
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ফকিরের কুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. মর্জিনা খাতুন ছুটি শেষে দীর্ঘদিনেও কর্মস্থলে ফিরছেন না। ছুটি শেষ হলেও ৮৭ দিন ধরে তার অনুপস্থিতি এবং বিষয়টিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, মোছা. মর্জিনা খাতুন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তার স্বামী, সন্তান ও পুত্রবধূর সঙ্গে দেখা করতে প্রায় প্রতি বছরই বিদেশ ভ্রমণে যান। বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় দেখা যায়, ২ জুন ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত তার স্বাক্ষর রয়েছে। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তার নামের স্থানে কোনো স্বাক্ষর নেই। অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ২২ মার্চ থেকে ১ জুন পর্যন্ত কোনো সরকারি অনুমতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন। এ সময় তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধা ভোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক মোছা: মর্জিনা খাতুন প্রধান শিক্ষকের নিকট ৩ মাসের ছুটি চেয়েছিলেন। এটি প্রধান শিক্ষকের এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় তিনি ছুটি দেননি। পরে ওই শিক্ষিকা রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালকের নিকট হতে ২৪ জুন থেকে ১৮ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত মোট ২৫ দিনের ছুটি অনুমোদন নেন। তবে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র বিদ্যালয়ে পৌঁছায় অনেক পরে, জুলাইয়ের ২৫ তারিখে। এরপর তার ছুটি আর নবায়ন হয়নি, অথচ তিনি এখনও কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
হাজিরা খাতার স্বাক্ষর ও ছুটির পত্রানুযায়ী দেখা যায়, শিক্ষিকা মোছা. মর্জিনা খাতুন ২৪ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত ছুটি নিয়েছেন। কিন্তু এর আগেই ৩ জুন থেকে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। সে হিসেবে তিনি ২৫ দিনের ছুটি নেয়ার আগে ২১ দিন ও ছুটি নেয়ার পর ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৬ দিন সহ মোট ৮৭ দিন ধরে বিদ্যালয়ে আসছেন না।
প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, ‘মর্জিনা খাতুনের ছুটির বিষয়ে আমি কিছু জানি না, সব উপরওয়ালা জানেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২৫ দিন ছুটি অনুমোদনের একটি পত্র পেয়েছি। ’
সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষক নির্ধারিত ছুটির বাইরে অতিরিক্ত সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু মর্জিনা খাতুনের ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ কিংবা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষিকা মর্জিনা খাতুন ২৫ দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন তার অসুস্থ স্বামীকে দেখতে। এরপর তিনি দূতাবাসের মাধ্যমে ২০ জুলাই থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবর আরো ৯০ দিনের ছুটি বর্ধিতকরণের জন্য আবেদন করেছেন, এর একটি কপি পেয়েছেন। কিন্তু তার ছুটি মঞ্জুর হয়েছে কিনা এ বিষয়ে কোন পত্র পাননি। ’
শিক্ষানুরাগী আফজাল হোসেন, হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষাখাতের শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। একজন সরকারি কর্মচারী বিদেশে গিয়ে ছুটি শেষ হলেও ফেরেন না, অথচ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না এটা উদ্বেগজনক। ’
এদিকে দূতাবাসের মাধ্যমে শিক্ষিকা মোছা. মর্জিনা খাতুন আরো ৯০ দিনের ছুটি বর্ধিত করণের আবেদন করেছেন, এমন একটি কপি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাওয়া গেলেও রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা’র ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায় ১৭ জুন তারিখে আপলোড করা পরিপত্রে শুধু ২৫ দিনের বহি:গমন ছুটির অনুমতি রয়েছে। সবশেষ ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই শিক্ষিকার নামে ছুটি বর্ধিত করণের আর কোন পরিপত্র পাওয়া যায়নি। তার ছুটি বর্ধিত করণের আবেদনের ব্যাপারেও বিভাগীয় অফিস নিশ্চিত করতে পারেনি।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দূতাবাসের মাধ্যমে তিনি ছুটি বর্ধিত করণের আবেদন করেছেন কিনা তা তার জানানেই। তবে আবেদন করে থাকলে সেটি যদি মঞ্জুর না হয়ে থাকে তাহলে বিধি মোতাবেক শিক্ষিকা মোছা. মর্জিনা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত