মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। একই দিনে সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথ গ্রহণ শেষে বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন মিজানুর রহমান মিনু।
দীর্ঘ ২০ বছর পর রাজশাহীর ভাগ্যে পূর্ণমন্ত্রী
এই নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘ দুই দশক পর রাজশাহীর কোনো সংসদ সদস্য পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলেন। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আমিনুল হক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ টানা চারবার ক্ষমতায় থাকলেও রাজশাহী জেলার ৬টি আসনের কোনো সংসদ সদস্যকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তবে এই সময় রাজশাহী থেকে একজন প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় ছিলেন। তিনি হলেন শাহরিয়ার আলম, যিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজশাহী-২ আসনে বড় ব্যবধানে জয়
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন মিজানুর রহমান মিনু। নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে ২৮ হাজার ১৭৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
সংসদীয় রাজনীতিতে এটি মিনুর দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মেয়র হিসেবে রাজশাহী পরিচালনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
সংসদীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় সরকার পরিচালনায় মিনুর রয়েছে সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। এরপর ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একটানা দীর্ঘ সময় তিনি নগর ভবনের দায়িত্বে ছিলেন।
রাজশাহীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নগর ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সবুজ নগরী গড়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্থানীয়দের বড় একটি অংশ। নগরবাসীর মধ্যে অনেকেই মনে করেন, রাজশাহীকে একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মিনুর অবদান অনস্বীকার্য।
ছাত্রদল থেকে উঠে এসে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে
ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা মিজানুর রহমান মিনু বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দীর্ঘ সময় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি দলীয় রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্বে ছিলেন।
এছাড়াও তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাজশাহীতে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ
ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজশাহীতে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা এটিকে রাজশাহীর জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। খবরটি পাওয়ার পরপরই রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আনন্দ মিছিল বের করা হয়।
এসময় নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং স্লোগানে স্লোগানে রাজশাহীর রাজপথ মুখরিত হয়ে ওঠে।
বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় বড় প্রত্যাশা
দলীয় নেতারা মনে করছেন, মিনুর দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং জনপ্রিয়তাকে মূল্যায়ন করেই তাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূমি সংক্রান্ত নানা সমস্যা দীর্ঘদিনের। জমির নামজারি, রেকর্ড সংশোধন, ভূমি দখল, খাস জমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি অফিসের সেবা সহজীকরণ—এ ধরনের বিষয়গুলোতে মিনুর ভূমিকা কার্যকর হবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে মিনু ভালোভাবে অবগত। তাই ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজশাহী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হওয়া শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি জেলার রাজনৈতিক গুরুত্বকেও নতুনভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে সরকারের সিদ্ধান্তে রাজশাহীর মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে—বিশেষ করে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দ্রুত সেবা এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমানোর বিষয়ে।