প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১১:০৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২৬, ১২:২২ এ.এম
![]()
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক জানায়, সম্পদ বিবরণীতে প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে অনুসন্ধানে পাওয়া সম্পদের পরিমাণে বড় ধরনের অমিল পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই দুদক মামলা দায়ের করেছে।
সকালে মামলা রুজু, বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি রুজু করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত দম্পতির নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে এবং কিছু সম্পদের তথ্য সম্পদ বিবরণীতে গোপন করা হয়েছে।
স্ত্রীর সম্পদ বিবরণীতে ‘২১ লাখ’, অনুসন্ধানে পাওয়া গেল ‘৯৫ লাখ’।
দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, শাহানা পারভীন ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। সেখানে তিনি ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেন।
কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে প্রায় ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়।
এ হিসাবে দুদকের দাবি, সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে।
আয়ের হিসাবও মিলছে না: মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি টাকার বেশি।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়, শাহানা পারভীনের বৈধ আয় ছিল ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের হিসাব দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা।
ফলে দুদকের মতে, ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকা মূল্যের সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
স্বামীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ: ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদ গড়তে সহায়তা।
মামলায় বলা হয়, এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম সরকারি চাকরির ক্ষমতা ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ অর্জন করেছেন। সেই অর্থ দিয়ে স্ত্রীর নামে সম্পদ গড়ে তুলতে তিনি সহায়তা করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, এএসপির সহায়তার কারণে স্ত্রীর নামে বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
যেসব ধারায় মামলা দায়ের
দুদক জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিচের আইন ও ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে—
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারা
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা
দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা
দুদক: অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা মিললে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন থাকবে। তদন্তে যদি অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার এএসপির: “হয়রানির জন্য মামলা”
তবে এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি মামলাকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন,
“আমাদের বৈধ ট্যাক্স দেওয়া আছে। এগুলো আমার স্ত্রীর পারিবারিক সম্পত্তি। হয়রানি করতেই এ মামলা করা হয়েছে।”
আগেও অভিযোগ উঠেছিল: বহরমপুরে বাড়ি, অনিয়ম ও মাসোহারা তোলার খবর
উল্লেখ্য, রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত থাকার সময় এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অবৈধ আয়ের মাধ্যমে নগরীর বহরমপুর এলাকায় বহুতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল।
সেই সময় তিনি গোয়েন্দা শাখায় পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, আটক বাণিজ্য এবং মাসিক মাসোহারা উত্তোলনের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের তথ্যও রয়েছে।
তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার কথা
দুদক জানিয়েছে, মামলাটি দায়েরের পর তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।