শেখ রিফান আহমেদ : একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। পরিবার থেকে কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে গণপরিবহন—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা যেন সম্মান, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে চলতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব।
নারীর প্রতি সহিংসতা, হয়রানি, বৈষম্য ও অসম্মান শুধু একজন ব্যক্তির সমস্যা নয়; এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর। অনেক সময় সামাজিক সংকোচ, ভয় কিংবা বিচার পাওয়ার জটিলতার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে পিছিয়ে যান। ফলে সমস্যার প্রকৃত চিত্রও অনেক ক্ষেত্রে সামনে আসে না।
নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনপরিসরে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন হয়রানি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ও সাইবার নিপীড়নের বিরুদ্ধেও সচেতনতা এবং কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তবে শুধু আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা দিয়ে নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পরিবার থেকেই শিশুদের নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা দিতে হবে। গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের প্রতিটি স্তরকে এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।
নারীর নিরাপত্তা মানে শুধু বিপদ থেকে সুরক্ষা নয়; বরং একজন নারী যেন নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারেন এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্মান পান—সেটিও নিরাপত্তা ও মর্যাদার অংশ।
একটি সমাজ তখনই সত্যিকার অর্থে উন্নত ও মানবিক হয়ে ওঠে, যখন সেখানে নারী ও পুরুষ উভয়েই নিরাপদ, সম্মানিত ও সমান সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন। তাই নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা কেবল রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়—এটি পরিবার, প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব।
-লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা
প্রধান কার্যালয়: ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, পল্টন মডেল থানা, ঢাকা-১০০০।
হটলাইন: 09643-230220, মুঠোফোন: 01915-708187, মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@Copyright & reserved by NAGORIK BHABNA