
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১, ২০২৬, ৮:৩৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ৩, ২০২৬, ৩:১৯ পি.এম
জেলার ৬ টি আসনে থাকছে না কোন নারী প্রার্থী

দেশের বিভিন্ন কর্মকান্ডে নারীরা সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও থাকছে না খুলনা ছয়টি নির্বাচনী আসনে একজনো নারী প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার নারীরা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়েই নয়, একেবারে শূণ্য।
মহানগরীসহ জেলার ছয়টি আসনে এবার ৪৬জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এরমধ্যে একজন নারী প্রার্থী থাকলেও যাচাই-বাছাইয়ে তা বাতিল হওয়ায় নারী প্রার্থীতার হার শূণ্যে দাঁড়িয়েছে। ফলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সকল পর্যায়ের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য বাধ্যবাধতা শুধু চ্যালেঞ্জই নয়, অসম্ভব করে তুলবে।
অবশ্য দ্বাদশসহ চারটি নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনে পুরুষের তুলনায় নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর হার সাড়ে ছিল ৬ শতাংশ। নবম থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা বিশ্লেষণে ওই তথ্য উঠে আসে।
শুধু জেলায়ই নয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার ৩৬ সংসদীয় আসনের চিত্র প্রায় অভিন্ন। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে খুলনা বিভাগে বিএনপি দুজনসহ জাতীয় পার্টি ও বাসদ,বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি (বিআরপি) ৯ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলেও অন্য কোন দলে নারী প্রার্থী নেই। সতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। বর্তমানে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সংসদীল আসনগুলোতে কোন নারী প্রার্থীই নেই। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডার ও ওয়েবসাইট বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৩৩ জন, তাঁদের মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র একজন।
দশম জাতীয় নির্বাচনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী তিনজন ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ৩৭ প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র দুইজন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনে ১০টি দল মনোনীত ও স্বতন্ত্রসহ ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যারমধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র ২জন। সেই সময়ে নারী প্রার্থী অংশগ্রহণের হার ছিল ৫.৭১।
সর্বশেষ ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ৪৬জন। এরমধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী ছিলেন খুলনা-৫ আসনের জাতীয় পার্টির শামীম আরা পারভীন ইয়াসমীন। শুক্রবার যাছাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী নারী প্রার্থী হার দাঁড়িয়েছে শুন্যে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ধারা ৯০-বি (বি)(রর) অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সকল স্তরের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই লক্ষ্যমাত্রা ২০২০ সালের মধ্যে অর্জনের সময়সীমা ছিল তবে রাজনৈতিক দলগুলো এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান সংশোধনী অনুযায়ী এই সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সরাসরি রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ত ও নারী সংগঠনের নেতা এমন তিনজনের কথা বলা হলে তারা জানান, দলগুলোর অভ্যন্তরে নারীর মূল্যায়ন খুব কম। প্রথমেই ‘ও পুরুষ’ না,ও পারবে না- বলে অবজ্ঞা শুরু হয়। কুৎসা রটানো হয়,ব্যবহার করার চেষ্টা চলে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ অবস্থা আরো কঠিন। টাকা,ক্ষমতার প্রশ্ন তোলা হয়। তবে দুয়েকটি ব্যতিক্রম উদাহরণ দেওয়া ঠিক নয়।
খুলনা ওমেন চেম্বার অব কমার্সের সভানেত্রী ও আইনজীবী শামীমা সুলতানা শিলু বলেন, শিক্ষা,চাকুরি,ব্যবসা এমন কী বিমান-ট্রেন পরিচালনায়ও নারীর অংশগ্রহণ রয়েছে। সেখানে রাজনীতিতে অবস্থা খুব ভালো নয়। যাঁরা রাজনীতিতে রয়েছেন তাঁদের বেশির ভাগই আত্মীয় ও পারিবারিক পরিচিতি থেকে আসেন। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে তৃণমূলের নারীরা পিছিয়ে পড়ছেন। এ অবস্থার পরির্তনের জন্য মানষিকতার পরিবর্তন খুব জরুরী। না হলে আরপিও বাস্তবায়ন অসম্ভব হবে।তিনি আরো বলেন এক্ষেত্রে আমি মনে করি নারীদের বিভিন্ন জায়গায় কর্মকাণ্ড এগিয়ে রাখলেও নির্বাচনী ক্ষেত্রে আসন ভিত্তিক বিন্যাসে নারীদের অধিকার ও সমান পর্যায়ে দেওয়া উচিত।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত