
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১, ২০২৬, ১০:৫০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ৫:১৬ পি.এম
জাতীয় পার্টির মনোনয়ন লড়াইয়ে উত্তাপ, ছয় আসনে ১৫ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনী সিদ্ধান্ত যশোরের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই যশোরের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্র ও স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে যোগাযোগ, লবিং ও তদবির।
জাতীয় পার্টির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনেই একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এখন পর্যন্ত ছয় আসনে অন্তত ১৫ জন নেতা দলের মনোনয়ন পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তাদের নামের একটি তালিকা ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার করছেন।
দলের মহাসচিব শামীম পাটোয়ারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতা-উত্তর অনুষ্ঠিত নয়টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটিতেই জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করেছে। কখনো এককভাবে, আবার কখনো রাজনৈতিক জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে লড়েছে দলটি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি।
দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রাথমিক ঘোষণার পর যশোরে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তৎপরতা আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক, শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন তারা। তবে এক আসনে একাধিক প্রার্থী থাকায় দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ কিংবা মনোক্ষুণ্নতা বাড়বে কি না—এ প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জমা দেওয়া মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় যশোর-১ আসন থেকে রয়েছেন শার্শা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আক্তার হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক চঞ্চল মাহমুদ এবং জেলা কমিটির সদস্য আমিনুর রহমান। যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মুফতি ফিরোজ শাহ, জেলা সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম এবং চৌগাছা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন।
যশোর-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী, যশোর সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ এবং কেন্দ্রীয় তরুণ পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট খবির গাজী। যশোর-৪ আসনে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বাঘারপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম জহির এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মাসুদ মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
এ ছাড়া যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন মনিরামপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল হালিম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাবিব। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে দলের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী কেশবপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জিএম হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও যশোর-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী বলেন, জাতীয় পার্টি প্রাথমিকভাবে নির্বাচনমুখী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে কারণে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী, তাদেরকে দলীয় নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলে একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক বিষয়। যশোরের ছয়টি আসনে অন্তত ১৫ জন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। যোগ্যতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। যারা মনোনয়ন পাবেন না, তারাও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে লাঙ্গল প্রতীককে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সব মিলিয়ে, জাতীয় পার্টির নির্বাচনী সিদ্ধান্ত যশোরের রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। মনোনয়ন লড়াইয়ের এই উত্তাপ আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত