
২৮ মার্চ একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প পৃথিবীকে কাপিয়ে তুলেছে। মিয়ানমারের সাগাইং শহরে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৭.৭ রিখটার স্কেলে।
এ ভূমিকম্পের কম্পন শুধু মিয়ানমারেই নয়, বরং প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডেও অনুভূত হয়েছে। এই ভূমিকম্পটি সারা এশিয়ায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, যেখানে প্রচুর মানুষের ক্ষতি এবং বিপুল পরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। মিয়ানমারের সাগাইং শহরে ভূমিকম্পের পরপরই ভূ-উৎপন্ন ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হয় মানুষ। বিশেষত, মান্দালয়, নেপিদো, পিনমানা, অউংবান এবং ইনলে অঞ্চলে বিভিন্ন স্থাপনা ধসে পড়ে। একটি মসজিদ ভেঙে যাওয়ায় বহু মুসল্লি প্রাণ হারান।
এ ছাড়া, সাগাইং সেতু ধসে পড়ে এবং বেশ কিছু ভবন এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। ভূমিকম্পের কারণে মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এই ভূমিকম্পের প্রভাবে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও কম্পন অনুভূত হয়। ব্যাংকক শহরের চাতুচাক এলাকায় নির্মাণাধীন ৩০ তলা একটি ভবন ধসে পড়ে, যেখানে ৪৩ জন নির্মাণশ্রমিক আটকা পড়েছেন। এই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। থাইল্যান্ডের সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলছে। বাংলাদেশে, ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হলেও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কোনো বড় ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়, তবে তেমন কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেনি। বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডে বিপর্যস্ত এলাকাগুলোতে সাহায্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে, মিয়ানমারের ন্যাশনাল রিলিফ অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন অফিস উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে এবং ভূমিকম্পের পরবর্তী পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপত্তা এবং সহায়তা সংক্রান্ত কোনো প্রয়োজনে তারা জনগণকে সচেতন করেছে। বিশ্বের বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের পরবর্তী ফলাফল এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দিকে নজর রাখছেন, এবং এই ভূমিকম্পের কারণ ও তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের উপর গবেষণা করছেন। ইউএসজিএস (যুক্তরাষ্ট্র ভূতাত্ত্বিক জরিপ) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ভবিষ্যতে এমন ভূমিকম্পের পূর্বাভাস এবং প্রস্তুতির বিষয়ে গবেষণা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এখন পর্যন্ত, মিয়ানমারে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক, তবে ব্যাংকক এবং অন্যান্য প্রান্তিক অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডের জন্য সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং পৃথিবীজুড়ে দেশগুলো একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্বের সব দেশের প্রশাসন এবং জনগণকে সতর্ক থাকার এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরবর্তী সময়ে এমন বিপর্যয় মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকা যায়।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত