
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১১:২৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২৯, ২০২৬, ১২:৪১ পি.এম
ডিমলায় জমি নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা: গাছ কেটে দখলের অভিযোগ,থানায় এজাহার

মফিজুল ইসলাম,প্রতিনিধি নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে গাছ কেটে দখলচেষ্টা, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ আনারুল ইসলাম ডিমলা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। একই বিরোধে পূর্বে মোঃ বিপ্লব হোসেনও থানায় অভিযোগ করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছাতনাই বালাপাড়া মৌজার জে.এল নং-০৮, খতিয়ান নং-৫৫৯, সাবেক দাগ নং ১৫৮৫ ও ১৫৮৬ এবং ডিপি খতিয়ান ৩১৩৬, হাল দাগ নং ২০৩৭ ও ২০৪১-এ অবস্থিত জমির ৬ শতক ওয়ারিশসূত্রে এবং ১৯৮৪ সালের ৭৮৩৭ নং কবলা দলিলমূলে আরও ৪.৭৫ শতক জমির মালিকানা দাবি করেন আনারুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জমিটি জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ মার্চ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত আইনুল ইসলাম, খায়রুল ইসলামসহ মোট ১০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে নিজেদের মালিকানা দাবি করেন।
এসময় তারা জমিতে থাকা প্রায় ২০টি ফলন্ত সুপারি গাছ উপড়ে নিয়ে যায় এবং আরও প্রায় ৫০টি চারা গাছ উপড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন করে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে। এসময় তার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা এবং সুযোগ পেলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে মোঃ বিপ্লব হোসেনও জমি ক্রয় ও ভোগদখল সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ফলে জমিটির মালিকানা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিমলা থানার একটি সূত্র জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী আনারুল ইসলাম ও তার পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত