
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২, ২০২৬, ১২:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৭, ২০২৫, ৩:১৫ পি.এম
পশ্চিম সুন্দরবনে অস্ত্রসহ ২ ‘বনদস্যু’ আটক

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গত ১৬জুন রাতে ২জন বনদস্যু আাটক হয়েছে। বনদস্যুরা যথাক্রমে-শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের মৃত নওশাদ গাজীর পুত্র নজির গাজী (৪৯), আশাশুনি উপজেলার চাকলা গ্রামের শফিকুল ইসলামের পুত্র দিদারুল ইসলাম (৩৮)-কে শ্যামনগর থানা পুলিশ আটক করেছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টা ও ১১টায় ২ দফায় উপকুলীয় মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের যতীন্দ্রনগর ও মরাগাং এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় আটক ২ বনদস্যুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ব্যবহৃত নৌকা থেকে একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবির মোল্যা।
ঘটনাস্থলের বাসিন্দা আবু হামজা, সিদ্দিক হোসেন ও আকবর আলীসহ অন্যান্যরা জানান,, সোমবার রাত ৮টার দিকে অপরিচিত ৫/৭ জন ব্যক্তি সুন্দরবন তীরবর্তী যতীন্দ্রনগর বাজারে যায়। এ সময় তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাস বা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের জন্য কথা বলছিল। এলাকাবাসীর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের নাম পরিচয়সহ সুন্দরবন এলাকায় আসার কারণ জানতে চাইলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় যতীন্দ্রনগর বাজারে উপস্থিত লোকজন ধাওয়া করে দিদারুলকে ধরে পুলিশে খবর দেয়। পরবর্তীতে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থলে নজিরকে আটকের পাশাপাশি তার দোয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই চক্রের ব্যবহৃত মাছ ধরার নৌকা থেকে বিশেষ ভাবে লুকিয়ে রাখা এটি একনালা বন্দুক, একটি দাও উদ্ধার করেন। লোকালয়ে উঠে আসার সময় স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে অপর কয়েক বনদস্যু ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, কুখ্যাত জোনাব বাহিনী এখন সুন্দরবনে খুব বেশি তৎপর নয়। এই সুযোগে ধৃত নজীর, তার ভাই নবাব ও ছেলে আব্দুর রহিম এবং মুন্সিগঞ্জ আটিরউপর এলাকার আছাদুলসহ কয়েকজনকে নিয়ে জোনাবের নামে নুতন দল গঠন করে সুন্দরবনে দস্যুতায় লিপ্ত। সোমবার রাতে নজীর আলীকে আটকের পরপরই তার ছেলে আব্দুর রহিম ও ভাই নবাব ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।
আটক নজীর আলীর ভাষ্য, তিনি সুন্দরবনের ত্রাস কুখ্যাত জোনাব বাহিনীর সদ্স্যদের লোকালয়ে উঠায়ে দেওয়া এবং সুন্দরবনে নামিয়ে দেয়ার কাজ করেন। সোমবার ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে জোনাব বাহিনীর দুই সদস্যকে যতীন্দ্রনগর বাজার পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। বনবিভাগের অনুমতি (পাশ) নিয়ে সুন্দরবনে যেয়ে মাছ শিকারের পাশাপাশি তারা পরিচিত জলদস্যুদের আনা-নেওয়ার কাজ করেন বলেও দাবি তার। উপরে উঠে যাওয়া দুই বনদস্যুর উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি তার নৌকার মধ্যে রেখে যায় বলেও সে দাবি করে।
ধৃত দিদারুল জানায়, সে নজীর আলীর শ্রমিক হিসেবে সুন্দরবনে যাওয়া জেলেদের জিম্মি করাসহ মুক্তিপণ আদায়ের কাজ করে। লোকালয়ে পৌঁছে দেওয়া ২ বনদস্যুকে সুন্দরবনের পুটেরদোনে এলাকা থেকে নিয়ে আসার কথাও সে নিশ্চিত করে। তবে তার কাছে মোবাইলের পাওয়ার ব্যাঙ্কসহ নানান সরঞ্জামাদির বিষয়ে জানতে চাইলে সে নিরুত্তর থাকে।
অস্ত্র উদ্ধারসহ দু’জনকে আটকের বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবির মোল্যা জানান, নজীরের দেওয়া তথ্যে নৌকায় থাকা ককসিটের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত