

রাজশাহী বাঘা এবং চারঘাটে এ কই দিনে বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (০৮ ডিসেম্বর) ভোর পৌনে ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত চলে ছিনতাই। পৃথক ৪টি স্থানে করা হয় ছিনতাই।
ছিনতাইয়ের কবলে পড়া ব্যাক্তিরা হলো.উপজেলার পীরগাছা (বারোভাগিয়া) এলাকার মৃত খোস মোহাম্মদ আলীর ছেলে সবজি ব্যবসায়ী বাদশা আলী, আড়ানী পৌরসভার গোচর এলাকার মৃত: মজির প্রাঃ ছেলে সবজি ব্যবসায়ী হান্নান আলী, বাউসা ইউনিয়নের দিঘা এলাকার মরঘাটি নামক স্থানে এক এনজিও কর্মীর পথ রোধ করে একই কায়দায় ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়।
অপরদিকে চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের কালুহাটি কালিতলা গ্রামের সুমন শাহ এর স্ত্রী সাথী বেগম কে ছুরিকাঘাত করে ব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে যায় ছিনতাইকারী।
জানা যায়, সোমবার ভোরবেলা তেঁথিুলিয়া বাজারের সবজি বিক্রেতা বাদশা আলী বাইসাইকেল যোগে বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে রুব্বাসের বাড়ির সামনের মূল সড়কে একটি মোটরসাইকেলে দুই জন ব্যাক্তি পথরোধ করে। সে সময় ধারালো রাম*দা ও একটি পিস্তলের মুখে বাদশাহর পকেট থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন ও ২ হাজার ৪শত টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তারা দ্রুত তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে তেঁথুলিয়ার রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়।
তেঁথুলিয়া বাজারের সাপ্তাহিক হাট বার সোমবার ও শুক্রবার। এই বাজারের আরেক জন সবজি বিক্রেতা আড়ানী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের গোচর এলাকার মৃত: মজির প্রাঃ এর ছেলে সবজি ব্যবসায়ী হান্নান আলী। তিনি বলেন, আমি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে আড়ানী-তেঁথুলিয়া রোড়ে কড়ইতলা উচু সাকো পার হয়ে (চকবাউসা-রাজার মোড়) এলাকায় যেতেই মোটরসাইকেলে করে দুইজন লোক আমার পথরোধ করে। তাদের কাছে ধারালো রাম*দা ও চাইনিজ কুড়াল ছিলো। তাদের সারা শরীর পোষাকে ঢাকা ছিলো ফলে তাদের চিনতে পারি নাই। পরে তারা আমার পকেট থেকে দু'টি মোবাইল ফোন ১টি স্যামসাং বাটন ফোন ও নোকেয়া বাটন ফোন ও নগদ ১ হাজার ৪শ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে চলে যায়।
পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৯টার সময় তারা বাউসা ইউনিয়নের দিঘা মরঘাটি নমক স্থানে এক এনজিও কর্মীর পথ রোধ করে একই কায়দায় ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে।
অপরদিকে চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের কালুহাটি কালিতলা গ্রামের সুমন শাহ এর স্ত্রী সাথী বেগম নাটোরের প্রাণ কোম্পানিতে চাকরি করেন। সে প্রতিদিন কোম্পানির গাড়িতে করে যান ডিউটিতে। সোমবার ভোরবেলায় বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়ির কাছে কালুহাটি বাজারে যাওয়ার সময় মনি চৌকিদারের মোড়ে পৌছলে একটি মোটরসাইকেলে দুইজন ব্যাক্তি তার পথরোধ করে। এ সময় উভয়ের মাঝে বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার হাতের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারী। ছিনতাইকারীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয় সাথী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
সকল ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে তাদের বর্ণনা শুনে বোঝা যায়, প্রতিটি ছিনতাইয়ের সাথে ২ জন ব্যাক্তি ও কালো রঙের একটি মোটরসাইকেল এবং অস্ত্র একই।
সোমবার ভোরবেলায় এমন ছিনতাই জনমনে ব্যাপক আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী ও সুধীজনেরা বলেছেন সামনে নির্বাচন এমন ঘটনা চলতেই থাকবে এখনই প্রশাসন কে দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে এর মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলবে।
এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য শামীম আলী মন্ডল বলেন, আকষ্মিক এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে প্রশাসনের এখনই উচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল ইসলাম বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে এ বিষয়ে জানতে পেরে পুলিশ পাঠিয়েছি । বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় একদিকে আতঙ্ক অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগন। স্থানীয় এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী ও সুধীজনদের দাবী, জননিরাপত্তায় এখনই বাড়াতে হবে প্রশাসনের নজরদারি।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত