
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২০, ২০২৬, ৪:৪৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৩, ২০২৫, ৫:৩৬ পি.এম
ত্যাগ-গৌরবের ইতিহাসে ফিরে দেখা মহিমান্বিত দিন

কুমিল্লার দেবিদ্বার, ৪ ডিসেম্বর— আজ দেবিদ্বার হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় কুমিল্লার দেবিদ্বার। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোতে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে কুমিল্লার বিভিন্ন অঞ্চল একে একে হানাদারমুক্ত হতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ৪ ডিসেম্বর মুক্ত হয় দেবিদ্বার। ওইদিন মুক্তিবাহিনী কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ সেতুতে শক্তিশালী মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা ধ্বংস করে। মিত্রবাহিনীর ২৩ মাউন্টেন ডিভিশনের জেনারেল আর. ডি. হিরার নেতৃত্বে বৃহত্তর কুমিল্লায় পরিচালিত হয় এই বিশেষ অভিযান। বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া হয়ে মিত্রবাহিনীর একটি ট্যাংক বহর দেবিদ্বারের দিকে অগ্রসর হলে রাতের আঁধারেই পাক হানাদাররা পালিয়ে আশ্রয় নেয় কুমিল্লা সেনানিবাসে।
মুক্তাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে দেবিদ্বার থেকে চান্দিনা অভিমুখে যাওয়ার সময় মোহনপুর এলাকায় ভুল বোঝাবুঝির কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মিত্রবাহিনীর ট্যাংক বহরের গুলি বিনিময় ঘটে। এ ঘটনায় মিত্রবাহিনীর ছয় সেনা শহীদ হন, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে আছে।
সেদিন দেবিদ্বারের আকাশে উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলার পতাকা। হাজারো জনতা ও মুক্তিযোদ্ধার বিজয় উল্লাসে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো উপজেলা। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেবিদ্বার ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা—কারণ খুব কাছেই ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সেনাছাউনি ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট। স্বাধীনতা ঘোষণার পাঁচ দিনের মাথায়ই এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে পাক সেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে ১৫ জন শত্রু সেনাকে হত্যা করেন; শহীদ হন ৩৩ জন বীর বাঙালি যোদ্ধা।
ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম নিরাপদ পথ ছিল দেবিদ্বার অঞ্চল। ফতেহাবাদের ‘নলআরা’ জঙ্গল ও ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের এলাহাবাদের নিজ বাড়িতে তৈরি করা হয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যার বিচারে দেবিদ্বার ছিল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুক্তিযোদ্ধা অধ্যুষিত উপজেলা।
এ অঞ্চলে পাক হানাদারদের বর্বরতার সাক্ষী হয়ে আছে ১৯ শহীদের গণকবর, পোনরা শহীদ আবুবকরের কবর, ভূষনা ও বারুর গ্রামের শহীদদের কবর, মাওলানা আলীমুদ্দিন পীরের দুটি নাতির কবর, ভিড়াল্লার শহীদ মজিবুর রহমান খানের কবর, মহেশপুরের ১৪ মুক্তিযোদ্ধার কবর, বরকামতার ২৬ শহীদের কবরসহ অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন ও স্মৃতিস্তম্ভ।
দেবিদ্বারবাসীর কাছে তাই ৪ ডিসেম্বর শুধু একটি তারিখ নয়—এটি মুক্তির আনন্দ, ত্যাগের গৌরব ও স্বাধীনতার চিরন্তন জয়গাথা।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত