এম.জে.এ মামুন:
কাজ, মজুরি, জমি ও ইনসাফের দাবি’ সামনে রেখে কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি উপজেলা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে গ্রামীণ শ্রমজীবী ও ক্ষেতমজুরদের ন্যায্য মজুরি, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকার একটি স্থানীয় হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে লিল মিয়াকে সভাপতি ও রোবেল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি দেবীদ্বার উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহসভাপতি তজুমদ্দিন মিয়া ও ফাতেমা বেগম, সহসাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ কামাল এবং সদস্য নাছিমা, কামাল উদ্দিন, বাদল মিয়া, মালু মিয়া, আব্দুল গফুর, নাছিমা বেগম ও নাজির মিয়া।
তজুমদ্দিন মিয়ার সভাপতিত্বে এবং মালু মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি পরেশ কর।
এ সময় আলোচনায় অংশ নেন ক্ষেতমজুর নেতা জালাল উদ্দিন, আব্দুল গফুর ও নাছিমা আক্তার।
সম্মেলনে সংহতি জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিপিবি কুমিল্লা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, সিপিবি জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড সুধাংশু কুমার নন্দী, ‘নিজেরা করি’ সংস্থার বিভাগীয় সংগঠক আব্দুল জব্বার, কৃষক সমিতির জেলা নেতা আব্দুল ওয়াদুদ এবং ছাত্র ইউনিয়ন কুমিল্লা জেলা সভাপতি দীপ্ত দেবনাথসহ অন্যরা।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ চরম সংকটে রয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের ক্ষেতমজুরদের আয় ও মজুরি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাড়ছে না। ফলে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাপন দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
তারা সারাদেশে সরকারি রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য ৫ টাকা দরে আটা ও লবণ, ৩০ টাকা দরে তেল ও ডাল এবং ১৫ টাকা দরে চিনি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা গ্রামীণ অঞ্চলের শ্রমজীবী ও ক্ষেতমজুরদের ন্যায্য মজুরি, কাজের নিশ্চয়তা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি পরেশ কর বলেন, ‘আমাদের লড়াই অত্যন্ত পরিষ্কার। আমাদের লড়াই কাজ, মজুরি, জমি, অধিকার এবং ইনসাফের লড়াই।’
তিনি বলেন, দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, ক্ষেতমজুর ও শ্রমজীবী সমাজ আজ অবহেলিত। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তার তুলনায় গ্রামীণ মেহনতি মানুষের আয় বাড়ছে না। এতে দরিদ্র মানুষের জীবন আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে।
তিনি এরও বলেন, ‘অনতিবিলম্বে সারাদেশে সরকারি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। দেশের দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য ৫ টাকা দরে আটা ও লবণ, ৩০ টাকা দরে তেল ও ডাল এবং ১৫ টাকা দরে চিনি নিশ্চিত করতে হবে। এটি কোনো দয়া নয়, এটি মেহনতি মানুষের অধিকার।’
সম্মেলন থেকে ক্ষেতমজুরদের ন্যায্য মজুরি, কাজের সুযোগ, জমি ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
প্রধান কার্যালয়: ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, পল্টন মডেল থানা, ঢাকা-১০০০।
হটলাইন: 09643-230220, মুঠোফোন: 01915-708187, মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@Copyright & reserved by NAGORIK BHABNA