ময়মনসিংহের ত্রিশাল সাব-রেজিস্টার অফিসের নকল নবীশ মাসুদ মিয়াকে গিরগিটি বললেও ভুল হবে। গিরগিটির থেকেও আরও অধিক এই ধূর্ত নকল নবীশ মাসুদ মিয়া।
গত একযুগ ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি নথিপত্র ঘাটতে ঘাটতে মাসুদ মিয়া হয়ে উঠেছিল জগদ্দল পাথর। ত্রিশাল সাব রেজিস্টার নিজেও বোধ করি জানতেন না, তারই অধিনস্ত নকল নবীশ মাসুদ মিয়া সাব রেজিস্টারের চাইতেও অনেক বড় ও ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছিল।
নকল নবীশ মাসুদ মিয়া প্রায় এক যুগেরও বেশী সময় থেকে অফিস স্টাফ সহ পুরো ত্রিশাল বাসীর কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন আর এই দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মাসুদ মিয়ার দূর্ণীতি বেড়েছিল। বেড়েছিল সীমাহীন টাকা আত্নসাৎ আর দলিলে দলিলে নয়-ছয় করে কায়েম করা নিজের অসীম বিত্তবৈভব।
অভিযোগে জানা গেছে, ত্রিশাল পোস্ট অফিস রোডে, মাসুদ মিয়া গড়ে তুলেছেন পাঁচ তলা ফাউন্ডেশনে এক আলীশান বাড়ী। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় পতিত স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নকল নবীশ মাসুদ মিয়া ওই সময়ে সাবেক আওয়ামীলীগ সরকারের গুন গান গেয়ে তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে অর্থের পাহাড়। কিন্তু অত্যন্ত দূর্ভাগ্যের বিষয় মাসুদ মিয়ার কিছুই হয়নি। সে এখন বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, বিভিন্ন জনের কাছে বিশেষ করে অফিসিয়াল স্টাফদের সাথে তার জানা শোনা, চেনা জানা, থাকার ফলে মাসুদ মিয়াকে সাব রেজিস্টার অফিসেরই একটি বড় ধরণের স্পর্শকাতর ও গোপনীয় একটি দপ্তরে আপগ্রেড করা হয়েছিল ফলে প্রকাশ্য ও গোপনীয় চোর্য্যবৃত্তি তার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অফিসে এর কোনও নজরদারি নেই বলে সংশ্লিষ্ট মহল মাসুদের পালিয়ে যাওয়া নিয়ে আশংকা প্রকাশ করছেন ।
এদিকে ধূর্ত ও ধান্ধাবাজ মাসুদ মিয়া স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের আমলে যত্তোসব অপকর্ম করেছে, সেসব ঢাকার জন্য ফেসবুক ও অনলাইনের সব জায়গাতেই লাগাতার বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি দিয়ে যাচ্ছেন এবং সুন্দর সুন্দর কমেন্ট পোষ্ট করে যাচ্ছে যাতে সবাই মনে করেন ত্রিশাল সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশ মাসুদ মিয়া এখন বিএনপির লোক।
ত্রিশাল বাসী মাসুদ মিয়াকে গিরগিটির সাথে তুলনা করে, বিদেশে যাতে পালাতে না পারে ময়মনসিংহের গোয়েন্দা সংস্হার জরুরী দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।