
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১১:৪৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৩১, ২০২৬, ৮:৪২ পি.এম
ডিমলায় গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতি: সড়ক অবরোধ করে লুটপাট, গ্রেপ্তার-১

মফিজুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে চালক-যাত্রীদের জিম্মি করে ব্যাপক লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ডাকাতদলের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৯ মার্চ) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়া-জলঢাকা ও ডিমলা-ডোমার সড়কের স্লুইসগেট (সুইচগেট) এলাকায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল আগে থেকেই অবস্থান নেয়। তারা সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ও বিভিন্ন বস্তু ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
পরে একে একে চলাচলকারী ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল থামিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে চালক ও যাত্রীদের জিম্মি করে। এ সময় অন্তত ৫০টি মোবাইল ফোন, প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করা হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
ডাকাতরা কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে এবং যাত্রীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যারা দ্রুত জানালা খুলতে দেরি করেছেন বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের ওপর বেশি নির্যাতন চালানো হয়।
ঘটনার সময় রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ডিমলা থানায় খবর দেন। পরে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়, তবে যাওয়ার আগে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ডিমলা থানা ও র্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারীতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে ডিমলা উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রাম থেকে নুরল হকের ছেলে আ. মালেক (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ডিমলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরিতোষ রায় বলেন, “এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ওই সড়কে নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার এবং দ্রুত সব ডাকাতকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত