
রাসেল রানা, রংপুর: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুলবিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।
এরই অংশ হিসেবে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রংপুর জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পেলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারতেন। তবে মাত্র ২২ বছরের সৃজনশীল জীবনে তিনি যে বিপুল সাহিত্য ও সংগীতের সৃষ্টি রেখে গেছেন, তা আজও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, জাতীয় জীবন, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত প্রেরণার উৎস। ব্যক্তিগত জীবনে নানা দুঃখ-কষ্ট ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি তাঁর সৃষ্টিশীলতা অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিভার বিকাশ কীভাবে সম্ভব—নজরুলের জীবন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আমাদের মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সুন্দর জীবন গঠনের অনুপ্রেরণা দেয়। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সৃষ্টি ও আদর্শ পৌঁছে দেওয়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ হামিদুল হক বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও আদর্শ তুলে ধরতেই ‘নজরুল বর্ষ’ পালন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী এখনো নজরুলের জীবন ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখে না। শিক্ষার্থীদের নজরুলচর্চায় আরও সম্পৃক্ত করতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত, গজল, হামদ-নাত, অভিনয় ও চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মাত্র ২২ বছরের সৃজনশীল জীবনে নজরুল কবিতা, গান, গজল, ইসলামি সংগীত ও শ্যামাসংগীতসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁর সৃষ্টিকর্ম বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ।
অনুষ্ঠানে নজরুলকে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসা এবং জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতির ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, ১৯৭২ সালের ৫ মে নজরুলকে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জাতীয় কবি হিসেবে তাঁর স্বীকৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত ‘নজরুল বর্ষ’ পালন করা হচ্ছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নজরুলের সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি তাঁর মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সাম্যের চেতনা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।
রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী, রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম
রংপুর বিভাগীয় লেখক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী মো. জুননুন, রংপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রফেসর মোঃ মোতাহার হোসেন এবং জেলা কালচারাল অফিসার কে.এম. আরিফউজ্জামান।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান কার্যালয়: ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, পল্টন মডেল থানা, ঢাকা-১০০০।
হটলাইন: 09643-230220, মুঠোফোন: 01915-708187, মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@Copyright & reserved by NAGORIK BHABNA