
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১২, ২০২৬, ৭:৩৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫, ৭:২২ পি.এম
নিখোঁজ নাটক সাজিয়ে স্বামীকে হত্যা, স্ত্রী-শ্যালকসহ গ্রেপ্তার-৪

কুমিল্লার দেবিদ্বারে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ নাটক সাজিয়ে করিম ভূঁইয়া (৪৫) নামের এক কৃষককে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে নিহতের স্ত্রী তাসলিমা বেগম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস।
তিনি জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাসলিমা বেগম বলেন—তার স্বামী করিম ভূঁইয়া মাদক সেবন করতেন এবং প্রায় সময় স্ত্রী ও মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে তিনি ভাইদের জানান। পরে ১৩ আগস্ট করিম ভূঁইয়া শ্বশুরবাড়িতে গেলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাসলিমার ভাই মোজাম্মেল লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে করিম ভূঁইয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরপর লাশ প্রথমে খালে ফেলে রাখা হয় এবং পরদিন হাত-পা বেঁধে নির্মাণাধীন সেফটি ট্যাঙ্কিতে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে ৩৫ দিন পর, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গাবুদ্দি সরকার বাড়ির পাশে একটি সেফটি ট্যাঙ্কি থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় করিম ভূঁইয়ার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত করিম ভূঁইয়া উপজেলার বড়শালঘর মন্ত্রীপুল সংলগ্ন ভূঁইয়া বাড়ির মৃত কাসেম ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আমির হোসেন জানান, ১৩ আগস্ট করিম ভূঁইয়া নিখোঁজ হওয়ার পর ১৬ আগস্ট দেবিদ্বার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৮৩৪) করেন তিনি। স্বজনরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, নিজ এলাকা এবং আখাউড়ার কেল্লা শাহ মাজার এলাকায় মাইকিং ও পোস্টারিং করেও কোনো খোঁজ পাননি। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে করিম ভূঁইয়ার শ্বশুরবাড়ির এলাকা খুঁজতে বললে বিষয়টি থানায় জানানো হয়। পরদিন পুলিশ শ্বশুরবাড়ির পাশের ট্যাঙ্কি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
আমির হোসেন অভিযোগ করেন, করিম ভূঁইয়ার স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই পারিবারিক কলহ চলত। এর আগেও নারী নির্যাতন মামলায় স্ত্রী তাকে জেলে পাঠিয়েছিলেন। পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী তাসলিমা আক্তার, তার দুই ভাই মোজাম্মেল হক ও ইশরাফিল মিলে করিম ভূঁইয়াকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ট্যাঙ্কিতে লুকিয়ে রাখে।
এ ঘটনায় তিনি দেবিদ্বার থানায় হত্যা মামলা (নং-১৩) দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ নিহতের স্ত্রী তাসলিমা বেগম, ইশরাফিল, মোজাম্মেল হক এবং গোলাম হাক্কানীকে গ্রেপ্তার করে। ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে পাঠালে তাসলিমা হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে অন্য আসামিদের এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারাও জবানবন্দি দেন।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত