
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ৯:১২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১০, ২০২৫, ১২:৫৯ এ.এম
বাঘার দিঘা নূরানী মাদ্রাসার নামে সরকারী বরাদ্দ লোপাট

রাজশাহীর বাঘায় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারার মাধ্যমে করা হচ্ছে হরিলুট, এমন অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারী বরাদ্দকৃত অর্থ ও প্রকল্পের তালিকাসহ সব তথ্য সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও নিজ উপজেলায় প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এসব নির্দেশনা মানছেন না বাঘা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাহবুব ইসলাম। সে সঙ্গে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির খবর জেনেও রহস্যজনক কারণে নীরব প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কর্তারা।
বাঘা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, কাজ শুরু হওয়ার আগেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির নিকট বরাদ্দের অর্ধেক টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। দিঘা নূরানী মাদ্রাসার সীড়িঘর নির্মাণের জন্য ৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তার ৫০% টাকা পরিশোধ করা হয় প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ এর কাছে। পরে জানতে পারি ওই মাদ্রাসায় চলমান কাজ প্রতিষ্ঠানের কমিটির টাকা দিয়ে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কোন টাকা পায়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে টিআর প্রকল্পে ৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দিঘা নূরানী মাদ্রাসার নামে। প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য ২ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির কাছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, গায়েবি নাম উল্লেখ করে তৈরি করা হচ্ছে এসব প্রকল্প। আর এসব প্রকল্পের কাগজপত্রে প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকাসহ অন্যন্য সব প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ থাকলেও সরেজমিনে তা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ব্যাপার। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কেউ জানে না প্রকল্পের কাগজপত্রে সরকারী বরাদ্দ ৪ লক্ষ টাকার বিষয়ে। কারণ প্রতিষ্ঠান কমিটির বদলে এসব প্রকল্পের প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে কাজ করেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ। দিঘা নূরানী মাদ্রাসার প্রকল্পের কাগজপত্রে কমিটিতে নাম রয়েছে আঃআজিজ, আখের আলী, আকরাম আলী, হাবিবুর রহমান, শিরিনা খাতুন। বরাদ্দকৃত ৪০০০০০/ টাকার অনুমদনে মাহমুদুল ইসলাম উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা।
অভিযোগ উঠেছে, দিঘা নূরানী মাদ্রাসার নামে সরকারী টিআর প্রকল্প বরাদ্দ দিলেও প্রকল্পের সমন্বয়ক ও বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও দূর্নীতির ফলে ব্যাহত হচ্ছে সরকারের উদ্দেশ্য। ফলে কাগজপত্রে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও বাস্তবে টিআর প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ৭০ ভাগ অর্থ নয়ছয় করে আত্মসাৎ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন একাধিক ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং স্থানীয় এক প্রভাষক অভিযোগ করে বলেন, অতীতে এ প্রকল্পে ব্যাপক লুটপাট হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ফুলে ফেপে কোটিকোটি টাকার মালিক হচ্ছেন। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ইউপি সদস্য ও পিআইওদের হাতে চলে যাচ্ছে সরকারি বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা।
সম্প্রতি টিআর, কাবিখা, টাবিখা সহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সকল প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অনেকে মৌখিক অভিযোগ করেছেন উপজেলার প্রশাসকের কাছে।
অভিযোগ উঠেছে ,পিআইওদের সঙ্গে এসব প্রকল্পের সমন্বয় করে থাকেন স্থানীয় নেতা ও ইউএনও। ফলে প্রত্যেক উপজেলার সঙ্গে নির্দিষ্ট কমিশনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে নয়ছয় করা হচ্ছে প্রকল্পের টাকা। এতে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হলেও লাভবান হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এ কারণেই প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও আজ পর্যন্ত কোনো অনিয়মের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি বা কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
তবে প্রকল্পের সমন্বয়ক আব্দুল আজিজ বাউসা ইউপি সদস্য বলেন, দিঘা নূরানী মাদ্রাসার সিড়ি ঘর নির্মানের জন্য টিআর প্রকল্পের আমি সভাপতির দায়িত্বে রয়েছি। ৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ ইতিমধ্যে ২লক্ষ টাকা দিয়েছে প্রকল্প কর্মকর্তা। প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মাদ্রাসায় কাজ চলমান মাদ্রাসার টাকায়। প্রকল্পের টাকা সময় হলে দিবেন।
দিঘা নূরানী মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন ও সদস্যরা বলেন, সরকারি কোনো প্রকল্পের টাকা আমরা পাইনি। প্রতিষ্ঠানের টাকায় কাজ চলছে। তবে ইউএনও স্যার মাদ্রাসায় আসার পরে আমরা জানতে পারি সরকারি ৪ লক্ষ টাকার মধ্যে ২লক্ষ টাকা কে বা কারা তুলে নিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, প্রকল্পের এ বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখা হয়। তবে এ ধরনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত