প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১২:০৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১১:১০ এ.এম
![]()
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ:
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৩ অক্টোবর ২০২৬-এর ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৪ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জন। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১৬ জন।
এই পরিসংখ্যান শুধু একটি সংক্রামক রোগের বিস্তারের চিত্র নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিচ্ছন্নতা, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত সচেতনতার ঘাটতি মোকাবিলারও তাগিদ দেয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল মৌসুমি অভিযান বা সাময়িক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সারা বছর মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, কার্যকর চিকিৎসাসেবা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
ডেঙ্গুর বর্তমান চিত্র ও উদ্বেগের কারণ
চলতি বছরের প্রথম সাড়ে নয় মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৬। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে।
তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা মোট সংক্রমণের পূর্ণ চিত্র নয়। অনেক রোগী উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নেন, আবার কেউ কেউ পরীক্ষা না করায় সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হন না। ফলে প্রকৃত সংক্রমণ আরও বেশি হতে পারে।
ডেঙ্গু ভাইরাসবাহী এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার, পানির ট্যাংক ও নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। তাই শুধু নর্দমা বা নোংরা পানি পরিষ্কার করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
নারী-পুরুষ উভয়ই ঝুঁকিতে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১ হাজার ১৭৪ জন পুরুষ এবং ৭৮০ জন নারী। একই সময়ে মারা গেছেন ৫ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী।
পরিসংখ্যানে পুরুষ রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও নারী ও পুরুষ উভয়েরই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার এবং জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি কিংবা বাইরে চলাফেরার সময় এডিস মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা জরুরি।
নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে অসুস্থতার লক্ষণ ও শারীরিক অবস্থা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তবে যেকোনো বয়সের মানুষই গুরুতর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন।
শিশু-কিশোর থেকে তরুণ—কেউ নিরাপদ নয়
গত ২৪ ঘণ্টার বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানেও ডেঙ্গুর বিস্তৃত প্রভাব স্পষ্ট। শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১১৯ জন, ৬–১০ বছর বয়সী ১২২ জন এবং ১১–১৫ বছর বয়সী ১২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ১৬–২০ বছর বয়সীদের মধ্যে ভর্তি হয়েছেন ২৫১ জন। সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ২১–২৫ বছর বয়সী গোষ্ঠীতে—২৮৫ জন। ২৬–৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে ভর্তি হয়েছেন ২৬১ জন।এ ছাড়া ৩১–৩৫ বছর বয়সী ১৬৬ জন, ৩৬–৪০ বছর বয়সী ১৭২ জন এবং ৪১–৪৫ বছর বয়সী ১২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ৪৬–৫০ বছর বয়সী ৮৪ জন, ৫১–৫৫ বছর বয়সী ৭৬ জন, ৫৬–৬০ বছর বয়সী ৬৪ জন এবং ৬১–৬৫ বছর বয়সী ৫১ জনও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। ৬৬–৭০ বছর বয়সী ২২ জন, ৭১–৭৫ বছর বয়সী ১৬ জন, ৭৬–৮০ বছর বয়সী ৮ জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী ৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, ডেঙ্গু কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে শিশুদের জ্বরকে অবহেলা করা উচিত নয়। আবার তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান কী বার্তা দিচ্ছে
গত ২৪ ঘণ্টায় শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী একজন, ২১–২৫ বছর বয়সী দুজন, ২৬–৩০ বছর বয়সী তিনজন, ৩৬–৪০ বছর বয়সী একজন, ৪৬–৫০ বছর বয়সী একজন এবং ৫১–৫৫ বছর বয়সী একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বয়সভিত্তিক এই তথ্য দেখায়, তরুণ ও মধ্যবয়সী মানুষের মধ্যেও ডেঙ্গু প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই বয়স কম বলে ঝুঁকি নেই—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে রোগের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে বারবার বমি, তীব্র পেটব্যথা, নাক-মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, রক্তবমি বা কালো পায়খানা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বর কমে গেলেই রোগী বিপদমুক্ত হয়েছেন—এমন ভাবা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমার পরবর্তী সময়েই জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ডেঙ্গুর লক্ষণ ও রোগ নির্ণয়
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমিভাব, বমি এবং ত্বকে ফুসকুড়ি। তবে সব রোগীর একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে গুরুতর লক্ষণ ছাড়াও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে।
জ্বরের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হতে পারে। অসুস্থতার সময়কাল বিবেচনায় অ্যান্টিবডি পরীক্ষা এবং রক্তের পূর্ণাঙ্গ গণনাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা করা হয়। শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখে রোগীর অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না; রক্তচাপ, রক্তক্ষরণ, প্রস্রাবের পরিমাণ, রক্তের হেমাটোক্রিট এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করা জরুরি।
ডেঙ্গু সন্দেহ হলে নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষত অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন ও অন্যান্য প্রদাহনাশক ব্যথার ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জ্বর কমাতে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ঔষধ ব্যবহার করা যায়। রোগীকে পর্যাপ্ত তরল পান করাতে হবে; তবে গুরুতর অসুস্থতা বা তরল গ্রহণে সমস্যা হলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।
এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ঘর থেকেই শুরু হোক উদ্যোগ
ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এ জন্য প্রত্যেক পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
১. ফুলের টব, বালতি, ড্রাম ও পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে।
২. পানির ট্যাংক ও সংরক্ষণপাত্র ঢেকে রাখতে হবে। পাত্রের ভেতরের দেয়ালও নিয়মিত ঘষে পরিষ্কার করতে হবে, কারণ মশার ডিম পাত্রের গায়ে লেগে থাকতে পারে।
৩. ছাদ, বারান্দা, বাড়ির আঙিনা ও নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
৪. পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য আবর্জনা যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে।
৫. দিনের বেলায়ও এডিস মশা কামড়াতে পারে। তাই পূর্ণহাতা পোশাক, মশারি এবং অনুমোদিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করতে হবে।
৬. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, হাসপাতাল, বাজার ও নির্মাণস্থলে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে হবে।
শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি প্রয়োজনভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
সরকারি উদ্যোগ ও নাগরিক দায়িত্ব
ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত মশার ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ, প্রজননস্থল শনাক্তকরণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় শয্যা, পরীক্ষার ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত জনবল ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করা জরুরি। রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতির আশঙ্কা থাকলে দ্রুত মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
একই সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত এলাকার তথ্য নিয়মিত প্রকাশ, মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা এবং রোগের বিস্তার বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা সম্ভব। স্থানীয় পর্যায়ে কোন এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে, কোথায় মশার প্রজনন বেশি এবং কোন জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে—এসব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। বাড়ির আশপাশে পানি জমতে দেখলে তা অপসারণ করতে হবে। নিজের বাসা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। কোথাও মশার প্রজননস্থল বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।
আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসা
ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিরাপদ তরল এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচর্যা দিতে হবে। শিশু, প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত, যাতে মশা আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে না পারে। রোগীকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখাও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হোমিও সমাধান
হোমিওপ্যাথির মূলনীতি হলো—রোগ নয়, রোগীর চিকিৎসা"। এই নীতির আলোকে ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে শুধু জ্বরের মাত্রা নয়, বরং রোগীর শারীরিক গঠন, রোগের পর্যায়, তৃষ্ণা, দুর্বলতা, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, মানসিক অবস্থা, রক্তক্ষরণের প্রবণতা এবং সামগ্রিক লক্ষণ বিবেচনা করে একজন নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ওষুধ নির্বাচন করে থাকেন।ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। ডেঙ্গু হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে চাইলে তা অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ও নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী অভিজ্ঞ চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে যেসব হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন করে থাকেন:ইউপেটোরিয়াম পারফোলিয়াটাম , জেলসেমিয়াম, ব্রায়োনিয়া, বেলাডোনা, রাস টক্স আর্সেনিকাম অ্যালবাম, ফসফরাস, চায়না, ক্রোটালাস হরিডাস, হ্যামামেলিস প্রভৃতি।
সতর্কতা * উপরোক্ত কোনো ওষুধই রোগের নামের ভিত্তিতে নিজে নিজে সেবন করা উচিত নয়; রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণ ও সামগ্রিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসক ওষুধ নির্বাচন করেন। * হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণের আগে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত ও অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
* ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পরিশেষে বলা যায়, ডেঙ্গু এখন বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে এক লাখ তিন হাজারের বেশি রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং ৩১৬ জনের মৃত্যু ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু রোগীর চিকিৎসা নয়, বরং এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করাও জরুরি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও বিপদের লক্ষণ দেখা দিতে পারে—এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতনতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব। সম্মিলিত দায়িত্বশীল উদ্যোগের মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে সুস্থ, নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ।
লেখক : কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান : জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি