
স্ত্রীর করা মামলায় পলাতক থেকে নিজের টাকায় ক্রয়কৃত জমি ও বাড়ি বোন ও বোন জামাইয়ের নামে লিখে দেয়ার পর ফেরৎ না দিয়ে উল্টো সহদোর ভাইকে বিভিন্ন ভাবে মামলা ও হামলা দিয়ে হয়রানীসহ বাড়ীঘর জবর দখলের পায়তারাসহ এবার দোকান দখল করে রাজনৈতিক একটি দলের ব্যাণার টানিয়ে অফিস করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সহোদর ভাই হানিফ মাহমুদ স্ত্রীর সাথে মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে এবং স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পালিয়ে থাকা অবস্থায় জীবনের ভয়ে এবং আত্বীয়-স্বজনের পরামর্শে তার নিজ টাকায় ক্রয়কৃত টঙ্গীর পাগাড় সালামের আটারকলস্থ স্থাবর অস্থাবর বাড়িঘর ও জমিজমা অছিয়তনামা দলিল মূলে মা, ছোট বোন এবং বোন জামাই জসিম উদ্দিনের নামে লিখে দেন এবং ক্রয় করেন। আজ সেই বাড়ি জমি তার জীবনের অশান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। ছোট বোন এবং বিদেশ ফেরৎ বোন জামাই জসিম উদ্দিন সেগুলো ফেরৎ দেয়ার কথা থাকলেও ফেরৎ না দিয়ে নিজেদের দাবী করে বাড়ি বিক্রির পায়তারাসহ স্থানীয় কতিপয় লোকজন নিয়ে সেগুলো দখলে নিতে বেপোরোয়া হয়ে উঠে। ভাই হানিফ মাহমুদকে প্রতিনিয়ত বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে প্রাণনাশ ও বাড়িঘর ছাড়ার হুমকিসহ ভাইকে মারধর করে আহত করা, বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভাংচুর, দোকানঘর দখলে নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের অফিস করার অভিযোগ উঠেছে টঙ্গীর পাগাড় এলাকার তাসলিমা আক্তার ও তার স্বামী জসিম উদ্দিনের নামে।
হানিফ মাহমুদ কর্তৃক একাধিক অভিযোগ ও সাধারণ ডায়রীসহ আদালতে দায়ের করা মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সাল ও পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে হানিফ মাহমুদ নিজ অর্থে ৩টি জমি ক্রয় করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণপূর্বক বাড়িঘর করে এবং ভাড়াটিয়া উঠিয়ে ভোগদখল করছেন। জমিগুলো ক্রয় এবং রেজিষ্ট্রিকালে হানিফ মাহমুদ পারিবারিক মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়ায় জমিগুলো তার স্নেহের ছোট বোন তাসলিমা আক্তার লিলির নামে রেজিস্ট্রি করেন এবং বহুতল বাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখলে থাকেন। জমিগুলো রেজিস্ট্রির সময় কথা ছিলো, হানিফ মাহমুদের নামে তার স্ত্রীর করা মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর বোন লিলি, বোন জামাই জসিম মিলে সেই বাড়ি ও জমি সকল কিছু ভাই হানিফকে ফেরৎ দিবেন। কিন্তু বোন তাসলিমা আক্তার লিলি এবং বোন জামাই জসিম উদ্দিন তা না করায় ভাই বোনের মধ্যে এনিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে আত্বীয় স্বজনসহ স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে একাধিকবার বিচার শালিস বসে, এমনকি থানায় ও পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে একাধিকবার উভয়পক্ষ বসেন। এত বিষয়টি মিমাংশা না হওয়ায় হানিফ মাহমুদ বিজ্ঞ আদালতের আশ্রয় নেন এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত সহকারী জজ আদালত [টঙ্গী] গাজীপুর বরাবর দেওয়ানী মো: নং-৪৫৮/২০২৩ রজু করেন। ৮ জানুয়ারী ২০২৪ ইং বিজ্ঞ অতিরিক্ত সহকারী জজ আদালত [টঙ্গী] গাজীপুর অত্র মোকদ্দমায় ৩টি বাড়ির উপর হানিফ মাহমুদের পক্ষে এবং বিবাদীর বিরুদ্ধে আনীত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার অত্র দরখাস্তটিতে দোতরফা শুনানী অন্তে পরিবর্তীত আকারে অত্র মোকদ্দা নিষপত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশী সম্পত্তির উপর কোন প্রকার হস্তান্তর দলিল সৃষ্টি, নালিশী সম্পত্তির আকার আকৃতি পরিবর্তন করা হতে উভয় পক্ষকে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু বিবাদীপক্ষ তাসলিমা আক্তার লিলিগং গত ৯, ১৭, ২৪ জানুয়ারী অজ্ঞাতনামা লোকজন নিয়ে বাড়ির টু-লেট, আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার নোটিশ ছিড়ে ফেলে এবং বাদী হানিফ মাহমুদসহ তার পরিবারের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকিসহ পরিবারের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিশৃংখা সৃষ্টি করেন। গত ১ মার্চ শুক্রবার দুপুর ১টায় বাড়ির ভাড়াটিয়া উঠা-নামাকে কেন্দ্র করে হানিফ মাহমুদের বোন তাসলিমা আক্তার লিলি ও বোন জামাই জসিম উদ্দিনগং মিলে হানিফ মাহমুদকে বেদড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং প্রাণনাশসহ বিভিন্ন হুমকি প্রদান করেন বলে হানিফ মাহমুদ টঙ্গী পূর্ব থানায় অভিযোগ করেন। এছাড়াও হানিফ মাহমুদকে ফ্ল্যাট দেয়ার কথা বলে মো জসিম উদ্দিনতার নিজস্ব সাউথইষ্ট ব্যাংক লি: এর একাউন্ট নম্বও ০০১১১০০০০০২১৯ এর চারটি ব্যাংক চেক প্রদানের মাধ্যমে ২০১৬ সালে ৯ ফেব্রুয়ারী ১০ লাখ,১৪ ফেব্রুয়ারী ১০ লাখ,২০ফেব্রুয়ারী ৬ লাখ এবং ২২ফেব্রুয়ারী ১০ লাখ নেন। টাকা নেয়ার পর ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে এবং টাকা ফেরৎ না দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেন এবং হানিফ মাহমুদকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করতে থাকেন। ২০২৪ সালে হানিফ মাহমুদ চেক ডিজনারের মাধ্যমে গাজীপুরস্থ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং-৬৪৫/২৪ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটির শোনানি শেষে জসিম উদ্দিনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ গত ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন। ২৪ ফেব্রুয়ারী আদালতে শর্ত মোতাবেক ১০ দিনের জামিনে বেরিয়ে এসে বাড়ির উপর ষ্টোটাস কোর্টে মামলা চলমান অবস্থায় জসিম উদ্দিন বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভাংচুরসহ বাড়িগুলো জবর দখলে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এদিকে আদালতের শর্ত পূরণ না করায় চেক ডিজনার মামলায় আদালত পূণরায় গত ৯ মার্চ ২০২৫ তার জামিন নামুঞ্জুর করে কারাগাওে প্রেরণ করেন। এঘটনার পর জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী ক্ষীপ্ত হয়ে গত ১৫ মার্চ ২০২৫ বিকেলে বাড়ির নীচে একটি দোকান ঘর {যা দীর্ঘদিন যাবৎ হানিফ মাহমুদ স্থানীয় নুরু নামে এক জনের কাছে চুক্তিনামার মাধ্যমে ভাড়া দিয়েছেন} সেটি স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে দখল পূর্ব বিএনপি অফিস করার পায়তারা চালান। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পওে উভয় পক্ষ টঙ্গী পূর্ব থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
স্থানীয়রা জানান, ভাই বোন ও বোন জামাইয়ের জমি-জমা বাড়িঘর সংক্রান্ত এ দন্ধ এলাকায় বিশৃংখলার সৃষ্টি হচ্ছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে। যা কারো কাম্য নয়। স্থানীয়রা সামাজিক অথবা আইন আদালতের মাধ্যমে দ্রুত এর সমাধান হোক প্রত্যাশা করেন। হানিফের ছোট তাসলিমা আক্তার লিলি বলেন, আমার নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমি জবরদখল করে রেখেছে, ভোগদখল করছে। বাড়ি জমি আমার ও আমার স্বামীর নামে, খাজনা খারিজ আমাদের নামে, আমার স্বামী বিদেশ থাকাকালীন হানিফকে দিয়ে এগুলো কেনাসহ নির্মাণ করিয়েছেন। এখন তিনি এগুলো দাবী করলেই হবে। হানিফ মাহমুদ আমাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করছেন। আমরা এর সুষ্ট বিচার চাই। হানিফ মাহমুদ জানান, আমার টাকায় ক্রয়কৃত জমি, আমার টাকায় নির্মাণকৃত বহুতল বাড়ি আমার দখলে থাকা সত্বেও তাসলিমা ও তার স্বামী জসিম আমার উপর বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার করছে, আমাকে তারা মারধর করে আহত করেছে। আমি শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আমার দায়ের করা আদালতে মামলাসহ থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। আইনের বিচার যেদিকে যাবে আমি মেনে নেবো।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত