

দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈরিতা সম্প্রতি নতুন করে তীব্র হয়েছে। পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, তাদের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যা নির্দেশ করে যে ভারত আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সীমান্তে ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে। এই দাবিকে কেন্দ্র করে অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উত্তেজনার সূত্রপাত: পাহালগাম হামলা: ২২ এপ্রিল ২০২৫, ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পর্যটন কেন্দ্র পাহালগামে এক ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন হিন্দু তীর্থযাত্রী নিহত হন।
এই ঘটনায় ভারত পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দাবি করে, হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের ‘লস্কর-ই-তৈয়বা’ ও ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’ জড়িত।
পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি ও সতর্কতা : ২৯ এপ্রিল ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন: “ভারত থেকে একটি হামলা আসন্ন। আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য আছে যে তারা আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সীমান্তে আক্রমণ চালাতে পারে।” পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফও একই দাবি করেন। তিনি বলেন, “ভারতীয় অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা অত্যন্ত তীব্র। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।” পাক সেনাবাহিনীকে সীমান্তে রেড অ্যালার্ট অবস্থানে রাখা হয়েছে বলেও সরকারি সূত্রে জানা যায়।
ভারতের নীরবতা ও কৌশল: ভারত সরকার এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের এই দাবির বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাশ্মীর হামলার পরে দৃঢ় ভাষায় বলেন, “পাহালগামে যারা রক্তপাত ঘটিয়েছে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না। উপযুক্ত সময়েই উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা ‘ব্যালাকোট’ ধরনের অপারেশনের সম্ভাবনা বাতিল করা যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া : ভারত-পাকিস্তানের এমন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জাতিসংঘ উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই পক্ষকে উত্তেজনা না বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দিয়েছে।
বিশ্লেষণ: যুদ্ধ নাকি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল?
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের আগাম ঘোষণা হতে পারে একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ।
এটি একদিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল, আবার অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা। অন্যদিকে, ভারতের নীরবতা হতে পারে পরিকল্পিত প্রতিক্রিয়ার অংশ, যা পূর্বের অভিজ্ঞতার (২০১৬, ২০১৯) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আমার কিছু কথা আসন্ন যুদ্ধের সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে উত্তেজনা তীব্র। দুই দেশের সরকার, সেনাবাহিনী এবং কূটনৈতিক সংস্থাগুলোর প্রতিটি পদক্ষেপ এখন নিবিড় নজরদারির আওতায় রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া তথা গোটা বিশ্বের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— দুই দেশ যেন পরিস্থিতি বিবেচনায় সংযম ও কূটনৈতিক বিবেচনা বজায় রাখে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত