
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১২:২৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৬, ২০২৫, ৪:০২ এ.এম
ঝিকরগাছার দুর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর আখের গুছিয়ে নিয়ে আজ অবসরে যাচ্ছেন

যশোরের ঝিকরগাছার উপজেলার সেই দুর্নীতিবাজ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞা চাকুরীকালীন সময়ে তিনি ঝিকরগাছার উপজেলায় প্রথমে ২০০৩ সালে ০২ মার্চ যোগদান করে ২০০৪ সালে ০৬ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে চলে যান। এরপর ঝিকরগাছা উপজেলার অনেক জানা মধুর সন্ধানের খোঁজে ২০২২ সালের ২১ জুন দ্বিতীয় বারের জন্য দায়িত্ব পালন করতে আসেন। ০৮ মার্চ তার অবসরে যাওয়া শেষ দিন কিন্তু উক্ত তারিখ শনিবার সরকারি ছুটি হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সরকারী চাকুরীর পেশা থেকে অবসরে চলে যাচ্ছেন তিনি। সে ঝিকরগাছায় দ্বিতীয় বারের মত যোগদানের পর চাকুরীর মেয়াদ শেষের দিকে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ মামলা চলমান থাকার পরেও ২০২৫ সালের ০১ জানুয়ারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকটতম কর্মকর্তা হওয়ার কারণে ঝিকরগাছা উপজেলাসহ তাকে পার্শ্ববর্তী যশোর সদর উপজেলা, শার্শা উপজেলা ও চৌগাছা উপজেলার দায়িত্ব দেন। আর এই সুযোগে দুর্নীতিবাজ ঝিকরগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞা তার আখের গুছিয়ে নিয়েছেন বলে একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়ে একাধিক সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেও শিক্ষা বিভাগের উদ্ধোর্তন কর্মকর্তাদের নিরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। অফিস সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে দুদককে মামলা চলমান থাকারপরও মঙ্গলবার (০৪ মার্চ) মামলা নেই মর্মে প্রত্যায়ন পত্র দিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। আর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকটতম আর্শীবাদ স্বরূপ দায়িত্ব গ্রহণ করেই ঝিকরগাছায় তপন কুমার মন্ডল, শার্শায় বাচ্চু, সদরে মুজিবর ও চৌগাছায় বিশারতকে ক্যাশিয়ার হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি আজ থেকে অবসরে যাওয়ার পর তার সাথে মিলে থাকা ক্যাশিয়ার গুলোর কি অবস্থা হবে এটা নিয়ে জনমতে বিভিন্ন প্রকার প্রশ্ন উদিও মান থাকতে দেখা যায়।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি ১৩ ফেব্রুয়ারী শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ৪র্থ শ্রেনির কর্মচারী বাচ্চু বিশ্বাসের মাধ্যমে ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে অফিসে ডেকে দেন দরবার করেন। উপজেলা অফিসে বসেই বাইরে প্রকাশ না করার শর্তে চুক্তির মাধ্যমে বাচ্চুর নিকট টাকার লেনদেন সম্পন্ন করা হলে তথ্য জেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করেন অনলাইনের মাধ্যমে। শিক্ষা অফিসার তিনি কোন অফিসে গেলে সেই অফিস থেকে টিএডিএ বা যাতায়াত হিসেবে ২হাজার টাকা করে নেন বলে অফিস সূত্র জানা যায়। এ বিষয়ে একজন কর্মকর্তা সংবাদকর্মীদের নিকট জানতে চান আমাদের অফিসের গোপনীয় খবর আপনারা কি করে পান। শার্শার সেতাই মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিও ভূক্ত হয় (মাধ্যমিক পর্যায়ে) ২০১৯ সালে। ঐ প্রতিষ্ঠানের ২০১৫ সালে নিয়োগকৃত মোঃ শহিদুল ইসলাম ও মোঃ জাহাঙ্গীর কবিরের নিয়োগে সমস্যা থাকায় এ পর্যন্ত এমপিও ভূক্ত হতে পারেনি। এই শিক্ষকদের তথ্য অনলাইনের মাধ্যমে ৬ তারিখ জেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করে। শাখা অনুমোদন না থাকায় এবং ভূয়া অনুমোদন কপি সংযুক্ত করায় ১৫ তারিখ বাতিল হয়ে যায়। পরে বাচ্চু বিশ্বাসের মাধ্যমে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে টাকায় রফাদফায় ১৬ তারিখ জেলা শিক্ষা অফিসে আবার তথ্য প্রেরণ করেছেন। অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, ২০১৯ সালে টেংরা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় সহকারি লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ হয়। সনদপত্র ভূয়া থাকায় সাবেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঐ তথ্য জেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করেননি। বর্তমানে ঐ শিক্ষক বেতনের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে তথ্য জেলা অফিসে প্রেরণের জন্য সভাপতির স্বাক্ষর আনতে গেলে এতোদিন পরে কেনো স্বাক্ষর লাগবে জানতে চান এবং সব জেনে শুনে সভাপতি সাফ জানিয়ে দেয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিশ্চিত হয়ে প্রত্যয়ন পত্র দিলে আমি স্বাক্ষর করে দিবো। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেড় লাখের অধিক টাকার বিনিময়ে প্রত্যয়ন পত্র ইতিমধ্যে প্রদান করেছেন। ঘিবা দাখিল মাদ্রাসা নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিও ভূক্ত হওয়ায় পূর্বে সহকারি লাইব্রেরিয়ানে ভূয়া নিয়োগ দেখিয়ে বেতন ভাতাদির জন্য তিনি অংঙ্গীকার করেছেন। নিয়োগের বিষয়ে তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চৌধুরী মোঃ হাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ ধরণের কোন নিয়োগ আমার কর্মরত সময়ে হয়নি। নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল শীটে স্বাক্ষর আছে বললে তিনি জানান তাহলে ওই স্বাক্ষর জাল বা স্ক্যান করা। যশোর সদর উপজেলার বলরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন মোঃ আজগর আলী ১৯৯৯ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত। ২০২০সালে যশোর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন সময়েও তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালে হলে এমপিওভুক্তি হলে কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞা জালিয়াতি করে ১২ জন শিক্ষককে এমপিওভুক্তির চেষ্টা করেন পরবর্তীতে তৎকালীন উপ পরিচালক নিভারানী পাঠক এবং জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম খালেক তদন্ত করে জাল জালিয়াতির জন্য কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞাকে দায়ী করে প্রতিবেদন দেয়ার কারণে এমপিওভুক্ত করতে পারেননি কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞা জেনে অলিউল্লাহ নামে এক ব্যক্তির কাগজপত্র জালিয়াতি করে তৈরি করে ফেব্রুয়ারি /২৫ মাসে এমপিওভুক্তির জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট আবেদন প্রেরণ করেছেন। যেখানে যশোর সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে তার পরামর্শে। জালিয়াতির অভিযোগ উঠা ফাইল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে স্কুলের প্যাডের উপর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বাংলা) মোছাঃ লায়লা পারভীন। এছাড়াও একই উপজেলার মাহিদিয়া সম্মিলনী মহিলা আলিম মাদ্রাসাটি ০১/০৭/২০১৯ তারিখে আলিম স্তর এমপিওভুক্ত হয়। জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী দাখিল মাদ্রাসা আলিম মাদ্রাসায় উন্নীত হলে দাখিল মাদ্রাসার সুপার আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং দাখিল মাদ্রাসার সহ সুপার আলিম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হবেন কিন্তু উক্ত মাদ্রাসার সুপার অধ্যক্ষ হিসেবে এমপিও ভুক্ত হয়েছেন কিন্তু সহ সুপার আলিম মাদ্রাসায় সহ সুপার পদ না থাকা সত্ত্বেও সহ সুপার পদে রয়েছেন এবং বিধি বহির্ভূতভাবে বেতন ভাতা পেয়ে যাচ্ছেন। একজন সহকারি মৌলভীকে বিধি বহির্ভূত ভাবে উপাধ্যক্ষ পদে বাড়িতে বসে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞা এমপিওভুক্ত করে দিয়েছেন। অপরদিকে বিজ্ঞান বিভাগ না থাকা সত্বেও আলিম পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগে ৪ জন শিক্ষককে নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ জালিয়াতি করে নিয়োগকৃত শিক্ষকদেরকে কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞা এমপিও ভুক্ত করে দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে যশোর জেলার জেলা প্রশাসক মহোদয় অধ্যক্ষসহ জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিও বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেন। মাদ্রাসা অধিদপ্তর পুনরায় তদন্ত করে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৫ জন শিক্ষকের বেতন ভাতা বন্ধ করেন। আলিম মাদ্রাসায় সহ সুপার পদ নেই তাই সহ সুপারকে বিধি বহির্ভূত ভাবে সহকারী অধ্যাপক পদে এমপিওভুক্ত করার জন্য কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞার পরামর্শে আবেদন করেছে। তাছাড়া বাজে দুর্গাপুর দাখিল মাদ্রাসা ও নারাঙ্গালী দাখিল মাদ্রাসার যে সমস্ত ফাইল পূর্ববর্তী অফিসার প্রেরণ করেননি অনিয়ম থাকার কারণে সে সকল ফাইল কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞা মাহিদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফারুক হোসেনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সে সকল ফাইল এমপিওভুক্তি করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
ঝিকরগাছাসহ অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞা বলেন, আমার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান আছে। মামলা নেই সংক্রান্ত জেলা অফিস থেকে প্রত্যায়ন নেওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ওটা নেওয়া হয়নি, আজ তবে নিবো। আমার শেষ সময় এ সব নিয়ে আর ঝামেলা করার দরকার নেই। আমি আজ ঝিকরগাছায় নেই। আমি আগামীকাল ঝিকরগাছায় এসে আপনার সাথে কথা বলবো। বিদায় সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামীকাল শিক্ষকরা সম্ভাব্যত আমাকে বিদায় দিবেন।
যশোর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান দুদকের মামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টা আমি জানি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা থাকলে বেতন ভার্তা বন্ধ হয়ে যেতো। কিন্তু ফৌজদারী মামলা থাকলে কোন সমস্যা নেই। প্রত্যায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি সকল কাগজপত্র দিলে তাকে প্রত্যায়ন দেওয়া হবে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত