
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ২:৫৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১১:৩২ এ.এম
নওগাঁয় একুশে পরিষদের বইমেলায় নাটক ‘গন্তব্য কোথায়?’মঞ্চস্থ

মিলন চন্দ্র দেবনাথ,নওগাঁ: নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বাতিঘর ‘একুশে পরিষদ নওগাঁ’ আয়োজিত অমর একুশে ও স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ বইমেলার সমাপনী রজনী এক অনন্য সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নিয়েছিল। গত মঙ্গলবার ( ৩১শে মার্চ ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ) রাতে মেলা প্রাঙ্গণে নওগাঁ থিয়েটারের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় দর্শক-নন্দিত নাটক ‘গন্তব্য কোথায়?’। সমাজের বাস্তব চিত্র ও মানবিক টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত এই নাটকটি উপস্থিত শত শত দর্শকের হৃদয় জয় করে নেয়।জীবনমুখী কাহিনী ও নিপুণ নির্দেশনা: অজয় সরকারের রচনায় এবং মো. খাদেমুল ইসলামের বলিষ্ঠ নির্দেশনায় নাটকটি বর্তমান সময়ের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হিসেবে ফুটে ওঠে। মঞ্চায়ন শুরুর পর থেকেই দর্শকদের পিনপতন নীরবতা প্রমাণ করে এর কাহিনী ও অভিনয় শৈলী কতটা হৃদয়স্পর্শী ছিল। মাত্র ৫-৬ দিনের সংক্ষিপ্ত প্রস্তুতি সত্ত্বেও প্রতিকূলতা জয় করে নওগাঁ থিয়েটার যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা নাট্যাঙ্গনে এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মঞ্চে কুশলী অভিনয়:
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অত্যন্ত সাবলীল অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন মো. গোলাম রসুল সাকলায়েন (মাস্টার), মো. রাশেদ জাহান সাবু (পরেশ), মো. দুলাল হোসেন (গায়না), লিজা সুলতান (টুলি), তুলি দাস (মাথিয়া) এবং এ.কে.এম. ফজলে মাহমুদ চাঁদ (ছামু)। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন মো. সামসুজ্জোহা সাগর, সুজিত দাস, মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, মো. আব্দুল বারী জুয়েল, দুর্জয় সরকার, সুব্রত সরকার ও আতোয়ার রহমান। নেপথ্যের কারিগর ও আবহ
নাটকটিকে শৈল্পিক পূর্ণতা দিতে কারিগরি সহযোগিতায় ছিলেন মো. আব্দুল মতিন। অধ্যক্ষ মো. সিদ্দিকুর রহমানের চমৎকার আবহ সংগীত ও আলোক নির্দেশনা নাটকটিকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যায়। এছাড়া মঞ্চসজ্জা ও রূপসজ্জায় লিজা সুলতানের নিপুণ ছোঁয়া দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। পুরো আয়োজনে বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করে ‘অন্বেষা নিশান ক্লাব, পার-নওগাঁ’। বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া:
নাটক শেষে একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি ডি. এম. আব্দুল বারী বলেন, "তথ্যসমৃদ্ধ ও বাস্তবধর্মী এই নাটকটি মেলার পূর্ণতা দিয়েছে। খাদেমুল ইসলাম খাদেম ভাইয়ের একান্ত প্রচেষ্টায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ে এটি মঞ্চস্থ করা সম্ভব হয়েছে। নাটকবিহীন মেলা অনেকটা অপূর্ণ থেকে যেত।" নৃত্য রং একাডেমির পরিচালক ডি এম লিজা সুলতান এই আয়োজনের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, নাট্যকার অজয় সরকার তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "নওগাঁর নাট্যচর্চার যে সোনালী ঐতিহ্য মমিনুল হক ভূটি, বাচ্চু চৌধুরী বা খলিলুর রহমানরা গড়ে তুলেছিলেন, তা আজও রেজা খান, রঘু সাহা কিংবা যোবায়ের হোসেন খাজাদের হাত ধরে বেঁচে আছে। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও খাদেম ভাইয়ের আন্তরিকতায় আমরা দর্শকদের সামনে কিছু বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নওগাঁ থিয়েটার সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।" সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রত্যাশা: উপস্থিত সুধীজন ও দর্শকরা জানান, শিল্প ও সংস্কৃতির শহর নওগাঁয় এ ধরনের সুস্থ ধারার নাটক চর্চা বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বইমেলা মঞ্চে এমন হৃদয়স্পর্শী নাট্যানুষ্ঠান আগামীতে নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত