
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১২:৪৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৬, ২০২৬, ১২:৩৩ পি.এম
মনিরামপুরে আরিফ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর: যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর এলাকায় আলোচিত যুবক আরিফ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এ ঘটনার প্রধান আসামি নিহতের সৎ পিতা সোহেল মাহমুদ ও তার সহযোগী ফুয়াদ হোসেন সৌরভকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ মার্চ দিবাগত রাতে মনিরামপুর উপজেলার বালিধা গ্রামের বৈরাগী পাড়ার নিচে আনোয়ার ফকিরের মাছের ঘেরের পাশে আরিফ হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ ঘেরের পানিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা ঘেরের পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে মনিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহত আরিফের পিতা আতিয়ার রহমান বাদী হয়ে ৩ মার্চ মনিরামপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মনিরামপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে অভিযান চালায়।
তদন্তের এক পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ মার্চ দিবাগত রাতে পাশ্ববর্তী অভয়নগর উপজেলা এলাকা থেকে নিহতের সৎ পিতা সোহেল মাহমুদ (৩৫) ও তার সহযোগী ফুয়াদ হোসেন সৌরভ (২৫) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সোহেল মাহমুদ মনিরামপুর উপজেলার বালিধা গ্রামের বাসিন্দা এবং ফুয়াদ হোসেন সৌরভ একই এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি আনোয়ার ফকিরের মাছের ঘের থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাপাতি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধ ও অর্থ সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। প্রায় পাঁচ বছর আগে সোহেল মাহমুদ নিহত আরিফের মা সোনিয়া খাতুনকে নিয়ে চলে যায় এবং কিছুদিন একসঙ্গে থাকার পর তাকে বিদেশে পাঠায়। বর্তমানে সোনিয়া খাতুন বিদেশে অবস্থান করছেন। তবে পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং এক পর্যায়ে সোহেল মাহমুদ বিদেশে থাকা সোনিয়া খাতুনের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে তার ছেলে আরিফকে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই হুমকির জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আরিফকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
মনিরামপুর থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেফতারে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত