
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৭, ২০২৬, ১০:৪৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৭, ২০২৬, ৮:০২ পি.এম
খালের উপর মক্তব-টয়লেট-সেফটি ট্যাংকি নির্মাণের অভিযোগ নাব্যতা হারিয়ে ফসল ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আতঙ্কে স্থানীয়রা

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা উপজেলার ৪ নম্বর সুবিল ইউনিয়নের নারায়নপুর খালের উপর অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। খালের উপর মক্তব ভবন, বাথরুম, টয়লেট, সেফটি ট্যাংকি ও বর্জ্য ফেলার ভাগাড় নির্মাণের ফলে খালটির নাব্যতা নষ্ট হয়ে জলাবদ্ধতা, কৃষি ক্ষতি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় খালের উপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ওয়াহেদপুর করিম সরকার বাড়ির মসজিদ সংলগ্ন নারায়নপুর খালটি গোমতী নদীর স্লুইজগেট এলাকার মরা নদীর অংশ এবং মৃতপ্রায় “বুড়ি নদী”র সঙ্গে সংযুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা খাল। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ফুট প্রশস্ত এ খালটি নারায়নপুর, আব্দুল্লাহপুর, ওয়াহেদপুর, জীবনপুর, কাবিলপুর, রামনগর, শিবনগর ও গুঞ্জর গ্রামের কয়েকশ’ একর কৃষিজমি এবং মাছ আহরণের অন্যতম প্রধান পানিপ্রবাহ পথ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের উপর স্থায়ী ফাউন্ডেশন দিয়ে চারতলা বিশিষ্ট একটি মক্তব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মসজিদের বাথরুম, টয়লেট, বাড়ির সেফটি ট্যাংকি এবং বর্জ্য ফেলার স্থান নির্মাণের কারণে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষিজমির ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও আহরণও হুমকির মুখে পড়বে।
নারায়নপুর গ্রামের কৃষক আয়ুব সরকার বলেন, “এ খালটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস। খালের উপর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে খালের নাব্যতা কমে যাচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।”
আরেক কৃষক মো. শাহজাহান সরকার বলেন, “সরকার যখন খাল খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ সচল রাখতে কাজ করছে, তখন একটি মহল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সরকারি খালের উপর স্থাপনা নির্মাণ করছে। টয়লেটের বর্জ্য সরাসরি খালে পড়ায় পানি দূষিত হচ্ছে এবং কৃষকরা মাছ ধরার সুযোগও হারাচ্ছেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী সাহেব আলী বলেন, “আমি সাধারণ মানুষ। মসজিদ ও মক্তবের উন্নয়নের জন্য প্রবাসী ছেলেরা টাকা পাঠায়। এলাকাবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কী ভালো বা মন্দ হচ্ছে তা আমি বুঝি না।”
মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. হাবিব উল্লাহ বলেন, “মক্তব ভবনের নিচে পিলার দিয়ে পানিপ্রবাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার কারণেই এ বিষয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।”
এ বিষয়ে মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, “খালের উপর স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পাইনি। তবে বিষয়টি তদন্তে লোক পাঠানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে রাকিবুল ইসলাম খান বলেন, “খালের উপর সেফটি ট্যাংকি নির্মাণের অভিযোগ পেয়েছি। তবে ফাউন্ডেশন দিয়ে মক্তব নির্মাণের বিষয়টি নতুন করে জানতে পারলাম। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত