
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ৬:৩৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৭, ২০২৫, ১২:২২ এ.এম
পলিথিন-প্লাস্টিক ব্যবহারে পরিবেশ বিপর্যয়, হুমকিতে সুন্দরবন

হাসান মামুন, দক্ষিণাঞ্চল প্রতিবেদক :: নদী দূষণ এখন বাংলাদেশে চরম আকার ধারণ করেছে। সর্বনাশা এই পলিথিন-প্লাস্টিক ব্যবহার পরিবেশের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে সাগরের তলদেশ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট পর্যন্ত পৃথিবীর সর্বত্র, এমনকি মেরু অঞ্চলেও প্লাস্টিক বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্লাস্টিক দূষণ শুধু একটি পরিবেশগত ইস্যু নয়, এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার লড়াই। আমাদের নদী-মাছ-উদ্ভিদ-পশুপাখি এবং মানুষ, সবার অস্তিত্বই আজ প্লাস্টিক ব্যবহারে হুমকির মুখে। ইতোমধ্যেই পৃথিবীর মাটি, পানি, বায়ূমন্ডল, বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য ও মানব স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এই প্লাস্টিক দূষণ। যত্রতত্র ময়লা বা বর্জ্য না ফেলার জন্য জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সরেজমিনে, প্লাস্টিক বর্জ্য দ্বারা নদী দূষণের হট স্পটগুলোর মধ্যে পিরোজপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রর বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। স্থানীয় ও পরিবেশ কর্মীদের বক্তব্য, বিশেষ করে বৃষ্টির সময় এসব ময়লা বৃষ্টির পানির সাথে মিশে আশেপাশের খাল, পুকুর ও ড্রেনের পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে এই অস্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবিধ্বংসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বারবার ব্যাবস্থার নেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব দেশে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা উচিত বলে মনে করেণ সচেতন নাগরিক। সুন্দরবন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রুপান্তর তাদের একাধীক কর্মসূচী ও সভায় জানায়, নানা কারনে সুন্দরবনের পানি ও মাটিতে দুষণ বাড়ছে। এছাড়াও আইনের সঠিক বাস্তবায়নের পাশাপাশি বন সংলগ্ন এলাকায় শিল্পকারখানা স্থাপন, বনের মধ্যে দিয়ে ভারী নৌযান চলাচল, বিষ দিয়ে মাছ শিকার, জীববৈচিত্রের ক্ষতি করে পশুর নদ খনন, অবাধে বন্যপ্রাণী শিকার, মিস্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, ভূমিক্ষয় ও ভাঙ্গনসহ এসব বিষয় গুলি নিয়ে জনগনকে সর্বোচ্চ সচেতনতার বিষয়গুলিও তুলে ধরা হয়। মানুষের নিক্ষিপ্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের দুষণেক্ষতি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরী উপর গুরুত্বআরোপ করে। আধুনিক বিশ্বে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে প্লাস্টিক দূষণ। বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করে যত দ্রুত সম্ভব দেশে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা উচিত বলে মনে করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা‘র পিরোজপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। জেলা শাখার কার্যলয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনে এ সভায় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দরা জানান, এ জেলা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ও ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যর সুন্দরবন সংলগ্ন। বলেশ্বর নদী ইতিমধ্যে অনেকটাই নাব্যতা হারিয়ে অস্থিত্ব-সংকটে রয়েছে। ইতিমধ্যে শহরের প্লাস্টিক বর্জ্য দ্বারা নদী দূষণের হট স্পটগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। অচিরেই সেগুলো অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। পলিথিনের ব্যাবহার যত সম্ভব দ্রুত কমিয়ে পাট যাত দ্রব্যাদি ব্যাগ ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করার প্রতি জোর দেওয়া প্রয়োজন। জলবায়ূ জনিত কারনে সুন্দরবনে দিন দিন পানির লবনাক্তার পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাথে বাড়তি পরিবেশ দূষন সুন্দরবনের অস্থিতকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে সকলে মিলে। “সুন্দরবন বাচলে বাংলাদেশ বাঁচবে” এ বিষয়টি বর্তমান প্রজম্মকে বার বার বুঝাতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সবুজ ও বাসযোগ্য দেশ রেখে যাওয়া আমাদেরই দায়িত্ব। আজকের পদক্ষেপই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। পলিথিনের ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে আসুন আমরা সবাই একটি পলিটিন-প্লাস্টিকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার করি। উল্লেখযোগ্যভাবে, সুন্দরবনের বাংলাদেশের অংশ অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা সুন্দরবনের নদীপথের সাথে সরাসরি সংযুক্ত। জোয়ার-ভাটার চক্রে এ জেলাগুলো এলাকার প্লাস্টিক, পলিথিন, কচুরিপানা এবং অন্যান্য আবর্জনা নদীর সঙ্গে ভেসে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে পৌঁছাচ্ছে। এর ফলে বনজ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে, ম্যানগ্রোভ বনের স্বাভাবিক ভারসাম্য এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মাছের প্রজনন, ডলফিনের চলাচল এবং বনাঞ্চলের পানির গুণমান ক্রমাগত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। স্থানীয় ও পরিবেশ কর্মীদের দাবি, ময়লা ও বজ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে দ্রæত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ময়লা অপসারণ ব্যবস্থা জোরদার করা হোক এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকান্ড বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানো হোক। পলিথিন ও প্লাস্টিক আধুনিক জীবনের বহুল ব্যবহৃত উপাদান হলেও, পরিবেশের জন্য তা ভয়াবহ ক্ষতির কারণ। পলিথিনের বহুল ব্যবহার ও অব্যবস্থাপনার ফলে মাটি, পানি এবং বায়ু দূষণের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বলেশ্বর নদী দূষনের শিকার হচ্ছে। নদীর নাব্যতা ব্যাপক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বলেশ^র নদী তার অস্থিত্ব হারিয়ে ফেলবে। যার বিরুপ পরিস্থিতির শিকার হবে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। স্থানীয়রা জানায়, পৌরসভা দির্ঘদিন ধরেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা যথাযথ ভাবে অপসারন না করার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বর্ষার মৌসুমে তা চরম আকার ধারণ করে। জনগনের ব্যাপক ভোগান্তির সম্মুখিন হতে হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য কিছু ড্রেনের ব্যবস্থা থাকলেও সঠিক ভাবে এর ব্যবহার হচ্ছে না বলেই একটু বৃষ্টি হলেই প্লাস্টিক বর্জ্যে রাস্তায় পানি জমে। আর এ দুর্গন্ধ কারনে অনেক সময় নাক চেপে হাঁটতে হয়। নগরবাসীর অসচেতন আচরণ এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিনিয়ত শহরের রাস্তা, অলিগলি, ড্রেন ও খালপাড়ের ময়লার স্তুপ জমছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার ফলে সামান্য বর্ষাতেই পানি উপচে রাস্তা ঘাট ও নিকটবতী ডোবা নালায় জমে থাকে। দীর্ঘ দিন জমে থাকা এসব পানিতে নানা রোগ ব্যাধির প্রকোপ দেখা দেয়। বিশেষ করে এসব এলাকায় সৃষ্টি হয় মশার প্রজনন ক্ষেত্র। গত বছর পিরোজপুরে ব্যপক ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ে। চলতি বছরেও ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সৃষ্টির আশংকা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা ও বজ্যের স্তুপ অপসারন না হওয়ার ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। সম্প্রতি খাল খনন ও সংস্কার এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষ ভীষণ ভাবে উপকৃত হচ্ছে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত