
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১, ২০২৬, ১০:৫৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১, ২০২৬, ৮:০০ পি.এম
নাঙ্গলকোটে নির্দেশনা না মেনে চলছে এসএসসি পরীক্ষা, বিপাকে পরীক্ষার্থীরা

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের পরীক্ষা কেন্দ্রে। নির্দেশনা অমান্যের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের কাকৈরতলা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে। এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন থেকে ওই কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার নাঙ্গলকোট উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সোলাইমান নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে তার মনগড়া মতে চালাচ্ছে পরীক্ষা কেন্দ্র। ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ছিলো কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের স্কুল শিক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে কয়েকটি গণিতের প্রশ্ন থাকায় শিক্ষার্থীরা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী যে আট ধরনের ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যায় অনুমোদিত সেই ক্যালকুলেটর নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে বাধা দেয় ট্যাগ অফিসার মোহাম্মদ সোলাইমান। এব্যাপারে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে বাকবিতন্ডা হয় ওই কর্মকর্তার। পরে উপস্থিত শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেন। তাৎক্ষণিক ভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অনুমোদিত ৮ধরনের ক্যালকুলেটর নিয়ে যেতে পারার বিষয়ে ট্যাগ অফিসারকে অবহিত করার পরও আনাড়ি ট্যাগ অফিসার মোহাম্মদ সোলাইমান তার সিদ্ধান্তে অটুট থেকে নিতে দেয়নি ক্যালকুলেটর। ফলে আইসিটি পরীক্ষায় গণিত সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি অনেক শিক্ষার্থী। এছাড়া, পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত (নন–প্রোগ্রামেবল) হাতঘড়ি ব্যবহার করার অনুমতি থাকলেও ওই ট্যাগ অফিসার নিজ ইচ্ছা মতে কোন ধরণের ঘড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে দেননি শিক্ষার্থীদের। এদিকে পরীক্ষা কক্ষে মোবাইল ফোনে কথা বলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্টের অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য নাঙ্গলকোট উপজেলা'র ১৬টি কেন্দ্রে চলছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। চলতি বছর নাঙ্গলকোট উপজেলার ১৬টি কেন্দ্রে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধিনে মোট ৩ হাজার ৯০০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে এসএসসি ও এসএসসি ভোকেশনাল থেকে ২হাজার ৩৪৮জন ও মাদ্রাসা থেকে ১হাজার ৫৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী অভিভাবক পরিকোট গ্রামের এনাম মিয়া ও কাদবা গ্রামের শাহজাহান বলেন, প্রথম দিন থেকে ট্যাগ অফিসার অনিয়ম করে যাচ্ছে। তিনি কোন ধরণের ঘড়ি ও ক্যালকুলেটর নিয়ে হলে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীরা সময় বন্টন করে পরীক্ষা দিতে পারছে না এবং ক্যালকুলেটর না নিতে দেয়ায় গণিত সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুমোদিত ঘড়ি ও ক্যালকুলেটর নিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন কেন্দ্রে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ ও ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কাকৈরতলা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার ও নাঙ্গলকোট উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, আমি এ গুলো দেখিনা। আপনি আমার পরিচিত উপজেলায় অনেকবার দেখা হয়েছে, রবিবার কষ্ট করে অফিসে আসেন, কথা বলবো। কেন্দ্র সচিব ও কাকৈরতলা উচ্চ বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন দিলে তিনি নামাজে আছেন বলে ফোন বন্ধ করে দেন, এক ঘন্টাপর ফোন দিয়েও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, আমি অভিভাবকদের নিকট থেকে ফোনে অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক কেন্দ্র সচিব কে ফোন করি। পরে কেন্দ্র সচিবের ফোন থেকে ট্যাগ অফিসার আমার সাথে কথা বলেন। তিনি আমার কাছে জানতে চান এগুলো বৈধ কিনা, আমি বৈধ ৮টি ক্যালকুলেটর নিয়ে হলে প্রবেশ করতে পারবে তাকে অবহিত করার পর কেন তিনি নিতে দেননি এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। ট্যাগ অফিসারেই ভাল বলতে পারবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবহিত আছেন।
উপজেলা নির্বাহি অফিসার আবু রায়হান বলেন, সে বলেছে একটি কেলকুলেটর নিতে দেয়নি, যেটি অনুমোদিত নয়। তবে সাংবাদিকদের কাছে ছবি ভিডিও আছে বলার পর তিনি বলেন সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নিবো।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত