
হানিফ ঢালী ,গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি: টঙ্গী পূর্ব থানার ৪৬ নং ওয়ার্ডের সৈলারগাতি এলাকায় এক গার্মেন্টস শ্রমিককে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ছাদে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক জনের বিরুদ্ধে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
টঙ্গীর হিমারদিঘীস্থ সৈলারগাতী এলাকার বাসিন্দা মৃত শামসুল ইসলামের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৫), দীর্ঘদিন যাবৎ একই এলাকা বাসিন্দা লুৎফর রহমানের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। ভূক্তভোগী কর্তৃক টঙ্গী পূর্ব থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে দুপুরের খাবার শেষে নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় পূর্বপরিকল্পিত ভাবে অভিযুক্ত একই এলাকার বাসিন্দা আরিফ মাদব্বর (৩৭), প্রান্ত (২৫), মজিদ (৪৭), শাহাজাদা (২২) ও পমিজ (২৭)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জন তার বাসায় এসে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায় এবং পরে আরিফ মাদবরের বাসার ছাদে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করে। মারধরের একপর্যায়ে মজিদ মিয়া অপহৃতার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও নগদ ৭ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে জানান।
এছাড়া আরিফ, প্রান্ত ও শাহাজাদা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতরে ঢুকিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করে এবং তার প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। নির্যাতনের সময় অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলে, টাকা না দিলে নির্যাতন অব্যাহত থাকবে এবং থানায় অভিযোগ করলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে তুরাগ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। পরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার টহলরত পুলিশ আরিফ মাদবরের বাড়িতে উপস্থিত হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সুযোগে ভিকটিম সাইফুল বাসার ছাদ থেকে দৌড়ে পুলিশের কাছে আশ্রয় নেয়। পরে টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই মঈন অপহৃত যুবকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় টঙ্গী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ভুক্তভোগী তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা খারাপ প্রকৃতির লোক হওয়ায় যে কোনো সময় তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এ ঘটনায় তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত আরিফ মাতব্বরের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়ানি। পরবর্তীতে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। বিধায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত