
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১০:৪৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬, ৬:১৫ পি.এম
দুইটি বিএনপি -দুইটিতে শক্ত অবস্থানে জামায়াত

শ.ম.গফুর,কক্সবাজার: কক্সবাজারের ৪টি আসনের ২টিতেই শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। ২টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপি-জামায়াতেদ মধ্যে।যে দুইটি আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে তৎমধ্যে বিএনপি'র টিকিট নিয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফর রহমানের মতো শক্তিশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থী রয়েছেন। অপরদিকে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ।তবে ওই আসনে জামায়াতের হামিদুর রহমান আজাদ এবং উখিয়া-টেকনাফে আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী'র দুর্গে হানা বসাতে মরিয়া জামায়াতের মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী'র সাথে তীব্র প্রতিদন্ধিতা হওয়ার আভাস মিলছে। যেমনি কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে কিছুটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করতে পারেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। এ আসটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও বিএনপি ২টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন,তা নিশ্চিত করে বলছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।এতে সালাহ উদ্দিন আহমেদ সহজে জয় পাবেন বলে মনে করছেন। কক্সবাজার-১ চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী ৩বার ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।। সব মিলিয়ে ’৯১-পরবর্তী বিএনপির দখলে ছিল এই আসনটি ৪বার।নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনটিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হাসিনা আহমদ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদকে পরাজিত করে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।এই আসনটিতে এবার বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ, যিনি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ একজন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং ওই আসনের বারবার নির্বাচিত সালাহউদ্দিন আহমদের বিপরীতে আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক। তিনি ভোটের মাঠে নবীন। আবদুল্লাহ আল ফারুকের এটিই প্রথম কোনো নির্বাচনের প্রার্থী হওয়া এবং তাও সংসদ সদস্য প্রার্থী। ফলে বিএনপির অভিজ্ঞ সালাহউদ্দিন আহমদের সামনে জামায়াত প্রার্থী কতটুকু লড়াই করবেন এবং করতে পারছেন এটাই ওই আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রুপ নিয়েছে। তবে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতবেন বলে মনে করছেন এ আসনের সাধারণ ভোটার ও দলের নেতাকর্মীরা।এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সরওয়ার আলমও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উলুবনিয়া এলাকার ভোটার ফরিদুল আলম বলেন, চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ সালাহউদ্দিন আহমেদ ছাড়া অন্য কিছু চিন্তাও করে না। কারণ এখানকার ভাগ্য বদলানোর মহাপুরুষ তিনি।তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী থাকাবিএনপি প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, চকরিয়া-পেকুয়া আমার নিজের এলাকা। আমাকে যখন গুম করা হয়, তখন দুই উপজেলার হাজার হাজার নারী-পুরুষ রোজা রেখে আমার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। আমি চকরিয়া-পেকুয়ার পাশাপাশি পুরো কক্সবাজারের অনেক উন্নয়ন করেছি। সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি এখনো।চকরিয়া-পেকুয়ার পাশাপাশি পুরো দেশকে জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বলীয়ান করে একটি সুন্দর অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করছি। দেশের তরুণ প্রজন্ম আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বদলে দেবে আগামীর বাংলাদেশ।
কক্সবাজার-২ মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দ্বীপ নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্রবন্দর, ধলঘাটা অর্থনৈতিক অঞ্চল, কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, এসপিএম প্রকল্প, সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া দ্বীপের মতো প্রাকৃতিক সুন্দর দ্বীপ এবং বিশাল বঙ্গোপসাগর। ফলে এদিকে দৃষ্টি রয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর।এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক দ২বারের এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ। জামায়াতের হয়ে লড়ছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হকও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
আসনটিতে বিএনপি ৩বার বিজয়ী হয়েছে। ২০০৮ সালে একবার জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হলেও সেটা ছিল বিএনপির সঙ্গে জোটগত নির্বাচন। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনটি বিএনপির আসন হিসেবেই পরিচিত। তবে এবার দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই জমবে সমানে সমান।
কক্সবাজার-৩ কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জামায়াতে ইসলামীর শহিদুল আলম বাহাদুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাদ্দিস আমিরুল ইসলাম। তবে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে লুৎফর রহমান কাজল ছাড়া অন্যরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারবে না বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা।এ আসনের ভোটার আবুল কাসেম বলেন, কক্সবাজারে অনেক উন্নয়ন প্রয়োজন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ যারা করতে পারবে, আমরা সেরকম প্রার্থীকেই বিজয়ী করতে চাই।এ ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা পুরোদমে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জয়ের মুকুট নিজের ঘরে তুলতে।বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, এ আসনটি বিএনপির আসন হিসেবেই পরিচিত। প্রচার শুরুর আগে থেকেই মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মাঝে ভোট দেওয়ার একটি স্বপ্ন জাগ্রত হয়েছে। আমরা মানুষের সেই অধিকারটা নিশ্চিত করতে চাই। বিএনপি গণমানুষের দল, গণমানুষই বিএনপিকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।
কক্সবাজার-৪ উখিয়া-টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে এবার বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক হুইপ ও সাংসদ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতিও। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী। ভোটের মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা নুরুল হকও।প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন এনডিএম'র প্রার্থী এডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ,তবে ভোটের মাঠে নেই।
বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহর সমর্থকরা টেকনাফে মশাল মিছিল ও কাফনের কাপড় পরে মিছিল করেছিল। পরবর্তী সময়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের পক্ষে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। এর পরই দৃশ্যপট বদলে যায়। বর্তমানে ভোটের মাঠে অভিজ্ঞ শাহজাহান চৌধুরীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা।বিএনপি প্রার্থী শাজাহান চৌধুরী বলেন, মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। মানুষ যে বিএনপিকে ভালোবাসে তা আবারও প্রমাণ করবে ধানের শীষকে এই আসনে বিজয়ী করে।তবে এ আসনে জামায়াত প্রার্থীও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। ৫ আগষ্ট পরবর্তী উখিয়া-টেকনাফে বিএনপি'র নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকেই নানা অপকর্মে জড়ান,সে ইস্যু নিয়ে সাধারণ ভোটারদের একটা অংশ জামায়াতের প্রার্থী'র দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন,এমন আশা করে জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ কিছু ভোটার।তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা কার-কার গলে তা দেখতে ১২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।ভোটের মোড় ঘুরেও যেতে পারে।এ ক্ষেত্রে ৩টি আসনে বিএনপি প্রার্থী নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন।আসন ৩টি হলো,চকরিয়া-পেকুয়া,কক্সবাজার সদর,রামু ও ঈদগাঁও এবং উখিয়া-টেকনাফ।অপর আসন দ্ধীপ উপজেলা মহেশখালী-কুতুবদিয়া বিএনপি এবং জামায়াত প্রার্থী'র মধ্যে তুমুল প্রতিদন্ধিতা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত