নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ২নং বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় একটি বাড়ির মাটির গর্তথেকে আরিফ হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় অপহরণের পর তাকে হত্যা করে মরদেহ কার্টনে ভরে ডিমলায় গ্রামের বাড়িতে এনে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল—এমন অভিযোগের সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামুন ইসলাম বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ডিমলার গ্রামের বাড়িতে সম্ভাব্য মরদেহ পুঁতে রাখার স্থান শনাক্ত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিনভর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে ওই বাড়ির গর্তে তল্লাশি চালানো হয়। পরে মাটির নিচ থেকে একটি কার্টন সদৃশ প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। সেটি খুললে মরদেহ পাওয়া যায় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।
ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের ধারণ করা ছবিতে দেখা যায়, মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা মরদেহটি একটি বড় কার্টন ও প্যাকেটজাত অবস্থায় ছিল। কার্টনের আশপাশে বিভিন্ন ধরনের ওষুধের বোতল ও ওষুধজাতীয় সামগ্রীও দেখা গেছে। মরদেহটি উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
কার্টনে ভরে মরদেহ আনার অভিযোগ,
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আরিফ হোসেনকে ঢাকায় অপহরণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর তার মরদেহ একটি বড় কার্টনের মধ্যে রেখে বিভিন্ন ধরনের ওষুধের বোতল ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সেটি এমনভাবে প্যাক করা হয়, যাতে বাইরে থেকে সহজে বোঝা না যায় কার্টনের ভেতরে কী রয়েছে।পরে কোনো একটি যানবাহনে করে ওই কার্টন ডিমলার ছাতনাই বালাপাড়া ডাঙ্গাপাড়ায় মামুন ইসলামের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং বাড়ির একটি স্থানে গর্ত করে তা মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।তবে মরদেহ পরিবহন, হত্যার স্থান, হত্যার কারণ এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয় এখনো তদন্তাধীন।
কে এই আরিফ হোসেন? স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত আরিফ হোসেন টাঙ্গাইলের ঘাটাল এলাকার একটি ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাকে ঢাকায় অপহরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।তবে আরিফ হোসেনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বয়স, নিখোঁজ হওয়ার তারিখ এবং অপহরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশ হেফাজতে মামুন,ঘটনার সূত্রপাত হয় মামুন ইসলামকে ঘিরে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ আফসার আলীর ছেলে মামুন ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করতেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকায় অপহরণ, মানুষকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় ও হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।এসব অভিযোগের তদন্তের একপর্যায়ে মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলায় গ্রামের বাড়ির একটি স্থানে মরদেহ পুঁতে রাখার বিষয়টি সামনে আসে বলে জানা গেছে।পুলিশ পরে ওই স্থান শনাক্ত করে তল্লাশি চালায় এবং গর্ত থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর,মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত ও ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
ঘটনাস্হলে পুলিশের সঙ্গে প্রশাসন ও জনপ্রতিধিরা,মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট সদস্য, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। অনেককে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়।
স্হানীয়দের মাঝে নানা আলোচনা
এদিকে মামুন ইসলাম ও তার বাবা মোঃ আফসার আলীকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মামুন ও তার বাবা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত এবং তারা স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত।
তবে তাদের সাংগঠনিক পদ-পদবি কিংবা এ ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি কেবল স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয়দের মধ্যে মোঃ আফসার আলীর সম্পদ বৃদ্ধি নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। ডাঙ্গারহাট বাজারে তার একটি চালের দোকান রয়েছে এবং তিনি চাল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে তার সম্পদের উৎস বা এ বিষয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।
তদন্তেই বেরিয়ে আসবে আসবে প্রকৃত রহস্য,
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও এখনো পর্যন্ত হত্যার উদ্দেশ্য, হত্যার স্থান, কারা হত্যার সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে মরদেহ ঢাকায় থেকে ডিমলার ওই বাড়িতে আনা হয়েছিল—এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
মরদেহ উদ্ধারের পর ফরেনসিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান কার্যালয়: ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, পল্টন মডেল থানা, ঢাকা-১০০০।
হটলাইন: 09643-230220, মুঠোফোন: 01915-708187, মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@Copyright & reserved by NAGORIK BHABNA