

প্রতি সপ্তাহে ভোরে ভারত থেকে অবৈধভাবে মানুষ পাচারের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা নালিতাবাড়ীর পোড়াগাঁও ইউনিয়নের ১০ নম্বর সীমান্ত মোড় দিয়ে নিয়মিতভাবে মানব পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি সপ্তাহে ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে এই সীমান্ত পথ দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে মানুষ পাচার হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই পাচার চক্রের মূল হোতা সাভারের এক বাইদা সম্প্রদায়ের ব্যক্তি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্র কাজ করছে, যাদের সঙ্গে নালিতাবাড়ী এলাকার কিছু মুখোশধারী প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার কিছু দালাল শ্রেণির লোকও জড়িত।
এই চক্রটি মূলত দরিদ্র ও অসহায় বাইদা সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের টার্গেট করে। বিদেশে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে, ভালো আয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে তারা সীমান্ত পার করিয়ে দেয়। একবার সীমান্ত পেরিয়ে গেলে তাদের গন্তব্য হয় ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে, যেখানে অনেকে জোরপূর্বক শ্রমে, এমনকি যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের শেষ প্রহরে সীমান্তের নির্জন রাস্তা দিয়ে ছোট ছোট দল একত্র হয়ে পারাপারের প্রস্তুতি নেয়। অনেক সময় স্থানীয় কিছু চক্র আগে থেকেই প্রহরায় থাকে, যাতে পুলিশের বা বিজিবির টহল এড়ানো যায়। এলাকার সাধারণ মানুষ বিষয়টি জানলেও, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পান না।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
“আমরা জানি কোন পথে, কারা মানুষ নিয়ে যায়। কিন্তু কিছু বললে বিপদে পড়তে হয়। ওরা অনেক বড় লোকদের সঙ্গে যুক্ত।”
স্থানীয়দের দাবি, এই মানব পাচার শুধু আইন ভঙ্গের ঘটনা নয়— এটি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্যও একটি বড় হুমকি। সীমান্ত এলাকায় এমন অপরাধ চলতে থাকলে মাদক, অস্ত্র এবং অন্যান্য অবৈধ বাণিজ্যও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেছেন,
“আমরা চাই দ্রুত অভিযান হোক। এই পাচারচক্রকে আইনের আওতায় আনা হোক। না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা বিষয়টি জানি, খোঁজখবর চলছে। প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এই ধরনের পাচার কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত সীমান্ত টহল, স্থানীয় গোয়েন্দা নজরদারি ও সচেতনতামূলক প্রচার প্রয়োজন।
মানব পাচার আজ একটি আন্তর্জাতিক অপরাধে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলোতে এ অপরাধ দীর্ঘদিন ধরেই নানা কৌশলে পরিচালিত হচ্ছে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হতে হবে— যাতে কেউ আর প্রলোভনে পা না দেয়।
এই অবৈধ মানব পাচার চক্র বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর ভূমিকা ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত