
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১:০৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৮, ২০২৬, ১১:৫৫ এ.এম
বাচ্চার চিকিৎসা করাতে নিখোঁজ প্রবাসীর স্ত্রী:তিনদিন পর হাসপাতালের লিফটে মিললো লাশ!

শ.ম.গফুর,কক্সবাজার: কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সন্তানকে চিকিৎসা করাতে এসে নিখোঁজ হওয়ার চার দিনের মাথায় লিফটের নিচ থেকে উখিয়ার এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম কোহিনূর আক্তার (৩০)। নিহত কোহিনূর উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা ও প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে এসে ওষুধ আনতে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন স্বজনরা তিনদিন ধরে হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে তিনদিন পর সদর হাসপাতালের লিফটের নিচে তার মরদেহ পাওয়া যায়।জানা যায়, জেলার চিকিৎসাসেবায় সর্বোচ্চ সরকারি প্রতিষ্ঠান আড়াইশত শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের লিফটের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় ৩দিন পুর্বে নিখোঁজ উখিয়ার কোহিনুরের মরদেহ শনিবার (৭ মার্চ) পাওয়া গেলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। যদিওবা ইতিপুর্বে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার পেয়েছিল সেই নারী পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন অথবা অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় পাওয়া গেলেও সেদিন বিকেল থেকে কোহিনুর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে পড়েন এবং তার সন্ধান পেতে সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।নিহতের স্বামীর ভাইয়ের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার চাচিকে ৩দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিলো না, নানাভাবে তাকে আমরা খুঁজছিলাম।র্যাব-পুলিশকে জানানো হয়েছিল, আজকে(শনিবার) হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ চেক করলে নিখোঁজের দিন তাকে ৪তলার লিফটে প্রবেশ করতে দেখা যায়, এরপর তিনি আর বের হননি।’ লিফটে দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কারণে তার মৃত্যু হলো কিনা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।এঘটনায় সরকারি হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেবাগ্রহীতারা বলছেন, ৪দিন ধরে একটা মানুষের মরদেহ লিফটের নিচে পড়েছিল আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানল না? এ ঘটনা চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব অবহেলার শামিল। চিকিৎসা নিতে আসা রামুর বাসিন্দা হোসেন বলেন, এ ঘটনার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। লিফটের ত্রুটি যাচাই ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত করলে এমন ঘটনার অবতারণা হতো না। সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এবিষয়ে জানতে চেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মং টিংঞো’কে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান,ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, এবিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে বিস্তারিত বলা যাবে। আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত