
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২, ২০২৬, ৯:৩৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৫, ২০২৫, ৫:০৭ পি.এম
পুলিশের হেফাজতে থাকা এসআই সুকান্ত এখন কোথায়!

এসআই সুকান্ত আটকের পর পুলিশি হেফাজতে থাকলেও গতকাল গভীর রাত থেকেই প্রশাসন নীরব এবং আটককৃত এসআই সুকান্ত কে খানজাহান আলী থানা ও কোর্টের কোথাও কোন হদিস না পাওয়ার কারণে আজ সকাল থেকেই খুলনার সাধারণ জনগণ তথা বিএনপি নেতাদের মনে বিভিন্ন প্রশ্নের দানা বেধেছে।
উল্লেখ্য ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ বাড়ির পৃষ্ঠপোষকতায় দাপটের সাথে গোটা সোনাডাঙ্গা থানা এলাকা জুড়ে হাম্বি তাম্বিকরে বিরোধীদল তথা বিএনপি'র নেতাকর্মীদের অকথ্য নির্যাতন এবং খুলনা এলাকার আওয়ামী লীগের হাইব্রিড নেতাদের এজেন্ডা হিসেবে তাদের সকল সুবিধা দিতে পারদর্শী এক বলিষ্ঠ এসআইর নাম সুকান্ত দাস তার দাপটে যেন বাঘে মহিষে জলখেত একঘাটে আর এসব কিছুর অন্তরালে ছিল খুলনার আওয়ামী লীগ পরিচালনার অন্যতম প্রভাবশালী হাসিনা পরিবারের ভ্রাতৃগণ আর সেই বলে শহরের নামিদামি কাউকেই থুরায় কেয়ার করত না। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে বিএনপি'র মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর সহ জুলাই গণআন্দোলনের সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতাদের উপর জুলুম নির্যাতনের। এক পর্যায়ে হাসিনা দেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিন আগে খুলনা থেকে ট্রান্সফার হয়ে চুয়াডাঙ্গা থানায় কর্মরত ছিলেন তারপর হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এসআই সুকান্ত এতদিন পর্যন্ত নিজেকে আত্মগোপনে রেখে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল পরে বিভিন্ন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হলে সে নিজেকে আরও গুটিয়ে রাখার চেষ্টা করে অবশেষে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী খুলনা ফুলবাড়ি ইস্টার্ন গেট এলাকায় বিএনপির একটি কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে পুলিশের এস আই সুকান্ত দাশ একটি থ্রি হুইলার গাড়িতে করে কোথা যাওয়ার চেষ্টা করছিল কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস অনুষ্ঠান চলার কারণে সেখানে গাড়িটি জ্যামে আটকে গেলে উপস্থিত কিছু জনগণ এস আই সুকান্ত কে দেখে চিনে ফেলে তারপরেই তার ভাগ্যে জোটে মারধর উত্তেজিত জনতা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে বিএনপি'র কয়েকজন ঊর্ধ্বতন নেতারা আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার লক্ষ্যে খান জাহান আলী থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
বিষয়টি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকালে। এ সময় পুলিশ সূত্রে জানা যায় এস আই সুকান্ত দাশের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। বিকালে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, এস আই সুকান্ত ওখান থেকে থ্রি হুইলার পরিবহনে করে যাচ্ছিলেন।
এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের কার্যক্রম চলছে। একই সময়ে খুলনা নগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৈমুর ইসলাম জানান, এস আই সুকান্ত বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানা ও সদর থানায় কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মনার বাড়ির ভাংচুর ও একটি জি আর মামলা রয়েছে। এছাড়াও আদালতে তার বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি মামলা রয়েছে। পরে রাতে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, তাকে দৌলতপর থানায় প্রেরন করা হয়েছে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাহার হোসেন জানান, তার থানায় এস আই সুকান্তকে আনা হয়নি। পরবর্তীতে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় যোগাযোগ করা হলে সেখানেও এস আই সুকান্তকে পাওয়া যায়নি। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুম জানান তার থানাতেও নেই সুকান্ত। নগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতৃা তৈমুর ইসলামও জানেন না এসআই সুকান্ত কোন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বা তিনি কোথায় আছে। এই বিষয়ে ডিসি নর্থ ও পুলিশ কমিশনারকে ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে কেএমপির এডিসি মিডিয়া খন্দকার হোসেন আহম্মেদ জানান, এস আই সুকান্তের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তবে সে এখন কোথায় আছে বা কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তা তিনি জানেন না বলে জানান। এ ঘটনায় নগরীর সচেতন মহলে নানা কথার গুঞ্জন উঠেছে। অনেকেই বলেন, মোটাংকের অর্থের বিনিময়ে এস আই সুকান্তকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। অথবা জনতার রোষানল থেকে বাঁচাতে পুলিশ গোপনীয়তার আশ্রয় নিতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত