপুর, তেঘরী, ঝিকরা, প্রতাপপুর, কোমরপুর আদর্শ, ধর্মপুর, দেউলি, হিজলতলা, ললীনাথকাটি, মির্জাপুর, কিসমত সানতলা, কালিচরণপুর, সারুটিয়া, কাশিমপুর, কাশিমপুর পূর্ব, পাঁচবাকাবর্শী, বাকাবর্শি, পাঁজিয়া, হাড়িয়াঘোপ, বেলকাটি, ডোঙ্গাঘাটা, গড়ভাঙ্গা মাছপাড়া, সাতাইশকাটি, রাজনগর বাকাবর্শি মোড়লপাড়া, বেতীখোলা, কৃষ্ণনগর, বড়েঙ্গা ও খতিয়াখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও বহু প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই।
এছাড়া উপজেলাজুড়ে ৫২ জন সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠগ্রহণে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে শিশুদের নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, শূন্যপদ পূরণের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তালিকা পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শিক্ষার মান রক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত এসব শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া জরুরি। অন্যথায় কেশবপুরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আরও গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে।