
বিরোধী দল হিসেবে সংসদে এবং সংসদের বাইরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সকল প্রকার আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবার আবারো ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (৫ মে) জাপানের নাগোয়া শহরে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। জাপানের সিবুকাওয়া ওয়েলফেয়ার সেন্টারে বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষ থেকে ইসলামিক মিশন জাপান, নাগোয়া শাখার তত্ত্বাবধানে এই নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবেই হবে ইনশাআল্লাহ। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে গণভোট ব্যর্থ হয়েছে, সুতরাং বাংলাদেশেও গণভোট ব্যর্থ হবে না। দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়ে নিজেদের রায় জানিয়ে দিয়েছেন। এখন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা মানে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অপমান করা। বিরোধী দল হিসেবে সংসদে এবং সংসদের বাইরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সকল প্রকার আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন বলে উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করেন তিনি। এ সময় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে অনুষ্ঠানের হল মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসে থেকেও আপনারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রবাসীরা রেমিট্যান্স শাটডাউনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আবার ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। এজন্য আমি আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করা হবে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে কারাবন্দী ৩৯ প্রবাসীর মুক্তির বিষয়েও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
জাপানের উন্নয়ন মডেলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাপানের আদলে নৈতিক, শিক্ষিত ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে কাজ করতে চান। দেশে চাঁদাবাজি ও বাজার সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শুধু জাপান নয়, বিশ্বের সকল বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে একযোগে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি তার কাজ অব্যাহত রাখবেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ একদিন একটি পরিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে, যেদিন দেশে কোনো গুম, খুন থাকবে না, থাকবে না দারিদ্র্য কিংবা দুর্নীতি। এজন্য তিনি তরুণ সমাজকে কাজ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি এবং বাজার সিন্ডিকেটের কারণে পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতির এই দুর্ভোগ কমাতে সরকারকে সকল প্রকার চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। সকল চাঁদাবাজের শেকড় উপড়ে ফেলার অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কোনো ভুল হলে জানালে তিনি নিজেদের সংশোধন করে নেবেন। একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থার জন্য বিরোধী দল হিসেবে যা যা করা দরকার তার সবকিছুই তিনি করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
উল্লেখ্য, ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ড. মাজেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নাগোয়া শহরসহ বৃহত্তর আইচি প্রিফেকচারে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। আয়োজক ইসলামিক মিশন জাপান, নাগোয়া শাখার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ উপস্থিত অতিথিদের বরণ করা হয়।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত