
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১২:২৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ১, ২০২৬, ৫:৩৩ পি.এম
জমিতে পুকুর খননকে কেন্দ্র করে যুবক হত্যা: বিপ্লব গ্রেফতার

রাজশাহীতে ফসলি জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খননকে কেন্দ্র করে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি বিপ্লব হোসেনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব-৫, সদর কোম্পানি, রাজশাহী এবং র্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুরের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, খুনী, অপহরণকারী, ধর্ষক, ছিনতাইকারী ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাহিনীটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনার বাদী রফিকুল ইসলাম (৫৮), পিতা—নহির উদ্দিন, সাং—বড় পালসা, থানা—মোহনপুর, জেলা—রাজশাহী। তিনি পেশায় একজন কৃষক। গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খননের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘোষণা শুনে বাদী ও তার ছেলে আহমেদ জুবায়ের (২২) নিজ জমিতে উপস্থিত হন।
রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে তারা মোহনপুর থানাধীন পালশা পূর্ব বিলে গিয়ে দেখতে পান, কতিপয় ব্যক্তি ভেকু মেশিন ব্যবহার করে তাদের জমিসহ আশপাশের কয়েকজনের জমিতে পুকুর খনন করছে। বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তাদের কথায় কোনো গুরুত্ব না দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এ সময় ভিকটিম আহমেদ জুবায়ের পুকুর খননে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে আসামিরা ভিকটিমকে ভেকু মেশিনের বালতি দিয়ে টেনে মেশিনের চাকার সামনে ফেলে দেয় এবং তার শরীরের ওপর দিয়ে ভেকু মেশিন চালিয়ে দেয়। এতে ভিকটিম গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। বাদীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আহত অবস্থায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজশাহী জেলার মোহনপুর থানায় ৭ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি থানার মামলা নং-১১, তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ধারাঃ ৩০২/১১৪/১, পেনাল কোড ১৮৬০।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই র্যাব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করে। তদন্তের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত ১২টা ১০ মিনিটে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানাধীন ওয়াপদা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে র্যাব-৫, রাজশাহী এবং র্যাব-১০, ফরিদপুরের যৌথ আভিযানিক দল উক্ত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি বিপ্লব হোসেন (৫২) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত বিপ্লব হোসেন উক্ত ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরবর্তীতে তাকে রাজশাহী জেলার মোহনপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত